‘ছবির মতো সুন্দর’—কথাটা কুরাসাও দ্বীপের জন্য একেবারে ‘পারফেক্ট’। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার পা রাখা কুরাসাও আসলেই এক অপরূপ দ্বীপ। জনসংখ্যার বিচারে ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে দেশটি। দেশটির জনসংখ্যা দেড় লাখের কিছু বেশি। আয়তন মাত্র ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার। স্প্যানিশ, ডাচ ও ব্রিটিশ শাসনে থাকার ফলে এক ‘মায়াবী মিশ্রণ’ আছে এ দেশে।
দেশটির রাজধানী উইলেমস্টাড সেন্ট আনা বের মাধ্যমে দুই ভাগে বিভক্ত। একটি পুন্ডা এবং অন্যটি ওত্রোবান্দা। পুন্ডার ডাচ উপনিবেশ আমলের উজ্জ্বল রঙিন ভবনগুলো ছবির মতো সুন্দর। অন্যদিকে ওত্রোবান্দা বিখ্যাত তার চমৎকার সব স্ট্রিট আর্ট, বুটিক হোটেল এবং ঐতিহাসিক কুরা হুলান্দা কোয়ার্টারের জন্য। এই দুই অংশকে যুক্ত করেছে ভাসমান কুইন এমা ব্রিজ এবং ক্যারিবিয়ানের সবচেয়ে উঁচু কুইন জুলিয়ানা ব্রিজ।
কুরাসাওয়ের দক্ষিণ উপকূলে রয়েছে দারুণ সব কেভ ও চুনাপাথরের পাহাড়ঘেরা সৈকত। গ্রোতে নিপ এবং ক্যাস আবাহুর মতো সৈকত যেমন সুন্দর, তেমনি প্লেয়া পিসকাডোতে দেখা মেলে সামুদ্রিক কচ্ছপের। এখানকার মূল আকর্ষণ শোর ডাইভিং। নৌকা ছাড়াই সৈকত থেকে সরাসরি নেমে যাওয়া যায় সমান্তরাল রিফে। মাশরুম ফরেস্টের কোরাল কিংবা ১৯৭৭ সালে ডুবে যাওয়া সুপিরিয়র প্রডিউসার জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ডাইভারদের অন্যতম প্রিয় জায়গা।
শান্ত দক্ষিণের ঠিক বিপরীত রূপ দেখা যায় শেতে বোকা ন্যাশনাল পার্কে। এখানকার বোকো পিস্তল ও বোকো তাবলা গুহায় আছড়ে পড়া ঢেউয়ের গর্জন রোমাঞ্চকর। তা ছাড়া এ অংশে ১ হাজার ৫০০ বছরের প্রাচীন দেয়ালচিত্র ও বাদুড়ের কলোনি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হেটো কেভস।
১৬৩৫ সালে এ দ্বীপে তৈরি ফোর্ট আমস্টারডাম আজও জলদস্যুদের আক্রমণের ইতিহাস বহন করছে। দ্বীপটির বড় পরিচিতি এর ব্লু কুরাসাও লিকারের জন্য। এটি তৈরি হয় স্প্যানিশদের আনা লারাহা কমলার খোসা থেকে। ১৯ শতকের ম্যানশন ল্যান্ডহুইস চোবোলোবোতে গেলে এই লিকার তৈরির প্রক্রিয়া দেখা যায়।
এখানকার মানুষ পাপিয়ামেন্তু ভাষায় কথা বলে। এখানকার প্লাসা বিউ বা ওল্ড মার্কেটে মিলবে ঐতিহ্যবাহী ক্রাইওলো খাবার, যেমন ছাগলের মাংসের স্ট্যু কাব্রিতু স্তোবা কিংবা ইগুয়ানার স্ট্যু। সব শেষে কুইন উইলহেলমিনা পার্কের ডিইউএসআইচআই সাইনের পাশে ছবি না তুললে কুরাসাও ভ্রমণ অপূর্ণই থেকে যায়।
জনসংখ্যার বিচারে ক্ষুদ্রতম দেশ কুরাসাও। দেড় লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার এই দেশ ফুটবলে এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়েছে। জ্যামাইকা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মতো শক্তিশালী দলকে টপকে তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।
সূত্র: ট্রিপ অ্যাডভাইজার, ইউএনএইচসিআর