হোম > জীবনধারা > ফিচার

ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমানোর সহজ উপায়

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

একবার শরীরে ক্যাফেইন প্রবেশ করলে তা দ্রুত বের করে দেওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক উপায় নেই। প্রাকৃতিকভাবে এটি কমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ছবি: পেক্সেলস

দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততায় শরীর ও মন চাঙা রাখতে ক্যাফেইন অর্থাৎ চা ও কফি আমাদের অনেকের অন্যতম প্রধান ভরসা। মানসিক চাপের যেকোনো কাজ করতে গেলে মনে হয় এক কাপ চা কিংবা কফি হলে ভালো হয়। এই করে অনেকে দিনে অনেক কাপ চা ও কফি পান করে ফেলেন। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে শরীরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। আপনি যদি দৈনিক ক্যাফেইন পানের অভ্যাস কমিয়ে আনতে চান, তাহলে কিছু কৌশল মেনে চলতে পারেন।

কোন ধরনের চায়ে কত ক্যাফেইন থাকে

আমাদের দেশে ক্যাফেইনের প্রধান উৎস চা। সব ধরনের চায়ে ক্যাফেইনের পরিমাণ সমান থাকে না। ফলে জেনে রাখা ভালো, কোন ধরনের চায়ে এর পরিমাণ কেমন থাকে। খাদ্য লেবেলের আদর্শ মানে অনেক সময় ১ আউন্সকে ৩০ মিলিলিটার হিসাব করা হয়। সেই হিসাবে ৮ আউন্স-এ হয় ২৪০ মিলিলিটার। এ হিসাবে এক কাপ পরিমাণকে ২৪০ মিলিলিটার ধরে হয়। এক কাপ চায়ের পরিমাণ ৮ আউন্স বা ২৪০ মিলিলিটার। এই পরিমাণ চায়ের ওপর ক্যাফেইনের পরিমাণ হিসাব করা হয়। সেই হিসাবে,

শুধু হারবাল ব্লেন্ড বা ভেষজ চায়ে ক্যাফেইন থাকে না। ছবি: পেক্সেলস
  • প্রতি কাপ হারবাল ব্লেন্ড বা ভেষজ চায়ে ক্যাফেইন থাকে শূন্য মিলিগ্রাম
  • প্রতি কাপ ব্ল্যাক টি-তে ক্যাফেইন থাকে ৩০ থেকে ৬০ মিলিগ্রাম
  • প্রতি কাপ গ্রিন টি-তে (ম্যাচাসহ) ক্যাফেইন থাকে ২৫ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম
  • প্রতি কাপ ক্যাফেইনমুক্ত চায়ে ক্যাফেইন থাকে ১ থেকে ৮ মিলিগ্রাম

মায়ো ক্লিনিকের তথ্য মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন নিরাপদে ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করতে পারেন।

প্রতি কাপ কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ

এ ক্ষেত্রেও কোন ধরনের কফি পান করছেন, ক্যাফেইনের পরিমাণ নির্ভর করবে তার ওপর। হেলথ লাইন ডট কম এর তথ্য মতে,

চায়ের চেয়ে কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি থাকে। ছবি: পেক্সেলস
  • ১২ আউন্স-এর প্রতি কাপ ব্রিউড কফিতে ক্যাফেইন থাকে ১১২ থেকে ২৪৭ মিলিগ্রাম
  • ৮ আউন্স-এর প্রতি কাপে ব্রিউড কফিতে ক্যাফেইন থাকে ৯৫ থেকে ২০০ মিলিগ্রাম
  • ২ আউন্স প্রতি শট এসপ্রেসো কফিতে ক্যাফেইন থাক ১২৭ মিলিগ্রাম (গড়ে ১০৮.৩ মিলি.)
  • ৬ আউন্স ইনস্ট্যান্ট কফিতে ক্যাফেইন থাক ৪৫ মিলিগ্রাম
  • ৮ আউন্স-এর প্রতি কাপে ডিক্যাপ কফিতে ক্যাফেইন থাকে ২ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম

ক্যাফেইন গ্রহণের প্রবণতা কমানোর কার্যকর ৫ কৌশল

ডিক্যাফ কফি বেছে নিন

সাধারণ কফির জায়গায় ‘ডিক্যাফ’ বা ক্যাফেইনমুক্ত চা বা কফি একটি বিকল্প হতে পারে। এর স্বাদ ও গন্ধ সাধারণ চা-কফির মতোই হয়ে থাকে। কিন্তু এতে ক্যাফেইনের পরিমাণ থাকে অত্যন্ত নগণ্য। অর্থাৎ এক কাপে থাকে ১ থেকে ৭ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন। দুপুরের পর বা সন্ধ্যার দিকে সাধারণ চা- কফির বদলে ডিক্যাফ কফি পানের অভ্যাস করা যেতে পারেন।

হাফ-ক্যাফ মিশ্রণ তৈরি

হুট করে চা-কফি খাওয়া বন্ধ না করে সমপরিমাণ সাধারণ চা-কফির গুঁড়ার সঙ্গে ডিক্যাফ চা-কফির গুঁড়া মিশিয়ে চা-কফি তৈরি করতে পারেন। কোল্ড ব্রু কফির ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ সাধারণ কফি এবং দুই-তৃতীয়াংশ ডিক্যাফ কফির মিশ্রণ ব্যবহার করা ভালো।

