হোম > ইসলাম

মাতৃভাষার প্রতি নবী (সা.)-এর ভালোবাসা ও আমাদের করণীয়

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ভাষা। এটি মানুষের চিন্তাচেতনা, নিজস্ব সংস্কৃতি, অনুভূতি প্রকাশ ও আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহক। বিশেষত মাতৃভাষা মানুষের হৃদয় ও আবেগের ভাষা। যে ভাষায় মানুষ প্রথম কথা বলতে শেখে, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চায় তা অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। সর্বজনীন ধর্ম হিসেবে ইসলাম মাতৃভাষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।

কোরআনের আলোকে ভাষাগত বৈচিত্র্য: পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ভাষার বৈচিত্র্যকে তাঁর অন্যতম নিদর্শন বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন।’ (সুরা রুম: ২২)

দ্বীন প্রচারে মাতৃভাষার ব্যবহার: দ্বীন প্রচারে মাতৃভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ নিজের ভাষায় যেকোনো কথা যতটা সহজে বোঝে এবং হৃদয়ে ধারণ করতে পারে, অন্য কোনো ভাষায় সেটা পারে না। যদি দ্বীনের কথা এমন ভাষায় বলা হয়, যা সাধারণ মানুষ বোঝে না, তবে তা তাদের জন্য তেমন কার্যকর কিংবা ফলপ্রসূ হয় না।

পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবী-রাসুলকে তাঁর নিজ জাতির ভাষায় প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি যখনই কোনো রাসুল পাঠিয়েছি, তাকে তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যেন সে তাদের সামনে সত্যকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে।’ (সুরা ইবরাহিম: ৪)। আল্লাহ তাআলা কোরআনও নাজিল করেছেন স্থানীয় ভাষায়, যেন নবীজি (সা.) এবং তাঁর সাহাবিরা সহজে বুঝতে পারেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি একে আরবি ভাষায় কোরআন রূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পারো।’ (সুরা ইউসুফ: ২)

তবে কোরআন যেহেতু সমগ্র মানবজাতির জন্য, তাই কোরআনের তাফসির, অনুবাদ ও ব্যাখ্যা পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় রচিত হয়েছে, যেন মানুষ নিজ নিজ মাতৃভাষায় আল্লাহ তাআলার পবিত্র বাণী বুঝতে পারে।

মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগে বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসলিম পণ্ডিতেরা তাঁদের নিজস্ব ভাষায় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা করেছেন। ফারসি, উর্দু, তুর্কি, মালয়সহ বিভিন্ন ভাষায় ইসলামি সাহিত্য রচিত হয়েছে। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারেও বাংলা ভাষার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

ভাষার প্রতি নবীজির ভালোবাসা: রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন কুরাইশ গোত্রের সন্তান, যারা ছিল আরবি ভাষার শুদ্ধতম রূপের ধারক। নবীজি (সা.) নিজেও বিশুদ্ধ আরবিভাষী ছিলেন। তাঁর ভাষা ছিল অত্যন্ত প্রাঞ্জল, সাবলীল ও হৃদয়স্পর্শী। নিজের মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমরা তিনটি কারণে আরবি ভাষাকে ভালোবাসো; কারণ আমি আরবিভাষী, কোরআনের ভাষা আরবি এবং জান্নাতের ভাষা আরবি।’ (মুসতাদরাকে হাকিম: ৭১৯৪)। নবীজি (সা.) নিজে আরবি ভাষায় কথা বললেও অন্যান্য ভাষার প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করেছেন। তিনি হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-কে সুরিয়ানি ও হিব্রু ভাষা শিখতে উৎসাহিত করেছিলেন, যেন তিনি অন্য ভাষাভাষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

মাতৃভাষা সংরক্ষণে আমাদের করণীয়: বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, আমাদের অহংকার। এই ভাষার জন্য আমাদের পূর্বসূরিরা জীবন দিয়েছেন। এই ভাষাকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের অবশ্যকর্তব্য। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি করণীয় হলো: এক. আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে মাতৃভাষার যথাযথ মূল্যায়ন করা। দুই. বিদেশি শব্দের অপব্যবহার রোধ করে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি রক্ষা করা। তিন. মাতৃভাষায় দ্বীনের দাওয়াত ও ইসলামি শিক্ষার প্রচার-প্রসার ঘটানো। চার. মাতৃভাষায় ইসলামি বই, প্রবন্ধ, কবিতা রচনা এবং ইসলামি শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটানো। পাঁচ. মাতৃভাষা রক্ষায় আত্মত্যাগের ইতিহাসকে স্মরণ করা। এতে ভাষার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ জাগ্রত হবে।

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২১ অক্টোবর ২০২৬

কোরআনের হাফেজের মর্যাদা, দায়িত্ব ও করণীয়

মানসিক প্রশান্তিতে ইসলামের দিকনির্দেশনা

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২০ অক্টোবর ২০২৬

সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ার ফজিলত ও আমল

নির্দোষ মানুষ হত্যার শাস্তি সম্পর্কে কোরআন যা বলেছে

ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানোর ফজিলত

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সন্ধ্যার ৬ আমল: মাগরিবের পর যে জিকির ও দোয়া পড়বেন

দ্রুত বিয়ে হওয়ার ৫ আমল ও দোয়া