হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

আপনি কোন ধরনের অলস, জেনে নিন তা থেকে মুক্তির উপায়

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

কাজের ভেতর থেকে নিজের অনুপ্রেরণা খুঁজে বের করুন। কাজের জায়গা থেকে সব ধরনের প্রলোভন ও বিনোদনের উপাদান সম্পূর্ণ দূর করুন। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া, অ্যাসাইনমেন্ট শেষ মুহূর্তের জন্য ফেলে রাখা কিংবা কোনো জরুরি ই-মেইলের উত্তর দিতে দেরি করা—সব আমরা প্রায়ই করে থাকি। মোটকথা, কমবেশি আমাদের সবার মধ্যে কাজ জমিয়ে রাখার বা আলসেমির প্রবণতা দেখা যায়। মনে হতে পারে, আলসেমি মানে আলসেমি। এর আবার রকমফের কী? কিন্তু যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ড. ইতামার শাতজ তাঁর গবেষণায় এক চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর ‘সলভিং প্রোক্রাস্টিনেশন’ বইয়ে দেখিয়েছেন, মানুষ আসলে মোট ৯টি ভিন্ন উপায়ে বা ধরনে কাজ জমিয়ে রাখে। আলসেমি দূর করা মানেই দিনরাত গাধার খাটুনি নয়। এর অর্থ, কোনো অপরাধবোধ ছাড়া নিজের কাজগুলো সঠিক সময়ে শেষ করা।

আলসেমির ৯টি ধরন ও মুক্তির উপায়

দ্য ওরিয়ার বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত

এই ধরনের মানুষ সব সময় ভয়ে থাকেন, কাজ শুরু করলে বুঝি সব গড়বড় হয়ে যাবে। জটিলতা বা সমস্যায় পড়ার ভয়ে তারা কাজ শুরু করতে ভয় পায়। এ ধরনের মানুষের জন্য সমাধান হলো ভয়গুলো যৌক্তিকভাবে বোঝার চেষ্টা করা। এ থেকে মুক্তির উপায় হলো, বড় কাজ ছোট ছোট ভাগ করে ফেলা। এতে নিজের ওপর বিশ্বাস বাড়বে।

আলসেমি দূর করা মানেই দিনরাত গাধার খাটুনি নয়। এর অর্থ, কোনো অপরাধবোধ ছাড়া নিজের কাজগুলো সঠিক সময়ে শেষ করা। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

দ্য পেসিমিস্ট বা হতাশাবাদী

এরা কাজ শুরু করার আগেই বিফল হবে বলে ধরে নেয়। ‘চেষ্টা করেই-বা কী লাভ?’ এমন নেতিবাচক মানসিকতা তাদের কাজ থেকে দূরে রাখে। এ ক্ষেত্রে ছোট ছোট সাফল্যের মাধ্যমে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে এবং এমন বন্ধুবান্ধব বা পরিবেশের সঙ্গে থাকতে হবে, যারা সব সময় উৎসাহ দেবে।

দ্য পারফেকশনিস্ট বা খুঁতখুঁতে

সবকিছু একদম নিখুঁত বা পারফেক্ট হতে হবে, এই মানসিকতা মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ভুল করার ভয় এবং অবাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণের কারণে কেউ কেউ কাজ শুরুই করতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘চমকপ্রদ জীবন’ দেখে এরা প্রায়ই নিজেদের অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে বসে। এ থেকে মুক্তির উপায় হলো, ‘সব হতে হবে নয়তো কিছুই না’ এমন মানসিকতা বাদ দেওয়া। মনে রাখতে হবে, নিখুঁতের চেয়ে কাজ শেষ হওয়া ভালো। নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে।

দ্য ড্রিমার বা দিবাস্বপ্নচারী

এরা বর্তমানের কাজ ফেলে রেখে ভবিষ্যৎ নিয়ে শুধু কল্পনার জাল বুনতেই পছন্দ করে। চমৎকার সব পরিকল্পনা করলেও তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয় না। কখন এই দিবাস্বপ্ন ক্ষতি করছে, তা বুঝতে শিখতে হবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কাগজে-কলমে নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের তালিকা তৈরি করতে হবে।

দ্য জিগজ্যাগার বা চঞ্চল মন

এদের মনোযোগ কোনো একটি কাজে স্থির থাকে না। এরা খুব দ্রুত এক কাজ থেকে অন্য কাজে মনোযোগ পরিবর্তন করে। ফলে কোনো কাজই শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয় না। এই ধরনের মানসিকতা থাকলে নিজের লক্ষ্যগুলো স্পষ্ট করে লিখে রাখতে হবে। কাজের পরিবেশ থেকে মনোযোগ নষ্টকারী জিনিস; যেমন মোবাইল ফোন দূরে রাখতে হবে। প্রয়োজনে কোনো বন্ধুকে কাজের অ্যাকাউন্টেবিলিটি পার্টনার বা তদারককারী বানাতে হবে।

দ্য রেবেল বা বিদ্রোহী

এ ধরনের মানুষ মনে করে, তাদের জীবনের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই কোনো কর্তৃপক্ষ বা নিয়মের ওপর ক্ষোভ মেটাতে বা নিজের স্বাধীনতা জাহির করতে তারা ইচ্ছা করে কাজ ফেলে রাখে। এর সহজ সমাধান হলো, যেখানে নিজেকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত মনে হয়, তেমন পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে। কাজটি অন্য কারও জন্য নয়, বরং নিজের স্বার্থে ও নিজের কাজের মান অনুযায়ী করার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে।

