হোম > জীবনধারা > খাবারদাবার

জেনে নিন বিশ্বসেরা ৫ সসের স্বাদ

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

টেস্ট অ্যাটলাস সম্প্রতি ২০২৬ সালের জন্য বিশ্বের সেরা ১০০টি সসের তালিকা প্রকাশ করেছে। ছবি: ফ্রিপিক

বিশ্বের সেরা খাবারের প্ল্যাটফর্ম টেস্ট অ্যাটলাস সম্প্রতি ২০২৬ সালের জন্য বিশ্বের সেরা ১০০টি সসের তালিকা প্রকাশ করেছে। ১৬ হাজারের বেশি ভোজনরসিকের রেটিং এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই তালিকা তৈরি করা হয়। সেখানে জায়গা করে নিয়েছে লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের জিবে জল আনা সব সস। এই তালিকায় জায়গা পাওয়া সেরা ৫টি সস এবং সেগুলোর পেছনের গল্প জানুন।

পেরুর ব্ল্যাক মিন্ট সস সালসা ওকোপা

পেরুর ব্ল্যাক মিন্ট সস সালসা ওকোপা। ছবি: টেস্ট অ্যাটলাস

পেরুর আরেকিউপা অঞ্চলের এই সস ভোজনরসিকদের কাছে জনপ্রিয়। এর প্রধান বিশেষত্ব হলো হুয়াকাটায় নামের একটি ভেষজ। এটি পেরুর ব্ল্যাক মিন্ট বা কালো পুদিনা নামে পরিচিত। এই সস তৈরিতে টাটকা পনির, আজি আমারিলো মরিচ, দুধ ও ব্ল্যাক মিন্ট ব্যবহার করা হয়। এর স্বাদ অনন্য এবং কিছুটা মাটির ঘ্রাণযুক্ত। ঐতিহ্যগতভাবে এটি সেদ্ধ আলুর সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। তবে পাস্তা, ভাজা ইউকা কিংবা সেদ্ধ ডিমের সঙ্গেও এটি চমৎকার মানিয়ে যায়।

পেরুর ঝাল জাদুকর আজি ক্রিওলো

পেরুর ঝাল জাদুকর আজি ক্রিওলো। ছবি: টেস্ট অ্যাটলাস

পেরুর আরও একটি জনপ্রিয় সস হলো আজি ক্রিওলো বা সালসা দে আজি। যাঁরা একটু ঝাল ও কড়া স্বাদ পছন্দ করেন, এটি তাঁদের জন্য। হলুদ আজি মরিচ ও তেলের মিশ্রণে তৈরি এই সস দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বাদেও তেমনি কড়া। অঞ্চলভেদে এটি মাঝারি থেকে তীব্র ঝাল হতে পারে। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ভাজা মাংস কিংবা মাছের পদের সঙ্গে এটি খেতে দারুণ। ইকুয়েডরেও এই সস প্রচলিত। তবে সেই আজি সস আর পেরুর এই সস একদম আলাদা। পেরুর সংস্করণটি হলুদ রঙের এবং বেশ ক্রিমি।

রসুনের রাজকীয় স্বাদে লেবাননের টুম সস

রসুনের রাজকীয় স্বাদে লেবাননের টুম সস। ছবি: টেস্ট অ্যাটলাস

মধ্যপ্রাচ্যের রাস্তার খাবার মানেই পাশে থাকবে সাদা ধবধবে, ক্রিমের মতো তুলতুলে টুম। এটি আসলে অত্যন্ত কড়া রসুনের সস। মজার বিষয় হলো, এটি তৈরিতে কোনো ডিম ব্যবহার করা হয় না। টাটকা রসুন, লবণ, লেবুর রস এবং তেলের ইমালশনের মাধ্যমে তৈরি হয়। এর গোপন রহস্য হলো খুব ধীরে ধীরে তেল মেশানো, যাতে এটি মেয়নেজের মতো ঘন কিন্তু বাতাসের মতো হালকা হয়। রসুনের মাঝখানের সবুজ অংশটি ফেলে দিলে এই সস তিতা হয় না। এই টুম সস শর্মা বা গ্রিলড চিকেনের সঙ্গে মানিয়ে নেয় বেশ ভালোভাবে।

ইতালির সুগো আল্লা জেনোভেস

ইতালির সুগো আল্লা জেনোভেস। ছবি: টেস্ট অ্যাটলাস

নামে জেনোভেস হলেও এই সসের উৎপত্তি আসলে ইতালির নেপলস শহরে। রেনেসাঁ যুগে জেনোয়ার অভিবাসীদের হাত ধরে এটি নেপলসে জনপ্রিয়তা পায়। এটি কোনো ঝটপট রেসিপি নয়। প্রচুর পেঁয়াজ, গাজর, সেলারি এবং গরুর মাংস বা ভিল অলিভ অয়েলে ২ থেকে ১০ ঘণ্টা ধরে অল্প আঁচে রান্না করা হয়। সাধারণত রিগাতোনি বা জিতি পাস্তার সঙ্গে এই ঘন সস পরিবেশন করা হয়। ওপরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় পেকোরিনো চিজ। দীর্ঘ সময় রান্নার ফলে পেঁয়াজগুলো গলে গিয়ে এক অপূর্ব স্বাদের গ্রেভি তৈরি করে।

রুমানিয়ার মুজদেই

রুমানিয়ার মুজদেই। ছবি: টেস্ট অ্যাটলাস

রসুনের সসের আরও একটি চমৎকার সংস্করণ হলো রুমানিয়ার মুজদেই। এর নাম এসেছে ‘মাস্ট অব গার্লিক’ কথাটি থেকে। রসুন, সূর্যমুখী তেল, গোলমরিচ এবং পানি এর মূল উপাদান। রসুনের কোয়াগুলো পিষে অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এই সস কখনো একদম পাতলা পানির মতো হয়, আবার কখনো বেশ ঘন। রুমানিয়ায় ভাজা মাছ বা ভাজা আলুর সঙ্গে মুজদেই ছাড়া খাবারের তৃপ্তি যেন অপূর্ণই থেকে যায়।

টেস্ট অ্যাটলাসের এই তালিকা শুধু খাবারের র‍্যাঙ্কিং নয়; এটি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতিফলন। প্রতিটি সসের পেছনে লুকিয়ে আছে কয়েক শ বছরের ইতিহাস। তাই পরবর্তী ভ্রমণে বা বাড়িতে নতুন কোনো রেসিপি রান্না করতে চাইলে এই সসগুলো তালিকায় রাখতে পারেন।

সূত্র: টেস্ট অ্যাটলাস

‘বস লেডি’র পোশাকে থাকুক আত্মবিশ্বাস ও আভিজাত্য

ঘরের কাজে শিশুদের যেভাবে সাহায্য করতে শেখাবেন

রমজান মাসে বাজার করুন পরিকল্পনা অনুযায়ী

ঘর গোছাতে ম্যাজিক ফর্মুলা

সঠিক নিয়ম জেনে ফ্রিজে খাবার রাখুন

যেভাবে তৈরি করতে পারেন ত্বকের উপযোগী রেটিনল জুস

দেশি বরইয়ের সালাদ

এই বসন্তে অফিসে তরতাজা থাকবেন যেভাবে

জানা-অজানার ভ্যালেন্টাইনস ডে

‘লং ডিসটেন্স রিলেশনশিপ’ যে কারণে চ্যালেঞ্জপূর্ণ