হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

বিচ্ছেদে ভেঙে না পড়ে বদলে ফেলুন জীবন, জেনে নিন উপায়

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

বিচ্ছেদকে একটি ‘হিরোস জার্নি’ হিসেবে কল্পনা করুন। ভাবুন, আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের পাহাড় ডিঙাচ্ছেন। ছবি: পেক্সেলস

ঘরের এমন অনেক জিনিস থাকে, যা নষ্ট হয়ে গেলে আমরা কষ্ট পাই। কষ্টের রকম ভিন্ন হলেও কষ্ট হয়, এটি সবার ক্ষেত্রেই সত্যি। সেখানে যদি সম্পর্ক ভাঙে, তাহলে সে কষ্ট গভীরভাবে মানুষের মনে ক্ষত সৃষ্টি করে। তবে জীবনমুখী পরামর্শ হলো, বিচ্ছেদে ভেঙে না পড়ে বদলে ফেলুন জীবন। কিন্তু হ্যাঁ, সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্রণা সহ্য করা সহজ নয়। যখন একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, তখন মনে হয় পৃথিবীটা থমকে গেছে। জীবনের এ কঠিন সময়টিই হতে পারে নিজেকে নতুন করে চেনার সুযোগ। এমনকি এ সময়টাই হতে পারে নিজেকে গড়ে তোলার সবচেয়ে বড় সুযোগ। বিচ্ছেদ কেবল একটি শেষ নয়; বরং এটি আত্মিক রূপান্তরের একটি শক্তিশালী অনুঘটক।

স্মৃতি ও মনের রসায়ন: ড্যানিয়েল কাহনেমানের তত্ত্ব

নোবেলজয়ী মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল কাহনেমান দেখিয়েছেন, একটি বিচ্ছেদ আমরা কীভাবে সামলাচ্ছি, তার ওপর নির্ভর করে আমাদের স্মৃতি সেই সম্পর্কটিকে কীভাবে মনে রাখবে। কাহনেমানের গবেষণা অনুসারে, কোনো অভিজ্ঞতার শেষটা যদি খুব তিক্ত হয়, তবে আমাদের মস্তিষ্ক সেই সম্পর্কের সব ভালো স্মৃতিকেও তিক্ততায় ঢেকে দেয়। এতে সেই অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শেখার ক্ষমতা আমরা হারিয়ে ফেলি। তাই সম্পর্ক শেষ করার প্রক্রিয়াটি যতখানি সম্ভব মার্জিত হওয়া প্রয়োজন। সুন্দর সমাপ্তি আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার রসদ জোগায়। বিচ্ছেদের পর সাময়িকভাবে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। তবে মানুষ অত্যন্ত সহনশীল। এক বছরের মধ্যেই অধিকাংশ মানুষ তার হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়।

বিচ্ছেদের পর মস্তিষ্কের যুদ্ধ

গবেষণায় দেখা গেছে, বিচ্ছেদের পর আমাদের মস্তিষ্ক সক্রিয়ভাবে শিখতে শুরু করে। বিচ্ছেদের শিকার হওয়া নারী ও পুরুষের মস্তিষ্কের ইমেজিং করে দেখা গেছে, মস্তিষ্কের যে অংশগুলো লাভ এবং ক্ষতির হিসাব করে, সেখানে অস্বাভাবিক তৎপরতা চলে। এর মানে হলো, আমাদের মস্তিষ্ক তখন বোঝার চেষ্টা করে, কোথায় ভুল হয়েছিল। জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, সঙ্গী হারানো বা প্রত্যাখ্যাত হওয়া আমাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়েরই অংশ। বিচ্ছেদ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রে অস্থিরতা সৃষ্টি করলেও এটি মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য আরও ভালো সঙ্গী নির্বাচনের শিক্ষা দেয়। সাবকের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবলে আবেগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। যাঁরা সাবেকের ছবি দেখার সময় তাঁদের খারাপ গুণগুলো নিয়ে ভেবেছেন, তাঁরা অন্যদের চেয়ে দ্রুত সেরে উঠেছেন বলে বিভিন্ন গবেষক দেখিয়েছেন তাঁদের গবেষণায়।

জীবন বদলে ফেলার ছয় ধাপ

গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিন

আপনার সম্পর্কের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ ছিল, সেটি ফুরিয়ে গেছে—এ সত্যটি মেনে নিন। সম্পর্ক টেকেনি মানেই আপনি ব্যর্থ নন। সেই সম্পর্কের বিষাক্ত বা যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতিগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করবেন না; বরং সেগুলোকে জীবনের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করুন। এ সাহসিকতাই আপনাকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।

