দৈনন্দিন জীবনে আমলের গুরুত্ব অপরিসীম। কাজের ফাঁকে বা অবসরে ছোট ছোট কিছু জিকির পাঠ করে আমরা আমাদের পরকালকে উজ্জ্বল করতে পারি। নিচে অধিক ফজিলতপূর্ণ ও সহজ ১০টি জিকির ও আমলের তালিকা দেওয়া হলো:
১. দৈনিক ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করলে আমলনামায় ১০০০ সওয়াব লেখা হয় এবং ১০০০ গুনাহ মাফ করা হয়। (সহিহ মুসলিম)
২. ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠ করা সর্বোত্তম দোয়া। এটি কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের পাল্লাকে নেকি দিয়ে ভারী করে দেয়। (জামে তিরমিজি)
৩. রাসুল (সা.)-এর মতে, সর্বোত্তম জিকির হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এই তাওহিদের বাণী ইমানকে মজবুত করে। (সুনানে ইবনে মাজাহ)
৪. ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’—এই বাক্যগুলো আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। নবীজি (সা.) বলেন, এগুলো আল্লাহর কাছে পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে প্রিয়। (সহিহ মুসলিম)
৫. দৈনিক ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করলে সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ থাকলেও আল্লাহ তা মাফ করে দেন। (সহিহ বুখারি)
৬. রাসুল (সা.) বলেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম’—এই বাক্যগুলো উচ্চারণে অত্যন্ত সহজ কিন্তু মিজানের পাল্লায় অনেক ভারী। (সহিহ বুখারি)
৭. যে ব্যক্তি একবার ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি করে বিশেষ খেজুরগাছ রোপণ করা হবে। (জামে তিরমিজি)
৮. ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ হলো জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের মধ্যে একটি। এটি মানুষের দুশ্চিন্তা ও অক্ষমতা দূর করে। (সহিহ মুসলিম)
৯. ‘সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’—এই দীর্ঘ বাক্যগুলোকে হাদিসে ‘অবশিষ্ট নেক আমল’ বা অক্ষয় পুণ্য বলা হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ)
১০. রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি সকালে ১০ বার এবং বিকেলে ১০ বার দরুদ পাঠ করবে, সে কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ পাবে।’ এ ছাড়া একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন। (মুজামুল কাবির লিত্ তাবারানি)