ব্যয়বহুল বোটক্স বা কেমিক্যাল পিলের চেয়ে জীবনযাত্রার ছোট ছোট অভ্যাস ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে অনেক বেশি কার্যকর। আমাদের রোজকার কিছু ভুল নির্বাচন অজান্তেই কোলাজেন উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং বলিরেখা ও ডার্ক স্পটের পথ প্রশস্ত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনেই এমন কিছু অভ্যাস, যা ত্বককে সময়ের আগেই বুড়িয়ে দিচ্ছে। তাই বুড়িয়ে যাওয়ার আগে ত্বকের বয়স বেঁধে রাখতে সতর্ক থাকতে হবে আগে থেকে। ত্বকের যত্নে কোনো ‘ম্যাজিক বুলেট’ নেই। দামি কসমেটিকস ব্যবহারের চেয়ে জীবনযাত্রার এই ছোট পরিবর্তনগুলো দীর্ঘ মেয়াদে আপনার ত্বক সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে।
ঘুমের সময় আমাদের শরীর নিজেকে মেরামত করে। আর ত্বকের জন্য কোলাজেন পুনর্গঠন করে। নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টার কম ঘুমালে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। এই কর্টিসল কেবল ব্রণের কারণই নয়, এটি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট করে দেয়। ফলে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক ও নির্জীব। একইভাবে অতিরিক্ত মানসিক চাপ ত্বকে একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ত্বকের অকালবার্ধক্যের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। এটি ত্বকের কোলাজেন গঠন ধ্বংস করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত এসপিএফ ৩০ যুক্ত সানস্ক্রিন প্রতিদিন ব্যবহার করা উচিত এবং রোদে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা পর তা পুনরায় লাগানো জরুরি। অধিকাংশ মানুষ একটি সানস্ক্রিনের বোতল গ্রীষ্মকালজুড়ে ব্যবহার করেন, যা আসলে ভুল। পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যবহার না করলে ত্বক দ্রুত ঝুলে পড়ে।
অতিরিক্ত মিষ্টি, সাদা রুটি বা প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আর এই সবকিছুই নতুন কোলাজেন তৈরিতে বাধা দেয়। এ ছাড়া উচ্চ তাপে রান্না করা খাবার বা পোড়া মাংসে থাকা ফ্রি-র্যাডিক্যাল ত্বকের কোষের ক্ষতি করে। ভিটামিন সি, জিংক এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের অভাব ত্বককে জৌলুশহীন করে তোলে।
শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব থাকলে ত্বকের কোষগুলো সংকুচিত হয়ে যায়; যাকে অনেক সময় বলিরেখা ভেবে ভুল করা হয়। একে বলা হয় ‘ডিহাইড্রেশন লাইন’। অন্যদিকে, মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো ত্বকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করে এবং পিগমেন্টেশনের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা ত্বকের অকালবার্ধক্যের অন্যতম কারণ।
শহরের ধোঁয়া ও ধূলিকণা ত্বকের প্রতিরক্ষামূলক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম না করলে রক্তসঞ্চালন কমে যায়। শরীরচর্চা করলে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ত্বকে পুষ্টি পৌঁছায় এবং কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা ত্বকের গভীর স্তরকে পুরু ও টানটান রাখে।
নিয়মিত স্কিন কেয়ার: সকালে ও রাতে মেকআপ এবং দূষণ পরিষ্কার করে ময়শ্চারাইজার লাগান।
রেটিনল ও ভিটামিন সি: ডার্ক স্পট কমাতে এবং কোলাজেন বাড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শে এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
রান্নার পদ্ধতি পরিবর্তন: ভাজা বা পোড়া খাবারের বদলে সেদ্ধ বা ভাপে রান্না করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।
সূত্র: হেলথ শর্ট, বিজনেস ইনসাইডার