পেটের সঙ্গে মনের প্রেম নাকি আদি ও অকৃত্রিম। প্রেমে ধাক্কা খেলে যেমন বুক ছ্যাঁৎ করে ওঠে, বিরিয়ানির সুবাস কিংবা এক বাটি চটপটিতে কিন্তু মনটা ঠিকই আনন্দে নাচতে শুরু করে। আর এখানেই চিকিৎসাবিজ্ঞান হাত তুলে বলছে, ‘জি ভাই, পেটের মেজাজের ওপরই নির্ভর করে মাথার মেজাজ!’ আমরা যা খাই, তা শুধু আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যই নয়, বরং মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘নিউট্রিশনাল সাইকিয়াট্রি’ বা পুষ্টিবিষয়ক মানসিক চিকিৎসা নামের একটি শাখা গড়ে উঠেছে, যা মূলত খাবার ও মানসিক স্বাস্থ্যের এই সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে।
তুচ্ছ একচিলতে বিরিয়ানি কিংবা ভুলভাল ভাজাপোড়া হয়তো জিবে মুহূর্তের প্রেম জাগায়, কিন্তু মনের দরবারে নিয়ে আসে চরম অশান্তি। তাই মন ভালো রাখার চাবিকাঠি খুঁজতে আমাদের কোনো দূর পর্বতে যেতে হবে না, সোজা রান্নাঘরের হাঁড়ি-কড়াইয়ের দিকে তাকালেই চলবে। জিবকে সামলে পেটের অণুজীবদের একটু আদর-যত্ন করলে মাথার বুদ্ধি আর মন—দুটোই যে চাঙা হয়ে উঠবে। এই কথা একদম হলফ করে বলা যায়।
অন্ত্র ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক
আমাদের পাকস্থলী বা অন্ত্রকে বলা হয় শরীরের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’। মানব অন্ত্রে ট্রিলিয়নসংখ্যক অণুজীব বাস করে। এই অণুজীবগুলো একাধিক নিউরোট্রান্সমিটার বা রাসায়নিক বার্তা তৈরি করে, যা মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় এবং আমাদের ঘুম, ব্যথা, ক্ষুধা ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা যেসব খাবার খাই, সেগুলো এসব অণুজীবে পুষ্টি ও ভারসাম্য রক্ষা করে, যা পরোক্ষভাবে মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যেসব খাবার খাবেন
সুষম ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার মেজাজ ভালো রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে বড় ভূমিকা পালন করে; বিশেষ করে ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ বা ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান
যেসব খাবার ও অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন
কোনো মানসিক ব্যাধির জন্য ওষুধ খেলে খাদ্যাভ্যাসে বড় কোনো পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, কিছু খাবার ওষুধের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া শুধু খাদ্যতালিকা পরিবর্তনই মানসিক রোগের একমাত্র চিকিৎসা নয়; প্রয়োজনবোধে পেশাদার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: হেলথ লাইন, ওয়েব মেড