অনেকে অলসতা করে ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ জমিয়ে রাখেন। ভাবেন, ‘আজ থাক, কাল করা যাবে।’ কিন্তু এই অবহেলা অজান্তেই আপনার ঘরকে পরিণত করতে পারে রোগব্যাধি এবং অস্বস্তির এক ভাগাড়ে। নিয়মিত ঘর পরিষ্কার না করলে ঠিক কী কী বিপদ ঘটতে পারে, তা না জানলে স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। সামনের রমজানের শুরুর দিন থেকে ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন। পরিষ্কার ঘর শুধু চোখের শান্তি নয়, এটি একটি সুস্থ জীবনের পূর্বশর্ত। আপনার ঘরকে রোগমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে আজই ঝেড়ে ফেলুন অলসতা।
অদৃশ্য শত্রুর ডাস্ট মাইট
ঘরের ধুলোবালি মানেই শুধু ময়লা নয়, এতে জন্ম নেয় ডাস্ট মাইট নামের একধরনের আণুবীক্ষণিক জীব। এরা মানুষের ঝরে পড়া মৃত চামড়া খেয়ে বেঁচে থাকে। বিছানা, সোফা এবং কার্পেটে এরা দ্রুত বংশবিস্তার করে, যা থেকে হাঁপানি বা সারা বছর স্থায়ী অ্যালার্জির সমস্যা তৈরি হতে পারে। আর বসন্তের এই সময়ে ধুলোবালি এমনিতেই ঘরে বেশি প্রবেশ করে। কারণ, বাইরের শুষ্ক পরিবেশে এদের অবাধ বিচরণ।
ছত্রাক বা মোল্ডের আক্রমণ
বাথরুম, কাপড় শুকানোর জায়গা বা জানালার কোণে আর্দ্রতা বেশি থাকে। সেখানে খুব দ্রুত ছত্রাক বা মোল্ড জন্মে। এই ছত্রাক বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকে চুলকানির সৃষ্টি করে। ভিনেগার বা ব্লিচ দিয়ে নিয়মিত এই জায়গাগুলো পরিষ্কার না করলে এটি পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
পোকামাকড় ও জীবাণুর উপদ্রব
রান্নাঘরে জমে থাকা ময়লা বা পচা খাবার মাছি এবং তেলাপোকাকে আকৃষ্ট করে। ডাস্টবিন নিয়মিত পরিষ্কার না করলে বা বর্জ্য জমিয়ে রাখলে সেখানে মারাত্মক সব ব্যাকটেরিয়া জন্মে। সেখান থেকে ডায়রিয়া বা ফুড পয়জনিং হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোযোগ
বিভিন্ন গবেষণার ফল জানাচ্ছে, অগোছালো ঘর মানুষের মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঘরের বিশৃঙ্খলা মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একটি গোছানো ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং কাজের উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিনিসপত্র বা অগোছালো তারের কারণে যেকোনো সময় হোঁচট খেয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য অগোছালো ঘর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বাতাসের মান ও দুর্গন্ধ
দীর্ঘদিন ঘর পরিষ্কার না করলে এয়ার ডাস্ট বা ভেন্টিলেশন সিস্টেমে ধুলো জমে যায়। এতে ঘরের ভেতরের বাতাস দূষিত হয়ে পড়ে। এ ছাড়া পোষা প্রাণীর লোম, ভেজা কাপড় বা রান্নাঘরের ময়লা থেকে একধরনের ভ্যাপসা দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এগুলো আপনার ঘরের পরিবেশ অসহনীয় করে তুলবে।
ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখার কিছু টিপস
প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট: প্রতিদিন অল্প অল্প করে গোছানোর অভ্যাস করুন। এতে কাজ জমে পাহাড় হবে না। নিজেও স্বস্তি পাবেন।
বিছানার চাদর: সপ্তাহে অন্তত একবার গরম পানিতে বিছানার চাদর ও বালিশের কভার ধুয়ে নিন। ঘুম হবে আরামে।
আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ: বাথরুম বা রান্নাঘর যেন স্যাঁতসেঁতে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। স্যাঁতসেঁতে ঘরবাড়ি জীবাণুর উৎপাদনকেন্দ্র।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন বাইরে ফেলুন এবং ডাস্টবিন জীবাণুমুক্ত রাখুন।
সূত্র: স্টার্স ইনসাইডার