একদিকে সূর্যের তেজ, অন্যদিকে পড়ার চাপ—দুটোই চলছে। গরমে সন্তানকে সুস্থ রাখতে বাড়তি যত্ন নিতে হবে। এই গরমে শিশুদের যেমন পরিচ্ছন্নতা মেনে চলার জন্য বোঝাতে হবে, তেমনি ডায়েট এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনও করে তুলতে হবে আবহাওয়া উপযোগী।
ছাদে কিংবা মাঠে বেশিক্ষণ রোদে থাকলে অথবা খেলে বেড়ালে শিশুদের সানবার্ন ও র্যাশ, হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া ছাড়াও দেখা দিতে পারে জ্বর, সর্দি-কাশির মতো বিভিন্ন উপসর্গ। এর পাশাপাশি বাইরে দীর্ঘ সময় খেলতে গেলে কিংবা বাইরের খাবার খেলে হতে পারে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা।
এখন কড়া রোদের সঙ্গে মুহূর্তে নেমে আসতে পারে ঝুম বৃষ্টি। তাপমাত্রার এই ঘন ঘন পরিবর্তনের ফলে জ্বর, সর্দি ইত্যাদি হওয়া খুব স্বাভাবিক বিষয়। তবে রোদ থেকে বাসায় ফিরে সরাসরি এসি ঘরে বসা, বারবার ঘরে-বাইরে করা, অসময়ে ঠান্ডা পানিতে গোসল করা, ঠান্ডা পানীয় পান করা ইত্যাদি নানা কারণে শরীরে তাপমাত্রার ওঠানামা হতে পারে। যেসব শিশুর ছোটবেলা থেকে ঠান্ডা লাগা অথবা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে, শরীরে তাপমাত্রা ঘন ঘন কমবেশি হওয়ার কারণে তাদের সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
দিনের বেলা সান প্রটেকশন ছাড়া সরাসরি সূর্যের আলোয় দীর্ঘক্ষণ থাকলে হতে পারে হিট র্যাশ, একজিমা ও সানবার্ন। শরীরে পানির ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। ক্লান্ত লাগাসহ শরীরে পানির ঘাটতি থেকে হতে পারে ইউরিন ইনফেকশনও।
এই গরমে পানিবাহিত এবং খাদ্যবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। এই বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া শরবত, কুলফি বা কাটা ফল ইত্যাদি শিশুসহ কারও স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়। ডায়রিয়া, টাইফয়েড বা অন্যান্য পেটের সমস্যার সাধারণ কারণ এগুলো। এ ছাড়া জন্ডিস, হেপাটাইটিস ‘এ’, আমাশয়ের মতো অসুখও শিশুদের হতে পারে বাড়ির বাইরের খাবার থেকে।
গরমে শিশুর দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা জরুরি। তার সঙ্গে প্রয়োজন সুষম খাবার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। যে বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে—
ডা. নূরজাহান বেগম, স্পেশালিস্ট, পেডিয়াট্রিক আইসিইউ, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা