হোম > জীবনধারা > ফিচার

ত্বকের উজ্জ্বলতায় কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েশন

তুষ্টি মনোয়ার

মডেল: জ্যোতি। ছবি: মঞ্জু আলম

উৎসব বা বিশেষ কোনো উপলক্ষে ত্বকে দ্রুত উজ্জ্বলতা আনতে ইদানীং ক্ষতিকর দানাযুক্ত স্ক্রাব ব্যবহারের প্রথা উঠে যাচ্ছে। তার বদলে জায়গা করে নিয়েছে লিকুইড এক্সফোলিয়েশন বা কেমিক্যাল অ্যাসিড। বাজারে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড বা এএইচএ এবং বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড বা বিএইচএ সমৃদ্ধ টোনার কিংবা সেরামের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। তবে না বুঝে বা ত্বকের ধরন না জেনে কেবল বিজ্ঞাপন দেখে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

এএইচএ ও বিএইচএর তফাত

কসমেটোলজিস্ট ও শোভন মেকওভারের স্বত্বাধিকারী শোভন সাহা বলেন, কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ত্বকের মৃত কোষের বাঁধন বা গ্লু আলগা করে প্রাকৃতিকভাবে তা ঝরিয়ে দেয়। তবে দুটি অ্যাসিডের কাজের ধরন আলাদা।

শোভন সাহা জানান, আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড বা এএইচএ পানিতে দ্রবণীয়। এটি মূলত ত্বকের ওপরের স্তরে কাজ করে। রোদে পোড়া ভাব, খসখসে ভাব ও কালচে দাগ দূর করে ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে এটি সাহায্য করে। তিনি আরও বলেন, বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড বা বিএইচএ তেলে দ্রবণীয়। এটি শুধু ত্বকের উপরিভাগেই নয়, বরং ত্বকের রোমকূপের ভেতরে প্রাকৃতিক সেবাম বা তেলের বাধা ভেদ করে গভীরে ঢুকতে পারে। ফলে পোরসের ভেতর জমে থাকা ময়লা ও অতিরিক্ত তেল দূর করতে সাহায্য করে।

জনপ্রিয় এএইচএ ও তাদের কার্যকারিতা

গ্লাইকোলিক অ্যাসিড: এর অণুগুলো আকারে ছোট হওয়ায় দ্রুত কাজ করে। এটি ত্বকের কোলাজেন বাড়ায়, ফাইন লাইনস বা বয়সের দাগ কমায় এবং ত্বকে তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা আনে।

ল্যাকটিক অ্যাসিড: আকারে একটু বড় অণু হওয়ায় এটি ধীরে কাজ করে। ত্বক পরিষ্কারের পাশাপাশি এটি আর্দ্রতা ধরে রাখে, যা ড্রাই স্কিনের জন্য সেরা।

ম্যান্ডেলিক অ্যাসিড: এটি অতি মৃদু এক্সফোলিয়েন্ট। যাদের ত্বক বেশি সংবেদনশীল, তাদের জন্য এটি সবচেয়ে নিরাপদ।

বহু ব্যবহৃত বিএইচএ ও এর কার্যকারিতা

স্যালিসিলিক অ্যাসিড: এটি ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডসের বিরুদ্ধে জাদুকরি ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত সেবাম নিয়ন্ত্রণ করতে এটি অতুলনীয়।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পছন্দ

শোভন সাহা বলেন, শুষ্ক ও খসখসে ত্বকে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যবহার করুন। তৈলাক্ত, ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডসযুক্ত ত্বকে স্যালিসিলিক অ্যাসিড বেছে নিন। মিশ্র ত্বকে মুখের তৈলাক্ত টি-জোনে বিটা এবং বাকি অংশে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড ব্যবহার করা ভালো। অমসৃণ টেক্সচার ও মেছতার দাগ থাকলে গ্লাইকোলিক অ্যাসিড বা ল্যাকটিক অ্যাসিড দুর্দান্ত কাজ করে। আবার স্পর্শকাতর ত্বকে ম্যান্ডেলিক অ্যাসিড দিয়ে ব্যবহার করা নিরাপদ।

ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা

প্রথমে সপ্তাহে মাত্র এক দিন রাতে ব্যবহার করুন। ত্বকের সহ্যক্ষমতা বাড়লে পরে সপ্তাহে ২-৩ দিন বাড়াতে পারেন। শোভন সাহা বলেন, নতুনদের জন্য গ্লাইকোলিক অ্যাসিড ৫ শতাংশ, ল্যাকটিক অ্যাসিড ৫ থেকে ১০ শতাংশ এবং স্যালিসিলিক অ্যাসিড শূন্য দশমিক ৫ থেকে ২ শতাংশ মাত্রা নিরাপদ।

ভিটামিন সি সকালে এবং এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড রাতে ব্যবহার করুন। রেটিনল এবং কেমিক্যাল অ্যাসিড কখনোই একই রাতে পরপর ব্যবহার করবেন না। তবে নিয়াসিনামাইড ও পেপটাইড অ্যাসিডের সঙ্গে নিরাপদে ব্যবহার করা যায়। শোভন সাহা জানান, অ্যাসিড ব্যবহারে ত্বক সূর্যের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই দিনের বেলায় অন্তত এসপিএফ-৩০ বা এসপিএফ-৫০ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

অ্যাসিড ব্যবহারের পর ত্বকের যত্ন

এক্সফোলিয়েশনের পর ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে। তাই অ্যাসিড ব্যবহারের পর কড়া প্রসাধনী এড়িয়ে ভালো মানের সেরামাইড বা হায়ালুরনিক অ্যাসিডযুক্ত ময়শ্চারাইজার মাখা জরুরি। এটি আর্দ্রতা আটকে কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। এ ছাড়া ত্বকে জ্বালা ভাব এড়াতে পরদিন মুখে গরম পানি বা ফেস ব্রাশ ব্যবহার করবেন না।