নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং সর্বোত্তম ইবাদত। জামাতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়। তবে জামাতে বা ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধান মেনে চলতে হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে ত্রুটিমুক্ত ও সুন্দর করার জন্য প্রত্যেক মুসল্লির সঠিক পদ্ধতি জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
জামাতে নামাজ পড়ার মূল কথাই হলো ইমামের পূর্ণ অনুসরণ করা। তবে মুক্তাদি (যিনি ইমামের পেছনে নামাজ পড়েন) সব কাজ ইমামের সঙ্গে করলেও পড়ার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে। হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ আলেম আল্লামা বুরহানুদ্দীন মারগিনানি (রহ.)-এর মতে—জামাতে নামাজ পড়ার সময় শুধু ইমামের সঙ্গে কিরাত (কোরআন তিলাওয়াত) পড়া নিষেধ, অন্য কিছু পড়া নিষেধ নয়।
তাই সঠিক পদ্ধতি হলো: মুক্তাদি তাকবিরে তাহরিমা থেকে শুরু করে সানা, রুকু-সেজদার তাসবিহ, তাশাহুদ, দরুদ শরিফ, দোয়া মাসুরা এবং রুকু-সেজদায় যাওয়া-আসার তাকবির—ইত্যাদি যত দোয়া ও তাসবিহ রয়েছে, সবই ইমামের অনুসরণে নিজে নিজে পড়বেন ও করবেন।
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, মুক্তাদির জন্য ইমামের পেছনে সুরা বা কিরাত পড়া ওয়াজিব নয়, বরং তা মাকরুহ। ইমাম যখন কিরাত পড়বেন, মুক্তাদি তখন সম্পূর্ণ চুপ থাকবেন এবং মনোযোগ দিয়ে ইমামের কিরাত শুনবেন।
তবে কেউ যদি ভুলে বা না জেনে ইমামের পেছনে কিরাত পড়েও ফেলেন, তাহলেও তাঁর নামাজ আদায় হয়ে যাবে (যদিও তা মাকরুহ হবে)।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার চমৎকার একটি রূপরেখা পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
অনুসরণ করার জন্যই তো ইমাম নিযুক্ত করা হয়। সুতরাং—
জামাতে নামাজ পড়ার সময় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—ইমামের পেছনে থাকা অবস্থায় মুক্তাদি নিজে কোনো ভুল করলে করণীয় কী? তাঁকে কি আলাদাভাবে ‘সাহু সেজদা’ দিতে হবে?
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম ও মুহাদ্দিসরা বলেন, ইমামের সঙ্গে জামাতে নামাজ পড়া অবস্থায় মুক্তাদির নিজস্ব ভুলের কারণে ইমাম বা মুক্তাদি কারও নামাজের ক্ষতি হয় না। তাই মুক্তাদির ওপর আলাদাভাবে কোনো সাহু সেজদা ওয়াজিব হবে না।
বিখ্যাত তাবেয়ি ইবরাহিম নাখায়ি (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তুমি যদি ইমামের পেছনে ভুল করো, কিন্তু ইমাম কোনো ভুল না করেন, তাহলে তোমার ওপর সাহু সেজদা নেই। আর ইমাম ভুল করলে (নামাজ শেষ করার জন্য) তোমার নিজের ভুল না হলেও ইমামের সঙ্গে তোমাকে সাহু সিজদা করতে হবে।’ (কিতাবুল আসার, ইমাম আবু ইউসুফ; ফাতহুল কাদির; রদ্দুল মুহতার)।