হোম > জীবনধারা > রূপবটিকা

ত্বকে কালচে দাগ পড়েছে? জেনে নিন আয়ুর্বেদিক উপায়ে মুক্তির পথ

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

আয়ুর্বেদিক উপায়ে ত্বকের কালচে দাগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রতীকী ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

প্রাকৃতিক কারণে আমাদের ত্বকে মেলানিনের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করে। কিন্তু এর ভারসাম্য নষ্ট হলে ত্বকে দেখা যায় কালচে ছোপ বা পিগমেন্টেশন। আমাদের ত্বকের মেলানোসাইট কোষগুলো যখন কোনো কারণে উত্তেজিত হয়, তখন তারা নির্দিষ্ট স্থানে বেশি মেলানিন তৈরি করে। ফলে সেখানে কালচে দাগ পড়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি অনেকের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ত্বকে কালচে দাগ পড়ার কারণ

বিভিন্ন কারণে ত্বকে কালচে দাগ পড়তে পারে। তাতে ভয় না পেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে ভালো করার চেষ্টা করুন। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

সূর্যের আলো: দীর্ঘদিন সানস্ক্রিন ছাড়া রোদে বের হতে থাকলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং কালচে দাগ পড়ে বা পিগমেন্টেশন হয়।

হরমোনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থা, থাইরয়েড বা পিসিওএসের মতো অভ্যন্তরীণ শারীরিক পরিবর্তনের কারণে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, যা থেকে মেলাজমা বা বড় বাদামি ছোপ তৈরি হয়।

ব্রণ ও আঘাত: ব্রণ, ফুসকুড়ি বা একজিমা সেরে যাওয়ার পর ত্বকে কালচে দাগ পড়ে যায়। একে বলা হয় পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন।

প্রতিরোধে আয়ুর্বেদিক জীবনযাত্রা

শুধু বাহ্যিক প্রসাধন নয়, বরং ভেতর থেকে শরীর শুদ্ধ রাখাই আয়ুর্বেদের মূলমন্ত্র। কালচে দাগ পড়ার বেলাতেও এ কথা খাটে। তাই নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করতে পারেন—

খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত টক, নোনতা ও ঝাল খাবার পিত্ত বাড়িয়ে দেয়। সাধারণত এগুলোকে পিগমেন্টেশনের জন্য দায়ী করা হয়। এর বদলে তিতা ও মিষ্টি স্বাদের টাটকা খাবার খান। বাসি খাবার বাদ দিয়ে সব সময় হালকা গরম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

হাইড্রেশন: ডিহাইড্রেটেড ত্বকে দাগ পড়ার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন।

সূর্য থেকে সুরক্ষা: রোদে বের হওয়ার সময় ছাতা, চশমা বা টুপি ব্যবহার করুন। জিংক অক্সাইড সমৃদ্ধ ভালো মানের সানস্ক্রিন নিয়মিত ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

কার্যকরী কিছু আয়ুর্বেদিক ঘরোয়া প্যাক

যষ্টিমধু বা লিকোরিস: যষ্টিমধুতে থাকা লিকুইরিটিন ত্বকের জমে থাকা অতিরিক্ত মেলানিনকে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এক চামচ যষ্টিমধু পাউডার, কমলার খোসার গুঁড়া এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য মধু ও যষ্টিমধু পাউডার মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল ও আর্দ্র হবে।

মঞ্জিষ্ঠা ও কস্তুরী হলুদ: মঞ্জিষ্ঠা একটি চমৎকার রক্ত পরিষ্কারক ভেষজ। এর পাউডার ও মধু মিশিয়ে মুখে লাগালে তা পিত্ত শান্ত করে। অন্যদিকে, কস্তুরী হলুদ ও গরুর দুধের মিশ্রণ ত্বকে প্রাকৃতিক আভা ফিরিয়ে আনে। তবে হলুদের প্যাক ব্যবহারের পর সরাসরি রোদে যাবেন না।

দেশি ঘি ও বেসন: ঘিয়ে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। ১ থেকে ২ চামচ বেসনের সঙ্গে সামান্য কস্তুরী হলুদ এবং কয়েক ফোঁটা দেশি ঘি মিশিয়ে সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করুন। এটি মেলাজমার দাগ হালকা করতে খুবই কার্যকর।

বিশেষ আয়ুর্বেদিক তেল: পিগমেন্টেশন দূর করতে কুমকুমাদি তেল এবং নালপামরাদি থাইলাম জাদুর মতো কাজ করে। কুমকুমাদি তেল জাফরান সমৃদ্ধ বলে রাতে ব্যবহারে ত্বকের কালচে ভাব দূর করে। অন্যদিকে, নালপামরাদি থাইলাম রোদে পোড়া দাগ বা ট্যান দূর করতে অত্যন্ত সহায়ক।

সহজ কিছু ঘরোয়া টোটকা

টমেটোর রস ও মসুর ডাল: টমেটোতে থাকা লাইকোপেন রোদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। আর সারা রাত ভেজানো মসুর ডাল বেটে পেস্ট বানিয়ে সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করলে পিগমেন্টেশন দ্রুত হালকা হয়।

টক দই ও লাল পেঁয়াজ: দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া শুকনো লাল পেঁয়াজের গুঁড়া মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দাগের ওপর লাগালে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

মনে রাখবেন, আয়ুর্বেদিক সমাধান ধৈর্যসাপেক্ষ। শুধু নিয়মিত যত্ন এবং সুশৃঙ্খল খাদ্যাভ্যাসই আপনার ত্বকে নিয়ে আসবে স্থায়ী ও স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বলতা।

সূত্র: কামা আয়ুর্বেদা, হেলথলাইন ও অন্যান্য

এই বসন্তে অফিসে তরতাজা থাকবেন যেভাবে

ডোপামিন স্কিন কেয়ার: মনের আনন্দই ত্বকের উজ্জ্বলতার মূল রহস্য

চকলেট দিবসে চকলেট দিয়ে রূপচর্চা

শরীর, ত্বক ও মন ভালো রাখবে এই গোলাপি স্ক্রাব

অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পুতে কাজ হচ্ছে না? খুশকি তাড়াতে সমাধান হতে পারে তাজা নিমপাতা

ম্রুণাল ঠাকুরের সৌন্দর্য রহস্য সম্পর্কে যা জানা গেল

‘স্কিন ফ্লাডিং’ নিয়ে যত কথা

ত্বকের শীতকালীন সমস্যা দূর করবে পাকা টমেটো

শীতে উজ্জ্বল ত্বক, হাতের কাছে সহজ সমাধান

এই শীতে উজ্জ্বল ত্বকের জন্য যে ৫টি ফল খেতে হবে