হোম > জীবনধারা > ফিচার
ইউজ ইউর কমনসেন্স ডে

কর্মক্ষেত্রে কমনসেন্স ধরে রাখবেন যেভাবে

ফিচার ডেস্ক

করপোরেট দুনিয়ায় বা যেকোনো প্রফেশনাল সেক্টরে আমরা টেকনিক্যাল স্কিল আর সার্টিফিকেটের পেছনে যতটা সময় দিই, কাজের ভেতরের না-বলা নিয়মগুলো নিয়ে ততটাই উদাসীন থাকি। ছবি: পেক্সেলস

দরজার সামনে বড় বড় করে লেখা ‘ধাক্কা দিন’ কিংবা পুশ। কিন্তু আপনি গিয়ে সজোরে টান দিলেন! কিংবা লিফটে ওঠার সময় ভেতরের মানুষগুলোকে বের হওয়ার সুযোগ না দিয়েই হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকে পড়লেন। এই ছোটখাটো ঘটনাগুলো আমাদের সবারই কমবেশি জানা। কিন্তু যখন আমরা অফিসে পা রাখি, তখন এই কমনসেন্সের সংজ্ঞা যেন আরও একটু গোলমেলে হয়ে দাঁড়ায়। কাজের জায়গায় আমরা মুখে যতই বলি, ‘এ তো একদম বেসিক কমনসেন্স!’, আদতে এই কমনসেন্সটাই মাঝেমধ্যে সবচেয়ে আনকমন এক বস্তুতে পরিণত হয়।

করপোরেট দুনিয়ায় বা যেকোনো প্রফেশনাল সেক্টরে আমরা টেকনিক্যাল স্কিল আর সার্টিফিকেটের পেছনে যতটা সময় দিই, কাজের ভেতরের না-বলা নিয়মগুলো নিয়ে ততটাই উদাসীন থাকি। অফিসে প্রায়ই ম্যানেজারদের মুখে একটা কমন ডায়ালগ শোনা যায়, ‘আরে ভাই, এটা তো জাস্ট কমনসেন্স!’ কিন্তু সমস্যা হলো, যা আপনার কাছে বছরের পর বছর কাজ করতে করতে ‘জলবৎ তরলং’ হয়ে গেছে, নতুন একজনের কাছে তা একদমই ভিনগ্রহের ব্যাপার। একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘কার্স অব নলেজ’ বা জ্ঞানের অভিশাপ। একবার কোনো কিছু নিজের আয়ত্তে চলে এলে আমরা ভুলেই যাই যে একসময় আমরাও এর কিছুই জানতাম না।

কর্মক্ষেত্রের নানান কাণ্ড

- মিটিংয়ে সিরিয়াস আলোচনা চলছে, আর আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে চিপস বা গাজর চিবানোর মচমচ শব্দ সোজা ভেসে আসছে সবার কানে। বিশেষ করে রিমোট মিটিংয়ে মিউট বাটন যে কোথায় থাকে, তা অনেক সময় রহস্যই থেকে যায়। কিংবা অফিস ক্যানটিনে অনেকের সঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় শব্দ করে খাওয়া। এসব খুব সচেতনভাবে এড়িয়ে চলুন।

- এরপর দেখা গেল কোন একদিন প্রিন্টার থেকে প্রিন্ট আউট তুলে নিলেন, কিন্তু শেষ পেপার জ্যাম হয়ে আছে বা কালি ফুরিয়ে গেছে। দেখা গেল আপনার সেটা ঠিক করার কোনো তাড়া নেই। আপনি চলে গেলেন আর দায় চাপালেন পরেরজনের ঘাড়ে। এটা না করে সবকিছু চেক করে তারপর জায়গা ছাড়ুন।

- কর্মক্ষেত্রে সময়ের দিকে খেয়াল রাখা অনেক বেশি জরুরি। যে মিটিং ১৫ মিনিটে শেষ হওয়ার কথা, সেটা বিনা কারণে টেনে দুই ঘণ্টা লম্বা করে ফেলা উচিত নয়।

- সবচেয়ে অদ্ভুত হয় ধরুন, বস একটা মেইল পাঠিয়েছেন পুরো টিমকে। আপনি ভুলবশত রিপ্লাই অলে এমন একটা কমেন্ট লিখে বসলেন—যা শুধু আপনার বন্ধুর পড়ার কথা ছিল। কিংবা অফিস গসিপ গ্রুপের কথা লিখে ফেললেন অফিশিয়াল চ্যাট বক্সে। নতুন কর্মীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন, তাঁদের কাছে অফিসের এই লুকানো শিষ্টাচার বা কালচার একদমই অপরিচিত ঠেকতে পারে। অথচ পুরোনো বস বা কর্মীরা ধরে নেন, এগুলো তো জন্মসূত্রে সবারই জানা থাকার কথা।

