হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

হাইকিংয়ে প্রেমের সূত্রে বেঁধে দিল এক সাপ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে ক্যানিয়নল্যান্ড ন্যাশনাল পার্কে মান্নি ও লরা। ছবি: সিএনএন

২০১৯ সালের এক বিকেল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়ি পথে হাইকিং শেষে দুই বন্ধুকে নিয়ে ফিরছিলেন ইমানুয়েল সালাস। তাঁর ডাকনাম মান্নি। তাঁরা গিয়েছিলেন সান গ্যাব্রিয়েল পর্বতমালার গভীরে অবস্থিত বিখ্যাত ট্রেইল—ব্রিজ টু নোহোয়ার। সেখান থেকেই ফেরার পথে তাঁরা হঠাৎ শুনলেন শরীরে শীতল স্রোত বয়ে দেওয়া সেই শব্দটি! এটা আর কিছু নয়, এক র‍্যাটলস্নেক!

সেই মুহূর্তটির কথা স্মরণ করে সিএনএন ট্রাভেলকে মান্নি বলেন, ‘শব্দটা আগে শুনলাম, তারপর সাপটাকে দেখলাম।’ ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল এক বিষধর র‍্যাটলস্নেক। সরু ট্রেইলের এক পাশে খাড়া ঢাল, অন্য পাশে ঘন ঝোপ। পাশ কাটিয়ে যাওয়ারও উপায় নেই। ভয় আর অনিশ্চয়তায় জমে গেলেন তিনজনই।

ঠিক সেই সময়ই পেছন থেকে এগিয়ে এলেন তিন তরুণী। তাঁদেরই একজন—লরা বাইন্ডার। সকালে ব্রিজের নিচে জলের কাছে দেখা হয়েছিল তাঁদের। লরা তখন পাথরের ওপর বসে ছবি তুলছিলেন, আর বন্ধুদের সঙ্গে হাসছিলেন। মান্নির মনে হয়েছিল, ‘মেয়েটা বেশ মিষ্টি।’ কিন্তু কথা হয়নি কোনো।

এবার কথা বলার কারণ তৈরি করল সাপটি। দুই দল এবার একসঙ্গে অনেক কসরত ভয়ভীতি দেখিয়ে সাপটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিল। তাঁরা সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন। সন্ধ্যাও নেমে আসছিল, তাই সিদ্ধান্ত হলো—বাকি পথ তাঁরা একসঙ্গেই হেঁটে ফিরবেন।

পথটাও ছিল দুজন পাশাপাশি হাঁটার মতো চওড়া। কাকতালীয়ভাবে মান্নি আর লরা পাশাপাশি পড়ে গেলেন। শুরু হলো আলাপ। লরার বাড়ি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। কিছুদিন আগেই ক্যালিফোর্নিয়ায় এসেছেন পড়াশোনার জন্য। নতুন শহরে নিজেকে খানিক একা লাগছিল। আর মান্নির জন্ম মেক্সিকোতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর বেড়ে ওঠা। দুজনেরই প্রিয় শখ—রক ক্লাইম্বিং।

হাইকিং শেষে পার্কিং লটে লরাই প্রথম মান্নির নম্বর চাইলেন। শুরুতে শুধু বন্ধুত্ব রক্ষাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। কিন্তু এই বন্ধুত্বের ভেতর অচেনা এক সুর বেজে উঠছিল।

কিছুদিন পর একসঙ্গে ক্লাইম্বিং, তারপর ডাউনটাউনের এক রেস্তোরাঁয় ম্যাক্সিকান খাবার। কথোপকথন ধীরে ধীরে গভীর হলো। কিন্তু লরার তখনো একজন বয়ফ্রেন্ড ছিলেন। এটি জেনে মান্নি সরে দাঁড়ালেন। তিনি বলেন, ‘আমি এমন কেউ হতে চাইনি, যে কারও সম্পর্কের মধ্যে ঢুকে পড়ে।’

