ভ্রমণের জগৎ বড়ই বিচিত্র। এ জগতের কেউ পছন্দ করেন পাহাড় তো কেউ সাগর। কেউ জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোয় ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। আবার কেউ ভালোবাসেন একেবারে অপরিচিত নীরব কোনো জায়গায় গিয়ে চুপচাপ বসে থাকতে। দিন দিন বিভিন্ন দেশের এ রকম অসংখ্য অচেনা জায়গা পরিচিত হয়ে উঠছে পর্যটকদের কাছে।
চেনা পৃথিবীর বাইরে অর্থাৎ জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর বাইরেও বিভিন্ন দেশে এমন কিছু গোপন ও শান্ত দ্বীপ ছড়িয়ে আছে, যেগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় নেই। তার মানে এই নয় যে জায়গাগুলো সুন্দর নয়। বরং সেসব জায়গার সৌন্দর্য যেকোনো বিখ্যাত জায়গাকে হার মানাতে পারে। সম্প্রতি ভ্রমণ-বিষয়ক অনলাইন ম্যাগাজিন ‘ট্রাভেল+লিজার’ বিশ্বের এমনই ৩০টি দ্বীপের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেগুলো জনপ্রিয় গন্তব্যের তালিকায় না থাকলেও অসাধারণ। এই তালিকায় এশিয়ার ৫টি দেশের ৫টি দ্বীপ জায়গা করে নিয়েছে। পকেট-ফ্রেন্ডলি ব্যাক প্যাকিং থেকে শুরু করে বিলাসবহুল অবকাশ—সবকিছুরই স্বাদ মিলবে এশিয়ার এই গোপন স্বর্গগুলোতে।
ভিয়েতনাম যে এখন একটি জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, সেটা বলাই বাহুল্য। পর্যটন জগতের জনপ্রিয় এ দেশটির একটি দ্বীপ জায়গা করে নিয়েছে ‘সিক্রেট আইল্যান্ড’ এর তালিকায়।
যাঁরা একদম নিরিবিলি ও প্রকৃতির আদিম রূপ পছন্দ করেন, তাঁদের আসল গন্তব্য কোন দাও। এটি ভিয়েতনামের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। হো চি মিন সিটি থেকে মাত্র এক ঘণ্টার বিমানযাত্রা আপনাকে পৌঁছে দেবে এর প্রধান দ্বীপে। এখানে গ্রানাইটের বিশাল পাহাড় সরাসরি মিশে গেছে স্বচ্ছ নীল সাগরে। একটা মোটরবাইক ভাড়া করে ঘুরে আসা যায় ১৯ শতকের পাহাড়চূড়ার লাইটহাউস কিংবা চোখজুড়ানো দাম ত্রে বে লেগুন থেকে। এখানে বাজেট হোস্টেলের পাশাপাশি সিক্স সেন্সেসের মতো বিশ্বখ্যাত লাক্সারি রিসোর্টও রয়েছে।
১৯৭০-এর দশকের শান্ত ও কোলাহলমুক্ত বালির রূপ দেখতে চাইলে যেতে হবে লম্বকের কাছাকাছি অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপ গিলি ত্রাওয়াঙ্গান। এখানে কোনো মোটরচালিত যানবাহন নেই। আপনাকে পুরো দ্বীপ ঘুরতে হবে পায়ে হেঁটে কিংবা সাইকেলে। এখানকার রুটিন একদম সহজ। দিনভর সাগরে ডাইভিং, মাছ ধরা আর সৈকতের ক্যাফে বা বারে ঠান্ডা পানীয়তে চুমুক দেওয়া। চাইলে ফেরি ধরে লম্বকের জীবন্ত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট রিনজানি থেকে ঘুরে আসা যায়।
ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ৫০০টি দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্বরাজ দ্বীপ। এটি অনেকের কাছে হ্যাভলক আইল্যান্ড নামেও পরিচিত। সাদা বালুর সৈকত আর কাচের মতো স্বচ্ছ পানির এই দ্বীপ মূলত ওয়াটার স্পোর্টসপ্রেমীদের জন্য স্বর্গ। দিনভর স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, গ্লাস-বটম বোটিং কিংবা গহিন জঙ্গলে ট্রেকিং করার সুবিধা আছে এখানে। আর ক্ষুধা লাগলে রাস্তার ধারের সি ফুড শ্যাক আঞ্জু কোকোর লোকাল রান্না আপনার জিবে জল এনে দেবে। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এ দ্বীপে আছে সূর্যাস্ত দেখার জন্য বিখ্যাত এশিয়ার অন্যতম সেরা সৈকত হিসেবে পরিচিত রাধানগর সৈকত। আছে এলিফ্যান্ট সৈকত এবং কালা পাথর সৈকত।
মালয়েশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত পুলাউ মাবুল দ্বীপটি বিশ্বজুড়ে স্কুবা ডাইভার ও স্নরকেলারদের কাছে এক গোপন রত্ন। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এই দ্বীপের পানির নিচের জগৎকে বিশ্ববিখ্যাত গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এখানে সাগরের নিচে দেখা মেলে বিরল সি-মথ, ববটেইল স্কুইড এবং পেইন্টপট কাটলফিশের। এখানে মাবুল ওয়াটার বাংলো বুকিং করে একদম সাগরের পানির ওপর ঘুমানোর অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।
জাপানের ওকিনাওয়ায় যে থাইল্যান্ডের মতো ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট আর কোরাল রিফ আছে, তা অনেকেরই অজানা। আর সেই অঞ্চলের একটি গোপন ডায়মন্ড হলো ইরিওমোতে। এটি সম্পূর্ণ জঙ্গলঘেরা এক দ্বীপ, যেখানে আছে চোখধাঁধানো জলপ্রপাত এবং ম্যানগ্রোভ বন। ইডা নো হামার মতো এখানকার সৈকতগুলো খুবই সুন্দর ও শান্ত। এখানে বুনো প্রকৃতির বুক চিরে নেমে এসেছে পিনাইসারা জলপ্রপাত।
সূত্র: ট্রাভেল+লেজার