মানুষের জীবন বৈচিত্র্যে ভরপুর; কখনো সুখের হাসি, কখনো দুঃখের প্লাবন। বিপদ-আপদ বা অসুস্থতা এলে আমরা অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ি; কিন্তু মুমিনের জীবনে রোগব্যাধি কেবল কষ্ট নয়, বরং তা কখনো আল্লাহর বিশেষ পরীক্ষা ও ভালোবাসার নিদর্শন।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা আম্বিয়া: ৩৫)। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, সুস্থতা-অসুস্থতা, সচ্ছলতা-দারিদ্র্য ও সুখ-দুঃখের মাধ্যমেই আল্লাহ বান্দাকে যাচাই করেন।
বাহ্যিকভাবে রোগব্যাধি যন্ত্রণাদায়ক মনে হলেও এটি মুমিনের গুনাহ মুক্তির মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন মুসলমানের ওপর যে শারীরিক বা মানসিক কষ্ট আপতিত হয়—এমনকি তার দেহে একটি কাঁটা ফুটলেও, এর বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। (সহিহ্ বুখারি: ৫৬৪১)
অসুস্থতা কেবল গুনাহ মাফ করে না; বরং আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে। কখনো কখনো বান্দার জন্য জান্নাতে এমন উচ্চ মর্যাদা নির্ধারিত থাকে, যা সে আমল দিয়ে অর্জন করতে পারে না। তখন আল্লাহ তাকে রোগ বা বিপদে ফেলে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দেন এবং সেই উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৩০৯০)
এমনকি হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন সুস্থ মানুষেরা যখন বিপদে ধৈর্য ধারণকারীদের বিশাল প্রতিদান দেখবে, তখন তারা আফসোস করে বলবে—হায়! দুনিয়ায় যদি আমাদের শরীরের চামড়া কাঁচি দিয়ে কেটে টুকরা করে দেওয়া হতো (তবে আজ আমরাও এমন পুরস্কার পেতাম)। (জামে তিরমিজি: ২৪০২)
তবে মনে রাখতে হবে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করা নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। চিকিৎসার পাশাপাশি অটল বিশ্বাস রাখতে হবে সর্বময় ক্ষমতার মালিক আল্লাহর ওপর। সুতরাং রোগ হলে হতাশ না হয়ে কিংবা আল্লাহকে দোষারোপ না করে সবর করতে হবে। জীবনের প্রতিটি ফয়সালা হাসিমুখে মেনে নেওয়াই প্রকৃত ইমানদারের পরিচয়।