হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে ‘দ্য টুলেট’

মো. আশিকুর রহমান

অমিত ঘোষ অন্তু।

পছন্দের এলাকায় বাসা খুঁজে পাওয়া বরাবরই চ্যালেঞ্জ; বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে সাধ্যের মধ্যে ভাড়া বাসা খুঁজে পেতে সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এই সমস্যা দূর করতে এবং প্রযুক্তিনির্ভর আবাসন সমাধান দিতে কাজ করছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য টুলেট’। ২০১৬ সালে তরুণ উদ্যোক্তা অমিত ঘোষ অন্তুর হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই উদ্যোগ বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন আবাসন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ফাউন্ডার ও সিইও অমিত ঘোষ অন্তুর সঙ্গে কথা বলেছেন মো. আশিকুর রহমান

অমিত ঘোষের বেড়ে ওঠা নেত্রকোনার মুক্তারপাড়ায়। ২০১৪ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করে তিনি কোডিং শিখতে ঢাকায় আসেন। ব্যস্ত এই শহরে এসে তিনি দেখেন, মানুষ বাসা খোঁজার জন্য দেয়ালে টাঙানো পোস্টার দেখে রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এই ভোগান্তি লাঘবের চিন্তা থেকে তিনি একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপই ‘দ্য টুলেট’, যার যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালে। প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এই উদ্যোগে এগিয়ে যান।

যেভাবে কাজ করে

১০ বছর ধরে ‘দ্য টুলেট’ ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালাদের মধ্যে একটি ডিজিটাল সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। ফ্যামিলি বাসা, ব্যাচেলর বাসা, অফিস, হোস্টেল, সাবলেট ও মেস—সব ধরনের ভাড়া বাসার তথ্য পাওয়া যায় এই প্ল্যাটফর্মে। ব্যবহারকারীরা লোকেশন, বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী ফিল্টার ব্যবহার করে সহজে বাসার তালিকা দেখতে পারেন। এখানে কোনো দালালের মধ্যস্থতা ছাড়াই সরাসরি বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং সময় ও অতিরিক্ত খরচ—উভয়ই কমায়। প্ল্যাটফর্মটির ‘৭ দিনের মধ্যে বাসা খোঁজার’ সেবাটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। বাড়িওয়ালারা বিনা মূল্যে তাঁদের ভাড়ার বিজ্ঞাপন দিতে পারেন, ফলে দ্রুত অনেক ভাড়াটের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়। এতে শুধু আগ্রহী ভাড়াটেরাই যোগাযোগ করেন এবং বাড়িওয়ালারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভাড়াটে নির্বাচন করতে পারেন।

ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও প্রবৃদ্ধি

প্রতিষ্ঠানটির প্রতি ব্যবহারকারীদের আস্থা ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ লাখ। প্ল্যাটফর্মটিতে প্রায় ৩ লাখ ভাড়ার পোস্ট রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০ জন নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হচ্ছেন।

তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান

‘দ্য টুলেট’ শুধু বাসা খোঁজার প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং তরুণদের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরির একটি মাধ্যমও। বর্তমানে এর ফিল্ড এক্সিকিউটিভ পদে ৭০ জনের বেশি এবং কমিউনিটি এক্সিকিউটিভ হিসেবে ৩৫০ জনের বেশি এজেন্ট সারা দেশে কাজ করছেন।

তাঁরা নিজ নিজ এলাকার খালি বাসার তথ্য সংগ্রহ করে প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেন এবং বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটের মধ্যে সফল সংযোগ ঘটিয়ে আয় করছেন। এটি বেকারত্ব হ্রাসে একটি ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। নারীদের অংশগ্রহণও দিন দিন বাড়ছে এবং তাঁরা উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করছেন।

কেন ব্যবহার করবেন ‘দ্য টুলেট’

এই প্ল্যাটফর্মে বাসা খোঁজার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও সহজ। ব্যবহারকারীরা ঘরে বসে বাসার ছবি, বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় বিবরণ দেখতে পারেন, যা সময় ও শ্রম—দুটিই সাশ্রয় করে।

যাচাই করা লিস্টিং থাকার কারণে প্রতারণার ঝুঁকি কমে যায়। লোকেশন, বাজেট ও রুমসংখ্যা অনুযায়ী ফিল্টার ব্যবহার করে সহজে পছন্দের বাসা খুঁজে পাওয়া যায়। পাশাপাশি বাড়িওয়ালা বা প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা ও অতিরিক্ত খরচ এড়ানো সম্ভব হয়।

বাড়িওয়ালাদের জন্যও এটি একটি আধুনিক ও সুবিধাজনক প্ল্যাটফর্ম। ছবি, বিস্তারিত তথ্যসহ বিজ্ঞাপন সহজে দেওয়া যায় এবং তা একসঙ্গে বহু ভাড়াটের কাছে পৌঁছে যায়। বাসা ভাড়া হয়ে গেলে সহজে পোস্ট ডিঅ্যাকটিভ করার সুযোগ রয়েছে, ফলে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

‘দ্য টুলেট’-এর মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের প্রতিটি দেয়াল থেকে ‘বাসা ভাড়া হবে’ ধরনের প্রচলিত লিফলেট-নির্ভরতা দূর করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল সমাধান প্রতিষ্ঠা করা।

বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ রয়েছে এবং খুব শিগগির আইওএস সংস্করণ চালু করা হবে। ভবিষ্যতে আবাসন খাতের সব সমস্যার সমাধান এক ক্লিকে দেওয়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই লক্ষ্য।

বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর করণীয়

ভাইভা ভালো হলেও চাকরি না পাওয়ার ১২ কারণ

মেধা আর পরিশ্রম থাকলে সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব

আমাজনে ব্র্যান্ড গড়ে সফল মঈনুল ইসলাম

ফ্রেঞ্চ শেখায় দরকার ধারাবাহিক চর্চা

নিজের পছন্দের ক্যারিয়ার বেছে নিন

নেতৃত্বের দক্ষতাই পৌঁছে দেয় বিশ্বমঞ্চে

প্রেম, বিয়ে ও একই সঙ্গে বিজেএস জয়

শুধু ডিগ্রি নয়, বাস্তব সমস্যার সমাধানের দক্ষতা অর্জন জরুরি

ফ্রিল্যান্সিংয়ে আস্থা বাড়ান ৩ উপায়ে