দ্য থ্রিল সিকার বা রোমাঞ্চপ্রিয়

ডেডলাইনের ঠিক আগমুহূর্তে তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে কাজ করার যে উত্তেজনা বা থ্রিল, তা এরা উপভোগ করে থাকে। তাই শেষ মুহূর্তের আগে এরা নড়াচড়া করে না। এই অভ্যাসের কারণে ক্যারিয়ার বা স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা ভাবতে হবে। মুক্তি পাওয়ার উপায় হলো, নিজের কাজের ডেডলাইন নিজেকে তৈরি করতে হবে এবং যখন কাজের এনার্জি বেশি থাকবে তখন কাজ শেষ করার রুটিন তৈরি করতে হবে।

দ্য হেডোনিস্ট বা আমোদপ্রিয়

এরা ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানের তাৎক্ষণিক আনন্দ বা আরামকে বেশি প্রাধান্য দেয়। কঠিন বা বিরক্তিকর কাজের চেয়ে বিনোদন বা আড্ডায় মজে থাকা এদের স্বভাব। এই অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে কাজের ভেতর থেকে নিজের অনুপ্রেরণা খুঁজে বের করতে হবে। কাজের জায়গা থেকে সব ধরনের প্রলোভন ও বিনোদনের উপাদান সম্পূর্ণ দূরে রাখতে হবে।

দ্য বার্ন আউট বা ক্লান্ত-বিধ্বস্ত

অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক চাপ অথবা কোনো নিরর্থক কাজে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার কারণে এরা মানসিকভাবে নিঃশেষ হয়ে পড়ে। এতটাই নিঃশেষ হয়ে পড়ে যে কোনো কাজ করার আর শক্তি থাকে না। এ ক্ষেত্রে নিজের যত্ন নেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। মুক্তি পেতে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। কাজ কম ক্লান্তিকর ও আনন্দদায়ক করার চেষ্টা করতে হবে।

আলসেমি আপনার যেসব ক্ষতি করছে

ড. শাতজের গবেষণা অনুযায়ী, ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি আলসেমি জীবন, ক্যারিয়ার এবং অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

আর্থিক ক্ষতি

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রতি ৫ জনে ১ জন ক্রনিক আলসেমির শিকার। গবেষণায় দেখা গেছে, আলসেমির স্কেলে প্রতি ১ পয়েন্ট ঘাটতির কারণে গড়ে একজন মানুষের বার্ষিক আয় ২১ হাজার ডলার পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এ ছাড়া আমেরিকায় আলসেমির কারণে কর্মক্ষেত্রে দৈনিক গড়ে ২ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। এতে নিয়োগকর্তাদের প্রতিবছর কর্মীপ্রতি প্রায় ২০ হাজার ডলারের ক্ষতি করে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন

সময়মতো কাজ শেষ না করলে সহকর্মীদের অতিরিক্ত চাপ নিতে হয়। সেখান থেকে কর্মক্ষেত্রে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পারিবারিক দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংসারে ঝগড়া-বিবাদ বাড়ে এবং সামাজিক সম্পর্কগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি

কাজ জমিয়ে রাখার মানসিক চাপ থেকে অপরাধবোধ, লজ্জা ও অনুশোচনা তৈরি হয়। শুধু তা-ই নয়, সময়মতো ঘুমাতে না যাওয়া, ব্যায়াম না করা কিংবা শারীরিক অসুস্থতায় চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয় আলসেমির কারণে।

বার্ন আউট কাটাতে সেরা দাওয়াই

বার্ন আউট কাটাতে শুধু ঘরে বসে বিশ্রাম নেওয়াই যথেষ্ট নয়। ২০২৫ সালের একটি গবেষণা রিভিউ এবং অ্যারিজোনার থেরাপিস্ট লোরেন মুরহেডের মতে, জীবন থেকে ক্রনিক স্ট্রেস ও ক্লান্তি দূর করতে একটি সুন্দর শখের কাজ বা পুরোনো কোনো শখ নতুন করে শুরু করা সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। একটি ভালো শখ মানুষের মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা দ্রুত কমিয়ে আনে। মনের ভেতর আনন্দ ও শিথিলতা তৈরি করে। শখ জীবনের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

সূত্র: ডেইলি মেইল, ইনডিপেনডেন্ট

ফরাসি নারীদের ঝলমলে সুন্দর চুলের গোপন রহস্য জেনে নিন

অফিসে অনবরত হাই উঠছে? চাঙা হতে যা করবেন

ঘরে স্প্যানিশ রোমান্টিক আবহ আনতে চান? জেনে নিন কোন বিষয়গুলোয় লক্ষ রাখতে হবে

বৃষ্টির দিনে টপস

পিঠের ব্রণের সমস্যা সমাধানে

দীর্ঘ সময় এসি রুমে বসে কাজ, ত্বকের ভালোর জন্য যা করতে হবে

যে কারণে ব্রিটিশ নারীদের এত সুন্দর দেখায়

শিশুদের কাল্পনিক বন্ধু নিয়ে চিন্তিত? জেনে নিন এর উপকারী দিক

চুল সব সময় ফ্রিজি হয়ে থাকে? যত্নে রাখতে যা করবেন

চায়ের মধ্যেও ভেজাল! কী রাসায়নিক মেশানো হয়, চেনার উপায় কী