হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

আপনি কি মানসিকভাবে ক্লান্ত? জেনে নিন এই ১০ লক্ষণ দেখে

ফিচার ডেস্ক  

অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও আপনি শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করতে পারেন। ছবি: পেক্সেলস

মানসিক ক্লান্তির অনুভূতি রাতারাতি হয় না। এটি ধীরে ধীরে শরীরে ও মনে বাসা বাঁধে। অনেক সময় একে সাধারণ মানসিক চাপ, ক্লান্তি কিংবা জীবনের ব্যস্ত কোনো সময়ের স্বাভাবিক অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করি আমরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আমাদের কর্মশক্তি, মনোযোগ, মেজাজ এবং এমনকি শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর এমন প্রভাব ফেলতে শুরু করে, যা কেবল বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয় না।

এটি সাধারণত কয়েকটি ধাপে বা পর্যায়ে দেখা দেয়। শুরুতে থাকে মৃদু মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত কাজের বোঝা। যা পরবর্তী সময়ে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং কাজের প্রতি আগ্রহ বা আনন্দ কমে যাওয়ার মতো অবস্থায় রূপ নেয়। সমস্যাটি যাতে আরও গুরুতর না হয়ে ওঠে এবং আপনার সুস্থতা বজায় থাকে, সে জন্য এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো জেনে রাখা ভালো।

অস্থিরতা কাজ করা

মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির একটি বড় লক্ষণ হলো, কখনোই সতেজ অনুভব না করা। হয়ত কাজের ফাঁকে আপনি পর্যাপ্ত বিরতি নিচ্ছেন না অথবা কোনো বিরতি ছাড়াই একটার পর একটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। যখন আপনি একটু বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন স্থির হয়ে বসা বা মনকে শান্ত করা আপনার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

নিয়মিত রাত জাগা

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণে সবার আগে যে বিষয়গুলোর অবনতি ঘটে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ঘুম। কোনো বড় কাজ শেষ করার জন্য আপনি রাত জেগে থাকছেন কি না, কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর ঘুমাতে অসুবিধা কি না সেদিকে খেয়াল রাখুন। সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন এবং টানা ৩ মাস ধরে যদি আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে থাকে তাহলে, ঘুমের এই সমস্যা আপনার তীব্র মানসিক অস্থিরতাকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

আপনার খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও মানসিক অবসাদের একটি লক্ষণ হতে পারে। আপনি যদি হঠাৎ করে স্বাভাবিকের চেয়ে কম খান, কোনো বেলা খাওয়া বাদ দেন অথবা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলন। তবে বুঝতে হবে ক্ষুধা নয় বরং মানসিক চাপের ফলেই এমনটা হচ্ছে।

উদ্য়ম হারিয়ে ফেলা

আপনার মধ্যে কোনো ইতিবাচক উদ্দীপনা কাজ করছে না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজেকে টেনেহিঁচড়ে কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়া কিংবা আগে যেসব কাজ উপভোগ করতেন সেগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলার অর্থ হতে পারে যে, আপনি ‘বার্নআউট’ বা চরম মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।

কর্মক্ষেত্রে বা সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে আপনি হয়তো একসময় সবার ভরসা ছিলেন, কিন্তু এখন আর সেসব করার মতো উদ্দীপনা খুঁজে পাচ্ছেন না। আগে উপভোগ্য ছিল এমন সব কাজও একঘেয়ে মনে হচ্ছে এর কারণ হতে পারে আপনার অতিরিক্ত মানসিক চাপ।

নিয়মিত অসুস্থবোধ করা

আপনি হয়তো সব সময়ই অসুস্থবোধ করছেন, সর্দি-কাশিই কিছুতেই সারছে না, অল্প কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার এই লক্ষণটির কারণ হতে পারে, মানসিক চাপ যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে আপনার শরীরের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

দুর্বল অনুভব করা

আপনার মনে হতে পারে যে আপনার শরীরে একদমই শক্তি নেই। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও আপনি শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করতে পারেন। এমনও হতে পারে যে, সকালে ঘর থেকে বের হতে আপনার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বাড়তি ১০ মিনিট সময় লাগছে। অথবা আপনার নিয়মিত শরীরচর্চা বা ব্যায়ামটিই এখন অনেক কঠিন মনে হচ্ছে, অথচ এ ক্ষেত্রে কোনো কিছুই বদলায়নি।

মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া

কোনো মিটিং বা আলোচনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না। অবসরের সময় ভালো কোনো বই পড়ার সময় একই লাইন বারবার পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া এমন যদি হয়, সাধারণ কাজগুলো সারতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগে যাচ্ছে বা মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হচ্ছে, তবে বুঝতে হবে আপনার ওপর কাজের চাপ অতিরিক্ত এবং আপনি ‘বার্নআউট’ বা মানসিক ক্লান্তির প্রাথমিক লক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া

আপনি কি ঘনঘন বন্ধুদের নানান পরিকল্পনা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ব্যাপারটি এড়ানোর জন্য নানা অজুহাত খুঁজছেন? একা সময় কাটানো অনেক সময় স্বাস্থ্যকর ও প্রয়োজনীয় এটা ঠিক। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে এটি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা নেতিবাচকতায় রূপ নিতে পারে। আপনি হয়তো লক্ষ্য করবেন যে, ধীরে ধীরে আপনি মানুষের কাছ থেকে সরে আসছেন, কম সাড়া দিচ্ছেন; মোটকথা দূরত্ব রাখতেই আরাম হচ্ছে। সেক্ষেত্রে একটু খেয়াল করুন, যাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছেন সেটা তাদের সমস্যার জন্য নাকি নিজের মানসিক চাপের কারণে।

করণীয়

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ক্লান্তির অন্যতম কারণ হতে পারে। কিন্তু এ সমস্যা সমাধানে কখনো কখনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সিলরের শরণাপণ্ন হওয়া জরুরি। সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ সমস্যা বুঝে সমাধানের পথ বলে দিতে পারেন। এর পাশাপাশি বছরে নির্দিষ্ট কিছু দিন ছুটি নিয়ে বিশ্রাম নেওয়া, ভ্রমণ, নিয়মতান্ত্রিক জীবন, শখের চর্চা ইত্যাদির মাধ্য়মেও জীবনে ছন্দ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। নিজেকে বলতে হবে, আমি ঠিক থাকলেই সব ঠিক!

সূত্র: হেলথ লাইন

চা তৈরির পর টি ব্যাগ ফেলে না দিয়ে যা করতে পারেন

রোজ যে কাজগুলো করার মাধ্যমে ব্রিটিশরা ঘর পরিচ্ছন্ন রাখেন

কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব সানস্ক্রিন বেছে নেবেন যেভাবে

অতিরিক্ত বৃষ্টি ও আর্দ্রতায় ইনডোর প্ল্যান্ট বাঁচাবেন যেভাবে

লিওনেল মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর রূপের রহস্য জেনে নিন

অনুভূতির শর্টকাট ইমোজি

আপেল সতেজ রাখার কৌশল ও এর পুষ্টিগুণ

সারা দিন একনাগাড়ে বৃষ্টিতে ঘর সতেজ রাখবেন যেভাবে

যেভাবে বিয়ের আগেই ১৮ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন আমির খান

আপনি কোন ধরনের অলস, জেনে নিন তা থেকে মুক্তির উপায়