‘ফোর্বস’-এর ২০২৬ সালের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ পাঁচ ধনী নারীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন একজন ভারতীয় এবং চারজন চীনা নাগরিক। তাঁদের সম্মিলিত নিট সম্পদের পরিমাণ ১২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই তালিকা এশিয়ার ধনী নারীদের তালিকায় ভারত ও চীনের আধিপত্য স্পষ্ট করেছে। এশিয়ার ধনী নারীদের এই তালিকাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রথাগত পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি ওষুধশিল্প এবং প্রযুক্তির মতো আধুনিক খাতে নারীরা নিজেদের যোগ্যতায় শীর্ষস্থানে উঠে আসছেন। যাঁরা আছেন এই তালিকায়,
সাবিত্রী জিন্দাল, ভারত
জিন্দাল গ্রুপের চেয়ারপারসন সাবিত্রী জিন্দাল। প্রতিষ্ঠানটি স্টিল, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট এবং অবকাঠামো ব্যবসা খাতে বিস্তৃত। ২০০৫ সালে স্বামী ও পি জিন্দালের মৃত্যুর পর এই বিশাল শিল্পগোষ্ঠীর দায়িত্ব নেন সাবিত্রী। বর্তমানে তাঁর পুত্ররা বিভিন্ন ব্যবসা স্বাধীনভাবে পরিচালনা করছেন। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। তিনি বিশ্বের ধনীদের তালিকায় ৫৬তম। গত বছরের তুলনায় সাবিত্রী জিন্দালের সম্পদ ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তাঁর চার ছেলে পৃথকভাবে তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ছবি: ফোর্বস
চীনের চার ধনী নারী
ঝেং শুলিয়াং
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চীনের ঝেং শুলিয়াং। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। তিনি চায়না হংকিয়াও গ্রুপের ভাইস চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। তাঁর প্রয়াত স্বামী ঝাং শিপিং এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে তাঁদের সন্তান ঝাং বো এবং ঝাং হংক্সিয়াও এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
ঝং হুইজুয়ান
এশিয়ার তৃতীয় ধনী নারী হলেন চীনের ঝং হুইজুয়ান। তাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। ৬৫ বছর বয়সী এই নারী মূলত রসায়নের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৯৫ সালে মাত্র ১০ জন কর্মী নিয়ে তিনি নিজের একটি ওষুধ কোম্পানি শুরু করেন। সেটির নাম হ্যানসোহ ফার্মাসিউটিক্যাল। গত এক বছরে তাঁর সম্পদ প্রায় ৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তিনি বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী স্বনির্ভর বা ‘সেলফ-মেড’ নারী হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের উন্নতমানের ওষুধ তৈরি করে।
কং সিউ-হিং
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন হংকংয়ের কং সিউ-হিং। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। তিনি হংকংয়ের প্রভাবশালী আবাসন প্রতিষ্ঠান সান হাং কাই প্রোপার্টিজের সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত কোয়ক তাক-সেং-এর স্ত্রী। ৯৬ বছর বয়সী এই নারী তাঁর পারিবারিক ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করেন। গত বছরের তুলনায় তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঝু কুনফেই ও পরিবার
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ঝু কুনফেই এবং তাঁর পরিবার। তিনি লেন্স টেকনোলজি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। একসময় কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করা ঝু কুনফেই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তিশিল্প উদ্যোক্তাদের একজন। তাঁর প্রতিষ্ঠান অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের মতো বড় বড় ব্র্যান্ডকে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের গ্লাস স্ক্রিন সরবরাহ করে। এমনকি টেসলা ও বিওয়াইডি-র মতো বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাদেরও তিনি যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেন।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য স্বনির্ভর ধনী নারী
এশিয়ার শীর্ষ পাঁচের বাইরেও চীনের আরও দুজন নারী ব্যবসায়ী বিশ্বমঞ্চে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। তার মধ্যে একজনের নাম ফ্যান হংওয়েই। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তিনি হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের চেয়ারম্যান। ব্যবসা শুরুর আগে তিনি একজন হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থান বিশ্বে ৫০৯তম। অন্যজন হলেন উ ইয়াজুন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। তাঁর আয়ের মূল উৎস হলো আবাসন উন্নয়নকারী গ্রুপ লংফোর গ্রুপ হোল্ডিংসের শেয়ার। বিশ্বে তাঁর বর্তমান অবস্থান ৫৭৪তম।
সূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস