হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে জনপ্রিয় ১০ সমুদ্রসৈকত

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

শ্রীলঙ্কায় তিমি দেখার সেরা জায়গা মিরিসা। ছবি: শ্রীলঙ্কা ৮০০

শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসৈকত ঘুরতে গিয়ে অসন্তুষ্ট পর্যটক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। দেশটির প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলজুড়ে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন সৈকত। কোথাও শান্ত ছোট উপসাগর, কোথাও আবার ঢেউখেলানো খোলা সমুদ্র। বছরের বিভিন্ন সময় সূর্যস্নানপ্রেমী এবং সার্ফারদের ভিড় লেগেই থাকে শ্রীলঙ্কার সৈকতগুলোতে। শুধু মানুষ নয়, বন্য প্রাণীর জন্যও এসব সৈকত গুরুত্বপূর্ণ। বিপন্ন সামুদ্রিক কচ্ছপ এখানে ডিম পাড়ে, আর উপকূলের একটু দূরে নীল তিমির দেখা মেলে।

শ্রীলঙ্কায় কোন সময়ে কোন উপকূলে যাবেন, সেটি জানা জরুরি। সাধারণভাবে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল ভ্রমণ সবচেয়ে ভালো। আর মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পূর্ব উপকূল ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।

উনাওয়াতুনা: সবদিক থেকে সেরা

ঐতিহাসিক গল শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে উনাওয়াতুনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে বেশ উন্নয়ন হয়েছে। তবু এটি এখনো শ্রীলঙ্কার অন্যতম জনপ্রিয় সাঁতারের সৈকত। সমুদ্রের ভেতরে থাকা প্রবালপ্রাচীরের কারণে পানির ঢেউ বেশ শান্ত থাকে এখানে। ফলে সাঁতার কাটতে সুবিধা হয়। সৈকতের ধারে সারি সারি সানবেড, পানিতে জেট স্কির চলাচল—সব মিলিয়ে জায়গাটি বেশ প্রাণবন্ত। পর্যটকদের ভিড় থাকলেও কখনো খুব গাদাগাদি মনে হয় না। সন্ধ্যার পর ভালো রেস্টুরেন্ট এবং সপ্তাহের শেষে বিচ পার্টি এই এলাকাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

শ্রীলঙ্কার অন্যতম জনপ্রিয় সাঁতারের সৈকত উনাওয়াতুনা। ছবি: উইকিপিডিয়া

দালাওয়েলা: পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য

উনাওয়াতুনার ঠিক পূর্বে দালাওয়েলা বিচ। এখানে বিখ্যাত ফ্রগ রক রয়েছে, যা প্রায় সব পর্যটকের ছবিতে দেখা যায়। অনেকে এই সৈকতকে উইজয়া বিচ নামেও চেনেন। প্রবালপ্রাচীর ঘেরা ছোট লেগুন থাকার কারণে এখানে সাঁতার ও প্যাডেলবোর্ডিং নিরাপদ। শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের জন্য এটি দারুণ জায়গা। মাঝেমধ্যে কচ্ছপও ভেসে ওঠে এখানে, যা শিশুদের জন্য বাড়তি আনন্দ।

ওয়েলিগামা: নতুন সার্ফারদের স্বর্গ

ওয়েলিগামার অর্ধ চাঁদের মতো বাঁকানো উপসাগরটি প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা। বালুকাময় সমুদ্রতল এবং শান্ত ঢেউয়ের কারণে এটি নতুনদের জন্য শ্রীলঙ্কার সেরা সার্ফিং সৈকতগুলোর একটি। যাঁরা আগে কখনো সার্ফিং করেননি, তাঁরাও এখানে বোর্ড ভাড়া নিয়ে প্রশিক্ষকের সাহায্যে শুরু করতে পারেন। সৈকতের আশপাশে সব বাজেটের হোটেল, ক্যাফে আর রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। তাই পরিবার নিয়েও এখানে থাকা সহজ।

শ্রীলঙ্কার সেরা সার্ফিং সৈকতগুলোর একটি ওয়েলিগামা। ছবি: শ্রীলঙ্কা ৮০০

কাবালানা: খাবার আর শান্ত পরিবেশের জন্য বিখ্যাত

আহাঙ্গামা এলাকার অংশ কাবালানা বিচ তুলনামূলক শান্ত। এখানে ভিড়ও থাকে কম। সার্ফিং এবং যোগব্যায়ামের জন্য এটি বেশ পরিচিত এলাকা। দিনের বেলায় সৈকতে সময় কাটানোর পর সন্ধ্যায় মূল সড়কের পাশে থাকা রেস্টুরেন্টগুলোতে দারুণ খাবার উপভোগ করা যায়।

