ঘর-সংসার সামলিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন, একটু ঘুরে আসতে চান একা একা। কিন্তু নারী বলে সাহসে কুলাচ্ছে না। তাহলে নিশ্চিন্তে যোগাযোগ করুন ‘ভ্রমণকন্যা’ নামের ফেসবুক পেজটিতে। মোবাইল ফোন নম্বরও পেয়ে যাবেন। তারপর বাক্স-পেটরা গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।
যতই আমরা এগিয়ে যাওয়ার কথা বলি না কেন, নারীদের জন্য ভ্রমণ বিষয়টি এখনো খুব সহজ হয়ে ওঠেনি আমাদের দেশে। কিন্তু ভ্রমণকন্যা সেই কঠিন বিষয়টিকে খানিক সহজ করতে কাজ করে যাচ্ছে। গত ৭ বছরে ভ্রমণকন্যা নারীদের ভ্রমণে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করেছে তাদের পঞ্চম প্রদর্শনী। সেটি চলছে শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা ভবনের চারতলায়। অবশ্য এটি শুধু প্রদর্শনীই নয়, এখানে আয়োজন করা হয়েছে এক্সট্রিম ট্রাভেল এবং আলোকচিত্রবিষয়ক কর্মশালা। চলবে ৭ আগস্ট পর্যন্ত।
লিফট দিয়ে চারতলায় নেমেই সোজা চলে গেলাম গ্যালারির দিকে। গ্যালারি-৬-এর দরজা ঠেলে ঢুকতেই মেঘ আর ঝরনাঘেরা একটা বেঞ্চ। তুলা দিয়ে তৈরি মেঘ আর সাদা নেটের কাপড় দিয়ে তৈরি ঝরনার মধ্যে বাঁধনহারা একটা ব্যাপার আছে। একটু ভেতরে ঢুকতেই জলে ভাসা এক শিশুর হাস্যোজ্জ্বল মুখ। যে পানিতে ডুবে গা ভাসিয়ে শুধু মুখটা বের করে দিয়ে হাসছে। সেই হাসিতে আছে অপার তৃপ্তি। গ্যালারি ঘুরতেই মুগ্ধ করছে ছবিগুলো। কোনো ছবিতে ষাটোর্ধ্ব প্রৌঢ়ের বেলাশেষের ক্লান্তিমাখা হাসি, কোথাও ধরা দিচ্ছে কিশোর-কিশোরীর ডানপিটেপনা। কোথাও আবার নিবিড়ভাবে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে কথা বলছে দুটি পাখি, কোথাও গৃহিণীর মুখে অচিন এক হাসি। কোনো ছবিতে পাহাড়ি মেয়েরা সারি বেঁধে হাঁটছে পাহাড়ের গা-ঘেঁষা জুমের জমিতে আবার কোথাও ফুটে উঠেছে দম্পতির প্রেম।