হোম > জীবনধারা > ফিচার

হরর সিনেমা ভালোবাসে জেন-জি, কিন্তু কেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মনস্তাত্ত্বিক হরর চলচ্চিত্র ‘ব্যাকরুমস’-এর অন্যতম তারকা রেনেট রেইনসভে। ছবি: সিএনএন

বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হরর চলচ্চিত্রের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে জেনারেশন জেড বা ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণদের কাছে এই ঘরানার সিনেমা এখন অন্যতম আকর্ষণ। বিশ্লেষকদের মতে, অনিশ্চিত অর্থনীতি, জলবায়ু সংকট, স্কুলে বন্দুক হামলার ভয় এবং বৈশ্বিক মহামারির মতো বাস্তব অভিজ্ঞতাই তাদের হরর গল্পের প্রতি বেশি আগ্রহী করে তুলেছে।

রোববার (৭ জুন) সিএনএন জানায়, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’ নামের দুটি চলচ্চিত্র তরুণ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সমালোচকদের মতে, এই চলচ্চিত্রগুলো শুধু ভয়ের গল্প নয়; বরং আধুনিক সমাজের নানা অন্ধকার বাস্তবতা ও মানসিক সংকটকে তুলে ধরেছে।

‘অবসেশন’ চলচ্চিত্রে এক তরুণের একতরফা প্রেমকে ঘিরে গল্প এগোলেও এতে তথাকথিত ‘রেড পিল’ সংস্কৃতি, নারীবাদবিরোধী মনোভাব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো বিষয় উঠে এসেছে। অন্যদিকে, জেন জেড নির্মাতা কেইন পারসন্স পরিচালিত ‘ব্যাকরুমস’ এক আসবাবপত্র ব্যবসায়ীর মানসিক অন্ধকারে নিমজ্জনের কাহিনি। চলচ্চিত্রটিতে একাকিত্ব, মানসিক আঘাত এবং জীবনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে গভীর অনুসন্ধান করা হয়েছে।

মনোবিজ্ঞানী ও লেখক লরেন কুকের মতে, জেন জেড এমন এক প্রজন্ম যারা বাস্তব জীবনের কঠিন সত্যের মুখোমুখি হতে অভ্যস্ত। তিনি বলেন, ‘হরর এখন শুধু রক্তপাত বা ভয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বাস্তব জীবনের অন্ধকার বিষয়গুলোও অনুসন্ধান করছে। জেন জেড সেই সততাকে মূল্য দেয়, কারণ তারা বাস্তবতাকে আড়াল করে দেখাতে চায় না।’

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব হরর উপধারা থাকে। ১৯৭০-এর দশকে ছিল স্ল্যাশার চলচ্চিত্র, ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে ধর্মীয় আতঙ্কনির্ভর গল্প, আর ২০০০-এর দশকে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব দেখা গেছে জম্বি চলচ্চিত্রে। বর্তমান সময়ে সামাজিক বৈষম্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক বিভাজনের মতো বিষয়গুলো জেন জেড-কেন্দ্রিক হরর সিনেমায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিসটার এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সব বয়সী দর্শকের মধ্যে জেন জেডই সবচেয়ে বেশি হরর চলচ্চিত্র ও টিভি অনুষ্ঠান দেখে। এই প্রজন্মের ৯১ শতাংশ ভোক্তা নিয়মিত হরর কনটেন্ট উপভোগ করে। বিজ্ঞাপন সংস্থা ডেন্টসুর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় বর্তমানে সিনেমার টিকিট বিক্রির ১৭ শতাংশই হরর চলচ্চিত্রের দখলে, যা এক দশক আগে ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।

বাণিজ্যিক দিক থেকেও এই প্রবণতা সফল হয়েছে। ‘ব্যাকরুমস’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৮ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ১২ কোটি ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে মাত্র সাড়ে সাত লাখ ডলার ব্যয়ে নির্মিত ‘অবসেশন’ ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ কোটি ডলার আয় করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন জেড শুধু বিনোদন খোঁজে না; তারা কনটেন্ট বিশ্লেষণ করতেও পছন্দ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবভিত্তিক বিশ্লেষণধর্মী সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মের কাছে হরর সিনেমা বাস্তবতার অন্ধকার দিকগুলো বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

ভ্রমণ এখন এক প্রতিযোগিতামূলক খেলা

কমিকস থেকে বাস্তবে জাপানে মায়েদের জন্য ‘নাইটটাইম ক্রাইং ক্যাফে’

রাত ৯টার পর যেসব কাজ করবেন না

জন্মশতবার্ষিকীতে প্রকাশিত হলো মেরিলিন মনরোর দুর্লভ ছবির বই, কী রয়েছে তাতে

পৃথিবীর বিষণ্নতম দেশ আফগানিস্তান, বাংলাদেশের অবস্থান কত

সম্পর্কের নতুন জটিলতা ‘অ্যালপাইন ডিভোর্স’

ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমানোর সহজ উপায়

‘নিজের মতো সময়যাপন’ বা ‘মি টাইম’ প্রয়োজন যে কারণে

দীর্ঘায়ু চাইলে দক্ষিণ কোরীয়দের যেসব অভ্যাস ও খাবারে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

অল্প নয়, বেশি সময় ধরে হাঁটুন