দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভোলা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল ও তাঁর স্ত্রী ন্যাশনাল ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ প্রধান কর্মকর্তা জাহানারা ইয়াসমিনের আটটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আজ বুধবার এ নির্দেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ।
আজ সাবেক এমপি আলী আজম ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল। সংস্থাটির সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম আদালতে শুনানি করেন।
শুনানি শেষে আলী আজমের পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩১৫ টাকা ও জাহানারা ইয়াসমিনের তিনটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৫০ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৯ টাকা অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন আদালত।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, আলী আজম ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গত বছরের ৬ অক্টোবর দুদক মামলা করে। তদন্তকালে দুদক বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারে, আসামিরা তাঁদের ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ প্রয়োজন।
আলী আজমের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, তিনি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২ কোটি ৯২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩১ টাকা মূল্যের সম্পদ ভোগদখলে রেখেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজের ও প্রতিষ্ঠানের নামে পাঁচটি ব্যাংকের ৩৭টি হিসাবে ৫৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৮১ টাকার সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন।
জাহানারা ইয়াসমিনের মামলার অভিযোগে বলা হয়, তিনি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৬ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া ছয়টি ব্যাংকের ৩৯টি হিসাবে ৬৬ কোটি ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।
উভয়ের বিরুদ্ধে দুদক ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলাটি করা হয়।