ক্যাফেইনমুক্ত ভেষজ চা ও লেবুপানি

বিকেলের পর বা রাতে ঘুমানোর আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের বদলে প্রাকৃতিকভাবে ক্যাফেইনমুক্ত ভেষজ চা অথবা হালকা গরম পানিতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে পান করার অভ্যাস করুন। এটি শরীরকে শান্ত রেখে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।

হালকা ব্যায়াম ও শারীরিক কসরত

অনেক সময় আমরা অলসতা কাটাতে বা সতেজ হতে কফি খাই। অথচ সেই মুহূর্তে শরীরের হয়তো শুধু একটু নড়াচড়া প্রয়োজন। কফির তাগিদ অনুভব করলে ১০ মিনিটের জন্য একটু হেঁটে আসুন, কয়েকটা পুশ-আপ বা স্কোয়াট দিন অথবা মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। রক্তসঞ্চালন বাড়লে প্রাকৃতিকভাবে শরীর চাঙা হয়ে ওঠে।

লুকানো ক্যাফেইন সম্পর্কে সতর্ক থাকুন

ক্যাফেইন কমাতে শুধু চা-কফি নয়, অন্য উৎসের দিকেও নজর দিন। কোমল পানীয় কেনার সময় ক্যাফেইন পানীয় বেছে নিন। এ ছাড়া সর্দি-কাশির কিছু ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ, ডার্ক চকলেট এবং ব্যায়ামের আগের সাপ্লিমেন্টেও প্রচুর ক্যাফেইন থাকতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে লেবেল দেখে নিন।

শরীর থেকে ক্যাফেইন দ্রুত বের করে দেওয়া

একবার শরীরে ক্যাফেইন প্রবেশ করলে তা দ্রুত বের করে দেওয়ার বা ‘ফ্লাশ’ করার কোনো তাৎক্ষণিক ঘরোয়া উপায় নেই। এর কার্যকারিতা প্রাকৃতিকভাবে কমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে। সাধারণত ক্যাফেইন খাওয়ার ৪৫ মিনিটের মধ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি বোঝা যায় এবং এটি ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ক্যাফেইনের হাফ-লাইফ প্রায় ৫ ঘণ্টা। অর্থাৎ, ৫ ঘণ্টা পর আপনার শরীরে থাকা ক্যাফেইনের পরিমাণ অর্ধেক হয়ে যাবে। রাতের ঘুমে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য ঘুমানোর অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ করা উচিত।

অস্বস্তি কমানোর কিছু উপায়

অতিরিক্ত ক্যাফেইনের ফলে শরীরে অস্বস্তি হতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইনের সাধারণ লক্ষণ হলো মাথাব্যথা, অনিদ্রা বা ঘুমে ব্যাঘাত, বুক ধড়ফড় করা বা হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং হাত-পা কাঁপা। এমন লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর কোনো ক্যাফেইনযুক্ত খাবার বা পানীয় খাবেন না। এই সময় পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখুন। কারণ, পানিশূন্যতা ক্যাফেইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আরও বাড়িয়ে দেয়। একটু হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করুন এবং বুকভরে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে মন ও স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করার চেষ্টা করুন।

ক্যাফেইনের নিরাপদ মাত্রা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করা নিরাপদ। অর্থাৎ প্রায় ২ থেকে ৩ কাপ কফির সমতুল্য। তবে বয়স, ওজন, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং লিভারের কার্যক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এই সহনশীলতার মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।
  • গর্ভবতী নারীদের দৈনিক ক্যাফেইন গ্রহণের মাত্রা ২০০ মিলিগ্রামের মধ্যে সীমিত রাখা উচিত। অতিরিক্ত ক্যাফেইন অকালপ্রসব, গর্ভপাত বা শিশুর কম ওজনের ঝুঁকি বাড়ায়। শিশুদের ক্যাফেইন সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলা উচিত।
  • জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা হার্টের কিছু ওষুধ খেলে শরীরে ক্যাফেইনের স্থায়িত্বকাল দীর্ঘ হতে পারে।

সূত্র: হেলথ লাইন

‘নিজের মতো সময়যাপন’ বা ‘মি টাইম’ প্রয়োজন যে কারণে

দীর্ঘায়ু চাইলে দক্ষিণ কোরীয়দের যেসব অভ্যাস ও খাবারে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

অল্প নয়, বেশি সময় ধরে হাঁটুন

বদলে যাওয়া সময়ে পরিবারের সঙ্গে বন্ধন অটুট রাখুন

কেন সবাই খুঁজছেন ‘কালিনারি ক্লাস ওয়ার্স’ শেফদের?

আপনার অস্থিরতার গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল আবেগটি চিনুন

আপনি কি জীবনের ডার্ক নাইট কাটাচ্ছেন, জেনে নিন লক্ষণ ও উত্তরণের পথ

গ্রীষ্মে কেমন সুগন্ধি সাবান ব্যবহার করবেন

অতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস আপনার ক্ষতি করছে কি, জেনে নিন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

দিনটি কাটুক মায়ের মনের মতো