হোম > ইসলাম

আজানের জবাব না দিয়ে অন্য দোয়া পড়ার বিধান

মুফতি শাব্বির আহমদ

মসজিদের মিনার। ছবি: সংগৃহীত

আজানের উত্তর কীভাবে দিতে হয়? আজানের সময় আজানের জবাব না দিয়ে অন্য কোনো দোয়া পড়া যাবে কি? আজানের জবাব দেওয়ার বিধান বিস্তারিত জানতে চাই।

লিয়াকত আলী, নারায়ণগঞ্জ

আজান মানে হলো আহ্বান বা ঘোষণা। নামাজের সময় হয়েছে—এটি মানুষকে জানানোর জন্যই আজান দেওয়া হয়। আজান শোনা এবং এর যথাযথ উত্তর দেওয়া একটি স্বতন্ত্র ইবাদত।

ফুকাহায়ে কেরাম এবং আলেমদের মতে, আজানের সময় অন্য কোনো নফল দোয়া, জিকির বা তাসবিহ পাঠ করার চেয়ে আজানের উত্তর দেওয়া বেশি উত্তম। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে: এক. হাদিসে আজানের সময় মুয়াজ্জিনের বাক্যের পুনরাবৃত্তি করার সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই. জিকির বা অন্য দোয়া আজান শেষ হওয়ার পরও করা যায়; কিন্তু আজানের উত্তর দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে সেই সওয়াব আর পাওয়া যায় না। তিন. রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তা-ই বলো।’ (সহিহ বুখারি: ৬১১)

তাই সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে করা অন্য দোয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে আজানের জবাব দেওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে আজান শোনা মুমিনের জন্য জরুরি।

যেভাবে আজানের জবাব দেবেন

মুয়াজ্জিন যখন বলেন, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’, তখন আপনিও একই বাক্য পুনরাবৃত্তি করবেন। তিনি যখন উচ্চারণ করেন, ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, একইভাবে তা বলবেন। এরপর ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বলা হলে, একই বাক্য বলবেন। ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ শোনার পর বলবেন, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ আর ফজরের আজানে মুয়াজ্জিন যখন বলেন, ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’, তখন জবাবে বলবেন, ‘সাদাকতা ওয়া বারারতা’, অর্থাৎ তুমি সত্য ও ন্যায় বলেছ। শেষে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ উচ্চারিত হলে বলবেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’

আজানের পরের দোয়া ও ফজিলত

আজান শেষ হওয়ার পর রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা এবং দোয়া পড়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আজানের পর এই দোয়া পড়বে, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে। দোয়াটি হলো: ‘আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাহ, ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়াআদতাহ।’ (সহিহ বুখারি: ৬১৪)

যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দিতে হয় না

কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় আজানের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকার অবকাশ আছে: ১. নামাজরত অবস্থায়: কেউ নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকলে তখন উত্তর দেবে না। ২. খুতবা চলাকালীন: জুমার খুতবা বা বিয়ের খুতবা শোনার সময় উত্তর দেওয়া যাবে না (চুপ থাকা ওয়াজিব)। ৩. প্রাকৃতিক হাজত: পেশাব-পায়খানা বা স্ত্রী সহবাসের সময় আজানের উত্তর দেওয়া নিষেধ। ৪. কোরআন তিলাওয়াত: তিলাওয়াত বন্ধ করে উত্তর দেওয়া উত্তম, তবে না দিলে গুনাহ হবে না।

টিভিতে আজান শুনলে কি উত্তর দিতে হবে

আলেমদের মতে, সরাসরি মুয়াজ্জিন থেকে শোনা আজানের উত্তর দেওয়া সুন্নত। রেকর্ড করা আজান (ইউটিউব, অ্যাপ বা টিভি) শুনলে উত্তর দেওয়া সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে না।

আজানের জবাব দিতে দেরি হলে করণীয়

যদি আজান শেষ হওয়ার পর খুব বেশি সময় পার না হয়, তাহলে দ্রুত বাক্যগুলো বলে নেওয়া যায়। তবে অনেক দেরি হয়ে গেলে আর জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

নারীদের আজানের জবাব দেওয়ার বিধান

নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই আজানের জবাব দেওয়া এবং আজানের পরের দোয়া পড়া সুন্নত। তবে পিরিয়ড বা নিফাস অবস্থায় নারীদের আজানের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

উত্তর দিয়েছেন

মুফতি শাব্বির আহমদ

ইসলামবিষয়ক গবেষক

কোরআনে যে ৬ ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত বলা হয়েছে

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৮ আগস্ট ২০২৬

দান-সদকা যেভাবে জান্নাতের পথ সুগম করে

আখেরি চাহার সোম্বা কী, কেন পালন করা হয়

৯৫০ বছরের পুরোনো মেনুচিহর মসজিদ

কোরআন তিলাওয়াতের নিয়ম ও আদব

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৭ আগস্ট ২০২৬

১৭ খণ্ডের আরবি গ্রন্থ লিখে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি আলেম

ঘরে পরিবার নিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করবেন যেভাবে

মৃত্যুর পরও যে ৩ আমলের সওয়াব সচল থাকে