- হালকা ঠান্ডা-কাশি বা হাঁচি হওয়া সত্ত্বেও পুরো অফিসে জীবাণু ছড়াতে ছড়াতে ঘুরে বেড়ান অনেকেই। ভাবটা এমন যেন দেখুন, আমি কত সিরিয়াস কর্মী। অথচ কমনসেন্স বলে, অসুস্থ হলে ঘরে থেকে বিশ্রাম নেওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক।

- সহকর্মী হয়তো গভীর মনোযোগ দিয়ে একটি রিপোর্ট লিখছেন, আপনি হঠাৎই কোনো নক বা আগাম বার্তা ছাড়া তাঁর কাঁধের ওপর গিয়ে দাঁড়ালেন কিংবা মিটিং রুমে সোজা ঢুকে পড়লেন। সেই সহকর্মী যতই আপনার বন্ধুর মতো হোক না কেন অবশ্যই নক করে তারপরে রুমে ঢুকবেন।

- ধরুন পুরো টিম যখন ডেডলাইন মেলাতে ব্যস্ত। তাৎক্ষণিক আপনার কোন কাজ নেই। তখন আপনি কী করবেন? অনেকেই আছেন যারা এমন সময় ডেস্কে বসেই জোরে আওয়াজ দিয়ে পারিবারিক বাজার বা ব্যক্তিগত জটিলতা নিয়ে আধঘণ্টা গল্প সেরে ফেলছেন। ফোন করা বেশি জরুরি হলে অবশ্যই আলাদা জায়গায় গিয়ে কথা বলা উচিত।

তাহলে উপায় কী

কর্মক্ষেত্রের এই ভুল-বোঝাবুঝি ও একঘেয়েমি কাটাতে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জোর দেওয়া জরুরি:

- অনুমান করা বন্ধ করুন। বসরা মনে করেন কর্মীরা মন পড়ে ফেলবে, আর কর্মীরা ভাবেন বস নিজেই সব বুঝে নেবেন। কাজের প্রত্যাশা ও নিয়মগুলো পরিষ্কার করে দেওয়াটা এখানে সবচেয়ে জরুরি।

- ভুলকে শেখা নতুন সুযোগ হিসেবে দেখুন। কাউকে ভুল করার পর সবার সামনে ভর্ৎসনা না করে, মেন্টরিং বা গাইডের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। ভুল থেকে শেখার সংস্কৃতি থাকলে টিমের টেনশন অর্ধেক কমে যায়।

- অভিজ্ঞতা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সামঞ্জস্য আনুন। প্রযুক্তি থেকে শুরু করে অফিসের নিয়ম সবই বদলায়। তাই পুরোনো অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে বসে না থেকে নতুনদের শেখার এবং পুরোনোদেরও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে।

যত যা-ই হোক, মনে রাখবেন কমনসেন্স কোনো জন্মগত বা রহস্যময় আকাশছোঁয়া গুণ নয়। এটি মূলত অভিজ্ঞতা, ভুল থেকে শিক্ষা আর পারস্পরিক যোগাযোগের এক সুন্দর ফসল। তাই কাজের জায়গায় সামান্য হিউমার, একটুখানি সহনশীলতা এবং কাজের প্রত্যাশাগুলো স্পষ্ট রাখলে সবকিছুই বেশ হাসিমুখে সামলে নেওয়া সম্ভব। আর সবশেষে বলে রাখি আজ ইউজ ইওর কমনসেন্স ডে। তাই আজ থেকেই এই চর্চাগুলো শুরু করতে পারেন।

সূত্র: ফিন্যান্সবাজ

কলিন্সের বর্ষসেরা শব্দ ‘মগিং’-এর মানে কী

হংকংয়ে লুই ভুতোঁর রেলস্টেশন

লুই আমলে নিখোঁজ নৌ অভিযান রহস্যে নতুন আলো ফেলল বিরল প্রেমপত্র

২০২৬ সালের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’—মানে কী জানেন

সুস্থ স্ক্যাল্প ও সুন্দর চুলের জন্য জাপানিজ হেয়ার ব্রাশ যে কারণে জনপ্রিয়

বিশ্ব পর্যটনে যুক্ত হয়েছে দুটি ভিন্নমাত্রার জাদুঘর

ভ্যান গগের ‘দ্য স্টারি নাইট’ চিত্রকর্মে তারার রহস্য উন্মোচন

সবুজ ছাদের শহরগুলো

ভালোবাসার যে শিক্ষা দেয় পেঙ্গুইন

জেনে নিন, ঘরে আইল্যাশ এক্সটেনশন তোলার সহজ উপায়