হোম > ইসলাম

সন্তানের বেড়ে ওঠায় বাবার ভূমিকা

আমিনুল ইসলাম হুসাইনী

আপনি যদি বাবা হয়ে থাকেন, তবে আপনি নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান। পৃথিবীতে এমন অনেক পুরুষ আছেন, যাঁরা বাবা হননি। পৃথিবীতে এমন কোনো প্রতিষেধক নেই, যা দিয়ে তাঁদের হৃদয়ের হাহাকার উপশম করা যাবে। দয়াময় আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করেছেন বলেই আপনাকে বাবা হওয়ার তওফিক দান করেছেন। তাই আপনি খোদার শোকর করুন; এই নিয়ামতের কদর করুন। 

মনে রাখবেন, বাবা শব্দটি ছোট হলেও ওজনে অনেক ভারী। আপনার কাঁধে অনেক দায়িত্ব। ঝড়ঝঞ্ঝা সব নিজে সয়ে সন্তানকে নিরাপদ রাখতে হবে। যেমন নিরাপদ রেখেছিলেন আপনার বাবা, আপনাকে। এটিই চিরায়ত নিয়ম। মহান আল্লাহ আপনাকে এভাবেই গড়েছেন। বাইরের প্রখর রোদ কিংবা ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে আপনি অর্থ উপার্জন করেন। সেই উপার্জিত অর্থ সন্তানের পেছনে ব্যয় করতে আপনার কষ্ট হয় না, বরং ভালোই লাগে। কারণ আল্লাহ আপনার হৃদয়কে এভাবেই প্রশান্ত করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘উত্তম হলো ওই দিনার (টাকা), যা কোনো ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করে।’ (মুসলিম: ৯৯৪) 

আপনি বাবা; আপনার সন্তানের আদর্শ। আপনাকে অনুসরণ করে, আপনার হাত ধরেই বেড়ে উঠছে তার ভবিষ্যৎ। তার বেড়ে ওঠার এই সময়ে আপনাকে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু অর্থনৈতিক নিশ্চয়তাই নয়, সন্তানের সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। তার সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। ভাবতে হবে তার পরকাল নিয়েও। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা তোমাদের নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর...।’ (সুরা তাহরিম: ৬) 

আপনার সন্তানকে সময় দিন। আপনার সান্নিধ্য তার বেড়ে ওঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা বলেন, যে শিশু বাবার সাহচর্যে বড় হয়, সে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়। তার সাহস, শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা অন্য শিশুর চেয়ে বেশি। ফলে খুব সহজেই সে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠে। তাই ইসলাম সন্তানকে আদর-যত্ন করার কথা বলে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) হাসান ইবনে আলী (রা.)কে ভালোবেসে চুমু খেলেন। সেখানে আকরা ইবনে হাবেস আত-তামিমি (রা.) উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার ১০ জন সন্তান আছে; আমি তাদের কাউকে কখনো চুমু খাইনি।’ রাসুল (সা.) তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না।’ (বুখারি: ৫৬৫১) 

শিশুরা অনুকরণপ্রিয় হয়। তাদের হৃদয়ের জমিন উর্বর হয়। এ সময় যা শেখানো হবে, তা-ই বাকি জীবনে বয়ে বেড়াবে। তাই এখনই সন্তানের মননে তাওহিদের বীজ রোপণ করুন। শিশুকে শুনিয়ে শুনিয়ে আজানের শব্দগুলো উচ্চারণ করুন। পাশাপাশি জিকির ও কোরআন তিলাওয়াত করুন। আর সন্তান যখন কথা বলার বয়সে উপনীত হবে, তখন কালিমা শেখান। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের শিশুদের সর্বপ্রথম কালেমা—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ শেখাও।...’ (শুআবুল ইমান: ৮৬৪৯) 

বাবা হিসেবে সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলা আপনার কর্তব্য। তাই সন্তানের সঙ্গে মন খুলে কথা বলুন। সন্তানের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন। সন্তানের প্রতিটি কাজের প্রশংসা করতে হবে। সন্তানকে কখনো মিথ্যা প্রবোধ দেবেন না। মিথ্যা বলা শেখাবেন না। 

আদর্শ বাবার বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি সন্তানের আখিরাতের পাশাপাশি পার্থিব জীবনের কথাও চিন্তা করবেন। তাই সন্তানকে যেন নিঃস্ব হয়ে পথে পথে না ফিরতে হয়, সে জন্য বাবাকে কিছু সম্পদ রেখে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন নবী (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘তোমার পরিবার-পরিজনকে যদি তুমি সম্পদশালী রেখে যাও, তবে তা তাদের মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার তুলনায় ভালো।’ (মুসলিম: ৪১০৭) 

লেখক: ইমাম ও খতিব, কসবা জামে মসজিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

অহংকারের কুফল ও অহংকারীর ভয়াবহ পরিণতি

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

শবে মিরাজের বিশেষ নামাজ আছে কি

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

জুমার নামাজ কত রাকাত, আদায়ের পদ্ধতি কী

শবে মিরাজ: ঊর্ধ্বাকাশে নবীজি (সা.)-এর অলৌকিক যাত্রা

শাবান মাস: ইবাদতের সুবাতাসে রমজানের প্রস্তুতি

মিরাজের বাহন বোরাক দেখতে কেমন ছিল?