তারাবি শব্দটি তারবিহা শব্দের বহুবচন। যা বিশ্রাম, স্বস্তি, শান্তি ও প্রশান্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়। রমজান মাসে এশার নামাজের পর যে ২০ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ আদায় করা হয়, তাকে তারাবি বলা হয়। (আল কামুসুল ফিকহ)
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন আর আমি তোমাদের জন্য তারাবির নামাজ বিধিবদ্ধ (সুন্নত) করেছি; অতএব যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের দিনে রোজা রাখবে আর রাতে তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সুনানে নাসায়ি)
রমজান মাসের সুন্নতগুলোর অন্যতম হলো এই তারাবির নামাজ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশা নিয়ে রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়বে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ্ বুখারি)
হজরত আবুজার গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে তারাবি নামাজ পড়বে, ইমাম প্রস্থান করা পর্যন্ত (জামাতের নামাজ সমাপ্ত করবে) তার কিয়ামুল লাইল (রাত জাগার সওয়াব পূর্ণরূপে) লিখিত হবে।’ (জামে তিরমিজি)।
পবিত্র মক্কা ও মদিনা শরিফে সাহাবায়ে কেরামের সময় থেকে ২০ রাকাত তারাবি খতমে কোরআনসহ জামাতের সঙ্গে পড়া হয়। কেউ যদি জামাতে ২০ রাকাত তারাবি পূর্ণ না করে চলে যায়, তার খতম পূর্ণ হয় না। তারাবির ২০ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা। পুরুষের তারাবির নামাজ মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করা সুন্নত। তারাবির নামাজে কোরআন খতম করাও সুন্নত। নারীদের জন্যও ২০ রাকাত তারাবি সুন্নত।
হজরত ইয়াজিদ ইবনে রুমান (রহ.) বলেন, হজরত উমর (রা.)-এর যুগে মানুষ ২৩ রাকাতের (৩ রাকাত বিতরসহ তারাবি নামাজ) মাধ্যমে রাত জাগত। (মুআত্তা ইমাম মালিক)
ইসলামে শুরুর লগ্ন থেকে পরম্পরাগতভাবে উম্মতের এই আমল চলে আসছে। ২০ রাকাত তারাবির মধ্য দিয়ে ২৭ দিনে পবিত্র কোরআন খতম করা হয়। যাঁরা কোরআন তিলাওয়াত করতে জানেন না কিংবা ব্যস্ততার কারণে কোরআন খতম করা সম্ভব হয় না, তাঁদের জন্য পবিত্র রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবির মাধ্যমে এই সুযোগ লাভ হয়।
লেখক: মাদ্রাসাশিক্ষক টঙ্গী, গাজীপুর