হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

ঘরে বসেই রিমোট দলকে পরিচালনা করবেন যেভাবে

ক্যারিয়ার ডেস্ক

ছবি: এআই

বর্তমানে কর্মজগৎ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। অফিসের চার দেয়াল ভেঙে কাজ ছড়িয়ে পড়েছে সবার ঘরের ডেস্কে, কখনো দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের কোনো প্রান্তিক অঞ্চলেও। রিমোট বা দূরবর্তী কাজ এখন আর সাময়িক কোনো সুযোগ নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের বাস্তবতা।

তবে রিমোট দল পরিচালনা কি শুধুই কয়েকটি জুম মিটিং বা অনলাইন টুল ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? বাস্তবতা বলছে, না। একটি রিমোট দলকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হলে প্রয়োজন নমনীয়তা, মানবিক বোধ এবং সৃজনশীল নেতৃত্বের সমন্বয়।

সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ

কোভিড-১৯-এর আগেই রিমোট কাজের ধারণা জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল। উন্নত অনলাইন যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টুলের কারণে এখন দূরত্ব আর কোনো বড় বাধা নয়। তবে পুরোপুরি রিমোট দল পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। সরাসরি অফিসে বসে কার্যকর হওয়া ব্যবস্থাপনা কৌশল সব সময় ভার্চুয়াল পরিবেশে কাজ নাও করতে পারে। অতিরিক্ত নজরদারি বা প্রতিটি কাজের খুঁটিনাটি খোঁজ নেওয়া রিমোট টিমের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে, মানসিক চাপ বাড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়।

রিমোট পরিচালনার চাবিকাঠি

রিমোট দলের সফল নেতৃত্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নমনীয়তা। একজন ভালো ম্যানেজার দলের কাজের ধরন, মানসিক অবস্থা এবং পরিস্থিতি বুঝে নিজের কৌশল বদলাতে জানেন। উদাহরণস্বরূপ, সপ্তাহে একবার ব্যক্তিগতভাবে সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা। এটি ভার্চুয়াল মিটিং হলেও সমান কার্যকর। শুধু কাজের আপডেট নয়, ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেওয়াটাও জরুরি। অনেক সময় কর্মীরা চাপের মধ্য দিয়ে গেলেও তা সরাসরি প্রকাশ পায় না।

কৌশল বদলানো প্রয়োজন

রিমোট দলের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কৌশলও বদলাতে হয়। যদি দলের মধ্যে উদ্দীপনার ঘাটতি দেখা যায়, তাহলে ছোট ছোট চেক-ইন মিটিং রাখা যেতে পারে। আলাদা চ্যাট রুমে হালকা আড্ডা বা অনানুষ্ঠানিক কথোপকথন দলকে একত্র রাখে। যাঁরা আগে কাজের প্রতিটি ধাপ খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতেন, তাঁদের জন্য রিমোট ব্যবস্থাপনায় ফলাফলের ওপর মনোযোগ দেওয়া বেশি কার্যকর। বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করলে অগ্রগতি বোঝা সহজ হয় এবং মাইক্রোম্যানেজমেন্টের প্রয়োজন কমে। ‘জুম ফ্যাটিগ’ এখন রিমোট কাজের একটি পরিচিত সমস্যা। তাই প্রতিদিন কিছু সময় মিটিংমুক্ত রাখা—যেমন দুপুর ১২টা থেকে ২টা বা সপ্তাহের একটি বিকেল—টিমের মনোযোগ ও কাজের গতি বাড়াতে সহায়ক।

সম্পর্কই টিমের শক্তি

গবেষণায় দেখা গেছে, রিমোট কাজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সহকর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের অভাব। এ জন্য নিয়মিত একান্ত বৈঠক, সাপ্তাহিক টিম মিটিংয়ে হালকা আলাপ এবং ভার্চুয়াল সামাজিক আয়োজন; যেমন জন্মদিন উদ্‌যাপন, অনলাইন গেম নাইট বা বই পড়ার ক্লাব—দলের ভেতরের দূরত্ব কমিয়ে আস্থা তৈরি করে।

কার্যকর যোগাযোগ

রিমোট টিমে সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো যোগাযোগ। কোন টুলে কি আলোচনা হবে—ইনস্ট্যান্ট মেসেজ, ই-মেইল বা ভিডিও কনফারেন্স—এটি সবার জানা থাকা জরুরি। সঙ্গে কাজ কীভাবে বরাদ্দ ও অগ্রাধিকার পাবে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অ্যাজাইল প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার টিমের কাজ দেখার এবং অগ্রগতি নিরীক্ষণ করার সুবিধা দেয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মিটিংয়ে সব সদস্যকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া, যাতে কেউ আলোচনার বাইরে না থাকে।

প্রত্যাশা স্পষ্ট করা

সাফল্যের জন্য টিমের কাছে প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি। সাফল্য বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তা পরিষ্কার করুন। বারবার লক্ষ্য বদলানো বা হঠাৎ প্রত্যাশা বাড়ানো এড়িয়ে চলুন। কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি। গ্রহণযোগ্য কাজের সময় ও উত্তর দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করলে কর্মীরা মানসিকভাবে স্বস্তি পায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ম্যানেজার নিজেও যেন সে সীমারেখা মেনে চলেন।

সাফল্য উদ্‌যাপন

রিমোট টিম হলেও সাফল্য উদ্‌যাপন থেমে থাকে না। অফিসে একসঙ্গে লাঞ্চ সম্ভব না হলেও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া বা ভার্চুয়াল উদ্‌যাপন টিমের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানবিক নেতৃত্বই পারে রিমোট টিমকে শক্তিশালী ও সমন্বিত করতে।

সূত্র: ডিসিই, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

যোগাযোগে দক্ষ হতে যেসব বিষয় জানা দরকার

প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে যা জানা জরুরি

পেশাজীবীদের জন্য ১০টি প্রয়োজনীয় দক্ষতা

কর্মক্ষেত্রে দ্বন্দ্ব নিরসনের কৌশল

কর্মক্ষেত্রে প্রোডাকটিভিটি বাড়ানোর ১০ উপায়

স্বপ্নজয়ের অজানা কৌশল

করপোরেট চাকরিতে প্রবেশের আগে যা জানা জরুরি

অফিসে চনমনে থাকবেন যেভাবে

সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করতে হবে

২০২৬ সালে বেশি ইন্টারভিউ কল পাওয়ার কৌশল