তারপর এল ২০২০ সাল—মহামারির বছর। লরার সম্পর্ক ভেঙে গেল। লকডাউনে একাকিত্ব বাড়তে লাগল। একদিন সাহস করে তিনি মেসেজ পাঠালেন মান্নিকে। নতুন করে শুরু হলো কথা।

কিছুদিন পরই এল এক ছুটি। তাঁরা রওনা দিলেন ইয়োসেমিত ন্যাশনাল পার্কের পথে। এবার তাঁদের লক্ষ্য ছিল বিখ্যাত এল ক্যাপিটান প্রাচীরের চূড়ায় ওঠা। দীর্ঘ, কষ্টকর এক ট্রেইল। আট থেকে বারো ঘণ্টার হাঁটা। কিন্তু সেই পথেই তাঁরা একে অপরের কাছে খুলে বললেন জীবনের গভীরতম ভয়, স্বপ্ন আর সীমাবদ্ধতার কথা।

মান্নি জানালেন, তিনি এমন এক প্রোগ্রামের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন যে, দেশটি ছেড়ে যাওয়ার স্বাধীনতা সীমিত। লরার মতো বিশ্বভ্রমণ তাঁর পক্ষে সহজ নয়। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

লরা শুনলেন। তারপর বললেন, ‘যেখানে ইচ্ছা, সেখানেই তৈরি হয় পথ।’

সেদিন উঁচু একটি স্থানে পৌঁছে পূর্ণিমার আলোয় তাঁরা খানিক দাঁড়িয়ে রইলেন। নিচে নদী, সামনে বিশাল গ্রানাইট প্রাচীর। তারপর হঠাৎ যেন দুজনেই বলে উঠলেন, ‘চলো, পাগলামি করি।’ তাঁরা নদীতে ঝাঁপ দিলেন—জীবনের প্রথম ‘স্কিনি ডিপিং’। সেই মুহূর্তেই দুজন বুঝলেন, এটি কেবল বন্ধুত্ব নয়।

এরপরের দিনগুলো সহজ ছিল না। দুটি ভিন্ন দেশের নর-নারীর সাংস্কৃতিক পার্থক্য, পরিবার-পরিজনের দূরত্ব, অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে বড় এক চ্যালেঞ্জ ছিল। তবু সম্পর্কটি হয়ে উঠল তাঁদের আশ্রয়।

মান্নির স্বপ্ন এখন লন্ডন বা প্যারিস নয়—একদিন ভিয়েনায় গিয়ে লরার শৈশবের শহর দেখা। তাঁরা ঠিক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩টি ন্যাশনাল পার্ক ঘুরে দেখবেন। প্রতি বছর অন্তত একটি বড় ব্যাকপ্যাকিং ট্রিপ। পাহাড়ে উঠতে উঠতে তাঁরা এখনো গভীর আলাপে ডুবে যান, মজে যান প্রেমে।

তবু ব্রিজ টু নোহোয়ারে আর ফেরা হয়নি তাঁদের। মান্নি হেসে বলেন, ‘সেই সাপটার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আবার দেখা হলে একটু দূরেই থাকব!’

সন্ধ্যা নামার মুখে আগুন ঝরে এক ঝরনায়

পর্যটনে মন দিয়েছেন পাকিস্তানের মেয়েরা

রমজান মাসে ভ্রমণের পরিকল্পনায় যা রাখতে হবে

সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর এখন ‘লাভ কানেকশন’

খেলার শহর হতে চলেছে কিদ্দিয়া সিটি

কম খরচে বিমান ভ্রমণের কৌশল

চন্দ্রমল্লিকার বাগান থেকে ভাইরাল সড়কে

৮২ বছর বয়সে বিশ্বভ্রমণে দু লং

ভ্রমণপ্রেমী সাত বন্ধুর সংগঠন বেটুস

জনপ্রিয় ৫ ট্রাভেল ফিল্ম