যেকোনো কর্মজীবী মানুষ সকালে অফিসের উদ্দেশে বের হন ঝরঝরে আমেজে। সব ঠিক থাকলে আগের রাতে ভালো একটা ঘুম দিয়ে, নাশতা করে আয়নায় নিজেকে সতেজ দেখেই বের হন সবাই। কিন্তু ঠিক দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই কেমন যেন ম্যাড়ম্যাড়ে আর ক্লান্ত হয়ে পড়েন অনেকে। নারীদের মেকআপ কোথাও নষ্ট হয়ে যায়। আবার চুল হয়ে যায় রুক্ষ, চোখ দুটোও যেন বসে যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে মেকআপের ব্যাপারটা বাদে বাকি সবই ঘটে। যদি আপনার সঙ্গে এমনটা নিয়মিত ঘটে, তবে জেনে রাখুন, এটি শুধু আপনার কাজের চাপ নয়, এর পেছনে দায়ী অফিসের ইনডোর এয়ার বা ভেতরের বাতাস।
বর্তমানে ‘অফিস এয়ার থিওরি’ নামের একটি বিষয় বেশ আলোচনায় এসেছে। অনেক চাকরিজীবীই খেয়াল করেছেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টা অফিসে থাকার পরই তাঁদের চেহারার উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফিসের কৃত্রিম পরিবেশ, এসি এবং আলোর সম্মিলিত আক্রমণই আপনার চেহারার এই দুর্গতির মূল কারণ।
প্রধান কারণ
অফিস মানেই চারদেয়ালের মাঝে নিয়ন্ত্রিত একটা পরিবেশ। কিন্তু এই নিয়ন্ত্রণই অনেক সময় ত্বকের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অফিসের এসি বা হিটিং সিস্টেম বাতাস থেকে সব আর্দ্রতা শুষে নেয়। এই শুষ্ক বাতাস আপনার ত্বক ও ঠোঁট থেকে আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে চামড়া করে তোলে রুক্ষ ও প্রাণহীন। অফিসের কৃত্রিম সাদা আলো বা ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব থেকে খুব সামান্য হলেও অতিবেগুনি রশ্মি নির্গত হয়। দীর্ঘ সময় এই আলোর নিচে থাকা ত্বকের অকালবার্ধক্য বা রিঙ্কেলস পড়ার অন্যতম কারণ। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অভাব এবং প্রিন্টার বা অন্যান্য আসবাব থেকে নির্গত হওয়া ‘ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ডস’ আপনার চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করে।
কর্মক্ষেত্রে নিজেকে সতেজ রাখবেন যেভাবে
অফিসের বাতাস আপনার নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও নিজের যত্ন নেওয়াটা আপনার হাতেই। সারা দিন নিজেকে সতেজ রাখতে কিছু টিপস মেনে চলতে পারেন।
ত্বক ও ঠোঁটের সুরক্ষা: শুষ্ক বাতাস থেকে বাঁচতে ডেস্কে একটি ভালো মানের ময়শ্চারাইজার এবং লিপবাম রাখুন। বারবার মুখে পানি না দিয়ে বরং ফেশিয়াল স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। সম্ভব হলে ডেস্কে একটি ছোট হিউমিডিফায়ার বা আর্দ্রতা বৃদ্ধিকারী যন্ত্র রাখতে পারেন।
মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী করতে: নারীরা অফিসে যাওয়ার আগে হাইড্রেটিং প্রাইমার ব্যবহার করুন। পাউডার জাতীয় মেকআপের চেয়ে ক্রিম-বেসড ফর্মুলা শুষ্ক বাতাসে বেশি টেকসই হয়। শেষে মেকআপ সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন।
চুলের যত্ন: অফিসের বাতাসে চুল রুক্ষ বা উষ্কখুষ্ক হয়ে গেলে সামান্য অ্যান্টি-ফ্রিজ সেরাম বা আরগান অয়েল দিতে পারেন। নারীরা চুলে বেণি বা লো-বান স্টাইল করলেও রুক্ষতা কম বোঝা যায়।
ঘুম ঘুম ভাব ও ক্লান্তি দূর করবেন যেভাবে
অফিসের পরিবেশে শুধু চেহারা নয়, মস্তিষ্কও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। দুপুরের পর আসা ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।
অল্প ক্যাফেইন ও ঠান্ডা পানির ঝাপটা: ঝিমুনি কাটাতে এক কাপ কফি পান করতে পারেন। তবে মাত্রাতিরিক্ত নয়। খুব বেশি ক্লান্তি লাগলে ওয়াশরুমে গিয়ে মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। এটি তৎক্ষণাৎ আপনার মস্তিষ্ক সজাগ করে তুলবে।
পাওয়ার ন্যাপ ও হাঁটাচলা: দুপুরের খাবারের পর ১৫ থেকে ২০ মিনিটের একটি ছোট্ট ঘুম বা পাওয়ার ন্যাপ আপনাকে পুরো বিকেলের জন্য এনার্জি দেবে। এ ছাড়া সারাক্ষণ ডেস্কে বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করুন। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়বে।
হালকা খাবার ও গান: দুপুরে ভারী খাবার বা কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খেলে ঘুম বেশি পায়। তাই প্রোটিন ও সবজির হালকা লাঞ্চ বেছে নিন। অনুমোদিত হলে কানে হেডফোন লাগিয়ে একটু চনমনে গান শুনুন, এটি একঘেয়েমি কাটাতে দারুণ কাজ করে।
প্রাকৃতিক আলো ও ফ্যান: ডেস্কে যদি জানালা থাকে, তবে পর্দা সরিয়ে দিন। প্রাকৃতিক আলো আপনার শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিক রাখে। এ ছাড়া ডেস্কে ছোট একটি টেবিল ফ্যানও রাখতে পারেন, যা বাতাস চলাচলে সাহায্য করবে।
অফিসে নিজের উজ্জ্বলতা ধরে রাখাটা শুধু শৌখিনতা নয়, এটি আপনার আত্মবিশ্বাস ও কাজের গতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। আপনার চেহারা যদি দিন শেষে ম্লান হয়ে যায়, তবে বুঝে নিন দোষটা আপনার নয়। এর জন্য দায়ী চারপাশের বাতাস। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন। মাঝে মাঝে বাইরের সতেজ বাতাস নিন এবং নিজের ডেস্কে গড়ে তুলুন সুস্থ থাকার ছোট্ট এক পরিবেশ।
সূত্র: হেলথ লাইন, ভিএন এক্সপ্রেস