বিশ্বের শীর্ষ সারির বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো তাদের প্রচার, নতুন কালেকশন উন্মোচন বা ব্র্যান্ড সচেতনতা বাড়াতে প্রায়শই চোখধাঁধানো ও অভিনব স্থাপত্য এবং ফাসাদ ইনস্টলেশন তৈরি করে থাকে। ডিজিটাল স্ক্রিনের বদলে বড় বড় ভবনকে বিশাল ক্যানভাসে রূপান্তর করার মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের এক অনন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দেয়। এযাত্রায় আছে লুই ভুতোঁ, ইয়ায়োই কুসামা, জাকমুস, প্রাডা, শ্যানেল, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর কিংবা গুচির মতো বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড। বিলাসবহুল ফ্যাশন জগতে আর্ট অব ট্রাভেল বা ভ্রমণের শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য লুই ভুতোঁ সব সময় সমাদৃত। সম্প্রতি হংকংয়ের সেন্ট্রাল এলাকায় অবস্থিত তাদের আইকনিক ল্যান্ডমার্ক পপ-আপ ভবনটির সংস্কারকাজ চলাকালীন ব্র্যান্ডটি তৈরি করেছে এক নজরকাড়া আর্কিটেকচারাল ফাসাদ বা হোর্ডিং। আর এই স্থাপত্য দেখতে হুবহু একটি বিশালাকার গ্র্যান্ড রেলস্টেশনের মতো।
এ বছরের অক্টোবর মাসে উন্মোচিত এই বিশেষ ইনস্টলেশন রেলভ্রমণের নস্টালজিক সুবর্ণ যুগকে মানুষের সামনে ফিরিয়ে এনেছে। হংকংয়ের সমৃদ্ধ যোগাযোগ ও পরিবহন ইতিহাস এবং লুই ভুতোঁর দীর্ঘদিনের ভ্রমণ ঐতিহ্যের প্রতি এটি এক অনন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি।
ভ্রমণপ্রেমী ও ইতিহাস অনুরাগীদের কাছে এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য হংকংয়ের নতুন একটি আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। লুই ভুতোঁর সিগনেচার মনোগ্রাম মোটিফ চেনে না এমন ফ্যাশনপ্রেমী বিরল। এই বিশেষ ট্রেন স্টেশন থিমযুক্ত ফাসাদ ইনস্টলেশনটি আরও একটি ঐতিহাসিক উপলক্ষ ধারণ করে আছে। সেটি হলো ব্র্যান্ডটির বিখ্যাত মনোগ্রামের ১৩০তম বার্ষিকী উদ্যাপন। পুরো ফাসাদটির রেলস্টেশন-সদৃশ কাঠামোতে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তাদের ঐতিহ্যবাহী মনোগ্রাম প্যাটার্ন ও নান্দনিক কারুকাজ।
হংকংয়ের এই অনন্য প্রদর্শনী কোনো আকস্মিক আয়োজন নয়। এটি মূলত বিশ্বজুড়ে বিলাসবহুল স্থাপত্যশিল্পে লুই ভুতোঁর পূর্ববর্তী একাধিক বিশ্বখ্যাত ও আলোচিত ফাসাদ প্রকল্পেরই এক অনন্য ধারাবাহিক সংযোজন। ২০২৩ সালে প্যারিসে ঐতিহাসিক শাঁজেজের সুবিশাল লুই ভুতোঁ ভবনের বাইরে উন্মোচিত হয়েছিল এক নজরকাড়া আর্কিটেকচারাল ফাসাদ। বিশাল আকৃতির ট্রাংক এবং জাপানি শিল্পী ইয়ায়োই কুসামার রঙিন ডট ক্যানভাসের মিশেলে তৈরি সেই হাইপার-রিয়েলিস্টিক আর্ট ইনস্টলেশনটি প্যারিসের ফ্যাশন স্থাপত্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফ্যাশন ক্যাপিটাল নিউইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউর ঐতিহ্যবাহী ভবনের সংস্কার চলাকালীন লুই ভুতোঁ তাদের আইকনিক স্যুটকেস ও ট্রাংকের বিশালাকার রেপ্লিকা ফাসাদ হিসেবে ব্যবহার করে। বহুতল ভবনের উচ্চতায় স্তূপীকৃত আর্ট ট্রাংকগুলোর এই স্থাপত্য প্রদর্শনী পুরো নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়। এরপর গত বছরের জুনে চীনের ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটাতে বাণিজ্যিক হাব সাংহাইতে উন্মোচন করা হয় বিশ্বমানের এক ফাসাদ ইনস্টলেশন। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ব্র্যান্ডের ‘আর্ট অব ট্রাভেল’ থিমের অপূর্ব মিশ্রণে তৈরি এই ফাসাদ এশিয়ার ফ্যাশন জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। সেই আন্তর্জাতিক বিশ্বভ্রমণের ধারাবাহিকতায় এ বছরের অক্টোবরে হংকংয়ের সেন্ট্রাল এলাকার ল্যান্ডমার্ক ভবনের বাইরে গড়ে তোলা হলো এই মায়াবী রেলস্টেশন ফাসাদ।
প্রাচীন রেলভ্রমণের রোমান্টিকতা, হংকংয়ের গতিময় নগরসংস্কৃতি এবং আধুনিক ফ্যাশনের এই চমৎকার মিলনমেলা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। ফ্যাশন ও নান্দনিকতার পাশাপাশি লুই ভুতোঁ এখানে গুরুত্ব দিয়েছে পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও সাসটেইনেবিলিটিকে। পপ-আপ ভবনের সংস্কারকাজ শেষ হলে এই সুবিশাল ফাসাদ তৈরিতে ব্যবহৃত সব উপকরণ ফেলে দেওয়া হবে না। এগুলো পরে পুনরায় ব্যবহার অথবা রিসাইকেলের পর রিমেক করা হবে। এর মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি তাদের সচেতন ও পরিবেশবান্ধব সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিকে আরও একবার স্পষ্ট করেছে।
সূত্র: রিটেইল এশিয়া, নাও ট্রাভেল এশিয়া