মিরিসা: তিমি দেখার সেরা জায়গা

মিরিসা মূলত নীল তিমি দেখার জন্য বিখ্যাত। মৌসুমে প্রতিদিন এখান থেকে নৌকা তিমি দেখার জন্য সমুদ্রে যায় এবং দেখা পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশ ভালো। তবে শুধু তিমি নয়, স্নরকেলিং, সার্ফিং, যোগব্যায়াম বা কাছাকাছি হেঁটে যাওয়ার মতো অনেক কিছু আছে এখানে। মিরিসায় সন্ধ্যায় রেস্টুরেন্টগুলোতে বেশ প্রাণচাঞ্চল্য থাকে।

বেন্টোটা: পশ্চিম উপকূলের সেরা

পশ্চিম উপকূলের মধ্যে বেন্টোটা সবচেয়ে জনপ্রিয়। লম্বা সোনালি বালুর সৈকতের এক পাশে সমুদ্র, অন্য পাশে বড় লেগুন। এখানে বিভিন্ন ধরনের জলক্রীড়া, সাঁতার এবং লাইফগার্ড সুবিধা থাকায় এটি পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য ভালো।

জঙ্গলে ঘেরা দুই পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত হিরিকেটিয়া বিচ। ছবি: শ্রীলঙ্কা ৮০০

হিরিকেটিয়া: সব সুবিধা এক জায়গায়

জঙ্গলে ঘেরা দুই পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত হিরিকেটিয়া বিচ দেখলেই মন ভরে যায়। এখানে সারা বছর সাঁতার কাটা যায়। পরিবেশ থাকে শান্ত, কিন্তু প্রয়োজনীয় সব সুবিধা হাতের কাছেই। নারকেলগাছের আড়ালে এখানে রয়েছে কফি শপ, গেস্টহাউস ও ভিলা। পাশেই রয়েছে বিশাল সৈকত।

কাল্কুদা: পূর্ব উপকূলের নিরিবিলি সৈকত

যাঁরা ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির মাঝে থাকতে চান, কাল্কুদা তাঁদের জন্য এককথায় সঠিক জায়গা। আশপাশে নারকেলবাগান আর কাজুবাদামের খামার। তবে মৌসুমের বাইরে সমুদ্র বিপজ্জনক হতে পারে।

আরুগাম: সার্ফিংয়ের রাজধানী

মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরুগাম বে শ্রীলঙ্কার সেরা সার্ফিং গন্তব্য। হুইস্কি পয়েন্ট, পিনাট ফার্ম, ক্রোকোডাইল রক নামের মতোই রোমাঞ্চকর ঢেউ এখানে দেখতে পাওয়া যায়। কম খরচে ভ্রমণ আর প্রকৃতি উপভোগ করতে চাইলে এটি আদর্শ জায়গা।

নিলাভেলি: স্নরকেলিং আর ডাইভিং

ত্রিনকোমালি থেকে কিছুটা দূরে নিলাভেলি বিচ। শান্ত সমুদ্র আর সাদা বালুর সৈকত আছে এখানে। কাছেই পিজন আইল্যান্ড সামুদ্রিক উদ্যান, যেখানে কচ্ছপ আর রিফ শার্ক দেখা যায়।

এবার বেছে নিন আপনার শ্রীলঙ্কার গন্তব্য। তারপর ঘুরে আসুন সময় করে।

সূত্র: লোনলি প্ল্যানেট

ভুটানে প্রথমবার? এই ১২ অভিজ্ঞতা তালিকায় রাখুন

দেবতাখুমের নীরবতায়

এক দিনের ভ্রমণে ঘুরে আসুন মানিকগঞ্জ

দুবাইয়ে চালু হলো বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল ‘সিয়েল টাওয়ার’

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে পাসপোর্ট শক্তির উত্থান-পতন

এ বছরের সেরা ৫ হানিমুন গন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি যেভাবে প্রভাব ফেলছে বিশ্ব পর্যটনে

এশিয়ায় নির্ভয়ে ঘোরার নতুন ঠিকানা জাপান

২৭ বছর হেঁটে পৃথিবী ভ্রমণ

হাকালুকির হিজল বনে