হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

ডে ট্রিপে গোলাপ গ্রামে

সুমন্ত গুপ্ত

সহকর্মীকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলতেই তিনি জানালেন ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপ গ্রামের কথা। শুনেছি কিন্তু যাওয়া হয়নি সেখানে। জানা গেল, সহকর্মীর বাড়ি থেকে সেখানে যাওয়া যায় আধা ঘণ্টার কম সময়ে! ঠিক হলো দিন-তারিখ গোলাপ গ্রামে যাওয়ার। ঢাকায় থাকার এই সুবিধা যে এখান থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তে যাওয়া যায় দ্রুত। আর এ তো ঢাকার একটি উপজেলায়, সকালে গিয়ে দুপুরে ফিরে আসা যায়!

শুক্রবার। ঘুম থেকে উঠে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম সকাল সকাল। পৌঁছালাম গুলিস্তান। সেখান থেকে সাভার বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে সহকর্মীর দেখা। সেখান থেকে আমরা ছুটলাম বিরুলিয়া, তিন চাকার ইঞ্জিনচালিত গাড়িতে। ভাঙা সড়কে দোল খেতে খেতে কিছুটা পথ এগোতেই নিসর্গে আটকে গেল চোখ—অসাধারণ! ঢাকার পাশে এমন মায়াবী প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

সোঁদা মাটির গন্ধ নাকে পৌঁছাতেই চোখে ধরা পড়ল লাল গোলাপের বিশাল বাগান। ভ্রমণসঙ্গী স্ত্রী এই দৃশ্য দেখে খুশিতে আটখানা। গ্রামের ভেতর দিয়ে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সরু পথ। পথের ধার ঘেঁষে অসংখ্য গোলাপের বাগান। যত দূর চোখ যায়, শুধু লাল গোলাপের সমারোহ। মাঝে মাঝে কিছু সাদা গোলাপ, গ্লাডিওলাস, জারবেরার বাগান চোখে পড়ে। সূর্যের আলোয় মাখামাখি করে লাল টকটকে গোলাপ মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাগানে। দুপুরের পর থেকে চাষিরা বাগানে নেমে যান গোলাপ তুলতে। গাছের সারির এক পাশ থেকে ফুল তোলা শুরু করে শেষ পর্যন্ত মুঠো ভরে ফুল তোলেন তাঁরা। চাষিদের ফুল তোলার দৃশ্য বেশ উপভোগ্য।

সহকর্মী মনির জানালেন, বাণিজ্যিকভাবে বিরুলিয়ায় প্রথম গোলাপ চাষ শুরু হয় ১৯৯০ সালে, কয়েকজন যুবকের উদ্যোগে। পরে ভালো ফলন ও ভালো মুনাফা হওয়ায় এখন সাদুল্যাপুর, শ্যামপুর, মোস্তাপাড়া গ্রামের মানুষ গোলাপ চাষ করে অনেকে স্বনির্ভর। এখন পুরো ইউনিয়নেই গোলাপ চাষা হচ্ছে। সাদুল্যাপুর গ্রামের মানুষ স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফার আশায় মূল পেশা পরিবর্তন করেছেন। তাঁরা কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়ে এখন গোলাপ চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সাদুল্যাপুর গ্রামসংলগ্ন শ্যামপুর, মোস্তাপাড়া, রানি পাড়া গ্রামের চিত্র একই।

আমরা পদব্রজে এগিয়ে চলেছি। বাগানের ভেতরে ছবি তুলতে তুলতে উপস্থিত হলাম গোলাপের হাটে। ভর সন্ধ্যায় ফুল বিক্রির বাজার বসে সেখানে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে পাইকারেরা আসেন গোলাপ কিনতে। আজ সন্ধ্যা হতে এখনো অনেক সময় বাকি। তার পরেও হাটে আসতে শুরু করেছে ফুল। আমি এক আঁটি ফুল কিনে উপহার দিই স্ত্রীকে।

যাবেন যেভাবে

ঢাকা থেকে উত্তরা থার্ড ফেস, মিরপুর বেড়িবাঁধ ও গাবতলী হয়ে সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্যামপুর গ্রামে যাওয়া যায় সরাসরি। নিজস্ব কিংবা ভাড়া গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়। এ ছাড়া সাভার বাজার স্ট্যান্ড থেকেও বাসে অথবা লেগুনায় যাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে কয়েকবার যানবাহন বদলাতে হবে। উত্তরা বা বেড়িবাঁধ দিয়ে নিজস্ব গাড়ি ছাড়া যেতে চাইলে কয়েক দফা গাড়ি বদল করে বিরুলিয়া ব্রিজ দিয়ে চলে যাওয়া যাবে গোলাপের গ্রামগুলোতে।

রিসোর্ট বুকিংয়ের সময় যে ভুলগুলো করবেন না

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: চাপে ব্যাহত হতে পারে আকাশপথে ভ্রমণ

হিমালয়ে বাইকিং বদলে দিচ্ছে শেরপাদের জীবন

নারীর একক ভ্রমণের সেরা ১০ গন্তব্য

জাপানে পর্যটকদের পোশাক কেন ময়লার অস্থায়ী ঝুড়ি

বসন্তে এশিয়ায় ভ্রমণের ৮ গন্তব্য

বিশ্বের ৫ অসাধারণ ট্রেনযাত্রা

এআইয়ের ফাঁদে পর্যটক, অস্ট্রেলিয়ায় এক অস্তিত্বহীন ঝরনা খুঁজে হয়রান

ঝিটকায় এক রাত

ক্যাথলিক ক্যাথেড্রালে