জীবনে স্থিরতা আনুন

সম্পর্ক অনেকটা সমুদ্রের মতো। শুরুর উত্তাল আনন্দ শেষ হলে যখন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, তখন বড় বড় ঢেউ বা ব্রেকার্স আসে। অনেকে এই ঢেউ দেখে ভয় পায়। কিন্তু সুস্থ সম্পর্কের জন্য এ ঢেউগুলো পাড়ি দেওয়া জরুরি। প্রতিটি সংঘাত বা ঝগড়ার সময় পুরোনো অভ্যাসে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে শান্ত হয়ে ভাবুন। নিজের দায়বদ্ধতা স্বীকার করুন। এতে আপনি কেবল অন্যের সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গেও একটি টেকসই সম্পর্ক গড়তে শিখবেন।

অনুভূতির গভীরে যাওয়ার চেষ্টা

পুরোনো কোনো কষ্টের স্মৃতি বর্তমানের ছোট ছোট বিষয়ে আমাদের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলে। এই ইমোশনাল ট্রিগারগুলো চেনা জরুরি। নিজের অনুভূতিগুলো চেপে না রেখে বরং নির্জনে বসে সেগুলোর মুখোমুখি হোন। প্রয়োজনে ডায়েরি লিখুন বা বিশ্বস্ত বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কেন নির্দিষ্ট একধরনের মানুষের প্রতি বারবার আকৃষ্ট হন। এই আত্মজিজ্ঞাসা আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে।

নিজের সঙ্গেই নিজের বিচ্ছেদ

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গিয়ে অনেকে নিজের ইচ্ছা, অনিচ্ছা ও সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে বসেন। তাই বিচ্ছেদের পর সেই ‘পুরোনো আপনি’র সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটান। আপনার যে সংস্করণটি কেবল অন্যকে খুশি করতে নিজেকে বিলীন করে দিয়েছিল, তাকে বিদায় জানান। আবারও নিজের প্রকৃত সত্তার সঙ্গে যুক্ত হোন। একটি সম্পর্ক তখনই সুন্দর হয়, যখন দুজন মানুষ আলাদাভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকে।

মোহ ত্যাগ করে বাস্তবের পথে

বিচ্ছেদের পর আমরা প্রায়ই সম্পর্কের অলীক কল্পনা বা ফ্যান্টাসি আঁকড়ে ধরে থাকি। কিন্তু যা হতে পারত, তা নিয়ে পড়ে না থেকে যা বাস্তবে ঘটেছে তাকে গ্রহণ করাই হলো মুক্তি। নিজের সাবেক সঙ্গীর কাছ থেকে কোনো কৈফিয়ত বা সান্ত্বনা পাওয়ার আশা করবেন না। প্রকৃত নিরাময় আপনার ভেতর থেকে আসতে হবে। বিচ্ছেদ মানেই জীবনের যবনিকা নয়। এটি একটি নতুন ভোরে পৌঁছানোর অনিশ্চিত পথ মাত্র। নিজের প্রতি ধৈর্য ধরুন এবং বিশ্বাস রাখুন। এ রূপান্তরই আপনাকে এক পূর্ণাঙ্গ জীবনের স্বাদ দেবে।

নতুন এক সত্তার পুনর্জন্ম

বিচ্ছেদকে একটি ‘হিরোস জার্নি’ হিসেবে কল্পনা করুন। ভাবুন, আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের পাহাড় ডিঙাচ্ছেন। এ পথচলা শেষে আপনি যখন বের হয়ে আসবেন, তখন আপনি হবেন সম্পূর্ণ এক নতুন মানুষ। আপনার পুরোনো একটি অংশ হয়তো মারা গেছে। কিন্তু তার বদলে জন্ম নিয়েছে আরও শক্তিশালী এবং খাঁটি এক সত্তা।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে, স্টার্স ইনসাইডার

বজ্রপাত হলে দুর্ঘটনা এড়াতে যা করবেন

কীভাবে কাটাবেন মেঘলা দিনের আমেজ, জেনে নিন

আজকের রাশিফল: শর্টকাট রাস্তা গর্তে ফেলবে, আর্থিক যোগ শুভ

সন্তান লালনপালনের ক্লান্তি দূর করার সহজ উপায় জেনে নিন

শিশুর হাতে স্মার্টফোন, আদর নাকি বিপদ

অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া কমানোর ৫ উপায় জেনে নিন

আজকের রাশিফল: যাকে বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবছেন, সে স্ক্রিনশট নেওয়ার অপেক্ষায় আছে

ঈর্ষা: সম্পর্কের এক অদৃশ্য দেয়াল এবং তা কাটিয়ে ওঠার উপায়

তপ্ত গরমে লম্বা চুলের সুরক্ষা ও স্টাইলের গাইডলাইন

নিজেকে ভালোবাসার এই ১০ সূত্র জানেন তো