হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

যোগাযোগে দক্ষ হতে যেসব বিষয় জানা দরকার

ক্যারিয়ার ডেস্ক

প্রতিটি সফল নেতৃত্বের পেছনে থাকে নানা অভিজ্ঞতা ও ভাবনার গল্প। তবে সেই অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে কতটা স্পষ্টভাবে পৌঁছাচ্ছে, কিংবা শ্রোতারা তা কীভাবে গ্রহণ করছেন, এ বিষয়টি অনেক সময় গুরুত্ব পায় না। যোগাযোগ বলতে আমরা সাধারণত তথ্য আদান-প্রদানকে বুঝি। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি জটিল ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। মানুষ বার্তা শুধু শোনে না, তা নিজের অভিজ্ঞতা, মানসিকতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট দিয়ে ব্যাখ্যা করে। তাই কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই দুই পক্ষের পারস্পরিক কথোপকথনের মৌলিক দিকগুলো ভালোভাবে বোঝা জরুরি।

শোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন

আমরা যত মনোযোগ দিয়েই শুনি না কেন, সাধারণত শোনা কথার অর্ধেকের বেশি মনে রাখতে পারি না। অথচ কার্যকর যোগাযোগ ও নেতৃত্বের অন্যতম শর্ত হলো, মন দিয়ে শোনা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এ গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় খুব একটা গুরুত্ব পায় না। ফলে নিজ উদ্যোগেই শোনার অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। কার্যকরভাবে শোনার দক্ষতা বাড়াতে তিনটি অভ্যাস চর্চা করা যেতে পারে:

  • বক্তার পোশাক, চেহারা বা অতীত আচরণ নিয়ে আগাম ধারণা বা পক্ষপাত এড়িয়ে চলা।
  • কী উত্তর দেবেন, তা না ভেবে বক্তা কী বলছেন, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন।
  • খোলা প্রশ্ন করুন, মাথা নেড়ে বা আগ্রহ প্রকাশ করে বক্তাকে আরও কথা বলতে উৎসাহ দিন।

শোনা অনেকের কাছে একঘেয়ে লাগতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যোগাযোগ বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যমই হলো শোনা।

শ্রোতাকে জানুন

কোনো বক্তব্য দেওয়ার আগে যাঁদের সামনে কথা বলবেন, তাঁদের সম্পর্কে যতটা সম্ভব জানা প্রয়োজন। এতে শুধু শব্দচয়ন নয়, পুরো বক্তব্যের গঠন ও উপস্থাপন শ্রোতাভেদে সহজে মানিয়ে নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে বক্তা নিজেকে যে প্রশ্নগুলো করতে পারেন:

  • শ্রোতার বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান ও আগ্রহ কতটা?
  • তাঁদের কোনো পূর্বধারণা বা বিশ্বাস রয়েছে কি না?
  • তাঁরা ইতিবাচক না নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে শুনছেন?

শ্রোতা একজন হোক কিংবা শতজন, এ প্রশ্নগুলো সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বক্তব্য দেওয়ার সময় শ্রোতাদের অঙ্গভঙ্গি, প্রতিক্রিয়া ও অভিব্যক্তির দিকে নজর রাখুন। প্রয়োজনে নিজের বক্তব্য বা ভঙ্গি সামঞ্জস্য করুন।

বার্তা সাজান ও গুছিয়ে নিন

শব্দ অত্যন্ত শক্তিশালী। শব্দের শুধু সরাসরি অর্থই নয়, তার অন্তর্নিহিত অর্থও শ্রোতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। আবার এই অর্থ স্থান, সংস্কৃতি ও প্রেক্ষাপটভেদে বদলে যেতে পারে। তাই শ্রোতাকে জানা এখানে অত্যন্ত জরুরি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ‘কুকুর’ একটি নিরপেক্ষ শব্দ। কিন্তু ‘অলক্ষুণে কুকুর’ নেতিবাচক অর্থ বহন করে। আবার ‘মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ বললে ইতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি হয়। তাই শব্দ বাছাইয়ে সচেতন থাকুন এবং সঠিক উচ্চারণে মনোযোগ দিন।

বার্তা তৈরির সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে—

স্বচ্ছতা: পরিচিত ও সহজ শব্দ ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্টভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করুন।

প্রাণবন্ত ভাষা: রং, আকার, গতি বা দৃশ্যমান বর্ণনা ব্যবহার করলে শ্রোতারা বিষয়টি সহজে কল্পনা করতে পারেন। সক্রিয় ভঙ্গিতে কথা বলুন।

অঙ্গভঙ্গির দিকে নজর দিন

অনেক সময় আমরা অজান্তেই শরীরী ভাষার মাধ্যমে ভিন্ন বার্তা পৌঁছে দিই। আপনি হয়তো আন্তরিক হতে চান, কিন্তু হাত বুকের ওপর ভাঁজ করা বা মুখ ফিরিয়ে কথা বলা শ্রোতার কাছে নেতিবাচক সংকেত হিসেবে ধরা পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কথা ও অঙ্গভঙ্গির মধ্যে অমিল হলে মানুষ সাধারণত অঙ্গভঙ্গিকেই বেশি বিশ্বাস করে।

সূত্র: ডিসিই, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

ঘরে বসেই রিমোট দলকে পরিচালনা করবেন যেভাবে

প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে যা জানা জরুরি

পেশাজীবীদের জন্য ১০টি প্রয়োজনীয় দক্ষতা

কর্মক্ষেত্রে দ্বন্দ্ব নিরসনের কৌশল

কর্মক্ষেত্রে প্রোডাকটিভিটি বাড়ানোর ১০ উপায়

স্বপ্নজয়ের অজানা কৌশল

করপোরেট চাকরিতে প্রবেশের আগে যা জানা জরুরি

অফিসে চনমনে থাকবেন যেভাবে

সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করতে হবে

২০২৬ সালে বেশি ইন্টারভিউ কল পাওয়ার কৌশল