প্রযুক্তি খাতের নেতারা সাধারণত উচ্চশিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত। তবে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞানই একজন নেতাকে সফল করে তোলে না। প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, টিম পরিচালনা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে সবাইকে মানিয়ে নিতে কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা অপরিহার্য। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিই ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু। রিমোট ও হাইব্রিড কাজ, গ্রাহকসেবা, তথ্যনিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি অপরিহার্য। তাই সফট স্কিল, বিশেষ করে যোগাযোগ দক্ষতা, আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে।
সফট স্কিল কেন গুরুত্বপূর্ণ
সফট স্কিল হলো মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা। এর মধ্যে রয়েছে সহমর্মিতা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনেক নিয়োগকর্তা কারিগরি দক্ষতার চেয়ে সফট স্কিলকে বেশি গুরুত্ব দেন। লিংকডইনের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়োগে ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ হলো সফট স্কিলের ঘাটতি।
প্রযুক্তি নেতাদের জন্য কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চলুন জেনে নিই, প্রযুক্তি খাতে শীর্ষ পাঁচটি যোগাযোগ দক্ষতা—
১. সক্রিয়ভাবে শোনার দক্ষতা
সঠিক প্রযুক্তিগত সমাধান দিতে হলে আগে সমস্যাটি বুঝতে হয়। আর তা সম্ভব হয় মনোযোগ দিয়ে শোনার মাধ্যমে। টিমের কাজের ধারা, জটিলতা ও প্রয়োজন বুঝতে সক্রিয়ভাবে শোনা জরুরি। এতে বাস্তবসম্মত সমাধান পাওয়া সহজ হয় এবং প্রযুক্তি বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হয়। বাস্তবায়নের পরও মতামত শোনা হলে ভবিষ্যৎ উদ্যোগে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। টিম বুঝতে পারে, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২. লেখালেখির দক্ষতা
ই-মেইল, নোটিস বা নির্দেশনার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারা এখন নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্ত লেখা বিভ্রান্তি কমায় এবং কাজের গতি বাড়ায়। প্রযুক্তি নেতাদের জন্য জটিল বিষয় সহজ ভাষায় লিখে বোঝানো বিশেষভাবে জরুরি। এতে পুরো প্রতিষ্ঠান নতুন প্রযুক্তি সহজে গ্রহণ করতে পারে।
৩. প্রেজেন্টেশন দক্ষতা
টিম, গ্রাহক বা ইন্ডাস্ট্রি ইভেন্টে তথ্য উপস্থাপন করতে হয় প্রযুক্তি নেতাদের। জটিল বিষয় সহজভাবে তুলে ধরলে শ্রোতারা বিষয়টি ভালোভাবে বোঝে। ভালো প্রেজেন্টেশন প্রযুক্তির গুরুত্ব ও এর বাস্তব উপকারিতা স্পষ্ট করে। এতে প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়।
৪. প্রভাবিত করার দক্ষতা
নতুন প্রযুক্তি চালু করতে হলে বিভিন্ন পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। নির্বাহী ব্যবস্থাপনা, ফাইন্যান্স টিম, প্রকিউরমেন্ট বিভাগ বা ফ্রন্টলাইন কর্মীদের বোঝাতে হয় প্রযুক্তির সুফল। যুক্তি ও তথ্য ব্যবহার করে সবাইকে একমত করাই প্রভাবিত করার মূল লক্ষ্য। এটি নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে বাধ্যতামূলক সমর্থন নিশ্চিত করে।
৫. পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার দক্ষতা
নতুন প্রযুক্তি অনেক সময় অনিশ্চয়তা ও ভয় তৈরি করে। তাই পরিবর্তনের প্রতিটি ধাপ স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি। সময়সূচি, সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আগে জানালে পরিবর্তন সহজ হয়। কার্যকর যোগাযোগই পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি। পরিকল্পনায় টাউন হল মিটিং, কর্মীদের নিউজলেটার বা কাউন্টডাউন ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রযুক্তি নেতাদের জন্য যোগাযোগ প্রশিক্ষণ
যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ আছে। হার্ভার্ড ডিভিশন অব কন্টিনিউয়িং এডুকেশন তাদের ইফেক্টিভ অর্গানাইজেশনের কমিউনিকেশনস কোর্সের মাধ্যমে এই সুযোগ দেয়। কোর্সে প্রেজেন্টেশন, যুক্তিভিত্তিক যোগাযোগ, গল্প বলার কৌশল এবং সংকটকালীন যোগাযোগ শেখানো হয়।
কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা প্রযুক্তি নেতাদের শুধু ভালো পেশাজীবীই নয়, সফল নেতৃত্বের পথিকৃৎও করে তোলে।