রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় একেএম রহমত উল্লাহ কলেজ কেন্দ্রে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের লাইন দীর্ঘ লাইন হতে থাকে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম ভোট দিয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রটিতে ভোটারের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়ার পেছনে গণভোট প্রক্রিয়া নিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্তিই প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক ভোটার ভোটকক্ষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছেন না।
কয়েকজন ভোটার জানান, নির্বাচনে গণভোট যুক্ত হওয়ায় ভোটকক্ষে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের অনেকে গণভোটের প্রক্রিয়া বুঝতে না পেরে সময় নিচ্ছেন। লাল মোহাম্মদ নামে একজন বলেন, তিনি প্রায় ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভোট দিতে কোনো সমস্যা হয় নাই, তবে সময় একটু বেশি লাগছে।’
আরেক ভোটার মো. উমেদ আলী জানান, তাঁর প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে ভোট দিতে। ‘অনেকেই গণভোট বুঝতে পারতেছে না। তাদের দেখাইতে কিছুটা সময় লাগতেছে’—বলেন তিনি।
শাপলা কলির পক্ষে কাজ করা জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘গণভোটের ব্যালটে অনেকেই নির্ধারিত টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়ার পরিবর্তে সিল মেরে দিচ্ছেন। এতে ব্যালট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা দিতে সময় ব্যয় হচ্ছে।’
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেরাইদ এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ৮টায় আইছি। সাড়ে ৯ টায়ও ভোট দিতে পারি নাই। কেন দেরি হইতেছে আমরা কি জানি।’
একটি কক্ষের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার আফরিনা আজাদ বলেন, ‘অনেককেই বুঝিয়ে দিতে দেরি হচ্ছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, এক ভোটার গণভোটের ব্যালট নিয়ে ভোটকক্ষের বাইরে এসে জিজ্ঞেস করছেন কীভাবে ভোট দিতে হবে এবং কীভাবে ব্যালট পেপার ভাঁজ করতে হবে। পরে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার তাঁকে প্রক্রিয়া বুঝিয়ে দেন। ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, গণভোটের বিষয়ে আগাম পর্যাপ্ত প্রচার ও নির্দেশনা থাকলে এ ধরনের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হতো।