হজ মুসলমানের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। হজ আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ এবং গুনাহমুক্ত জীবনের এক অনন্য প্রশিক্ষণ। হজের প্রতিটি ধাপ—ইহরাম বাঁধা থেকে শুরু করে তাওয়াফ, সায়ি, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান ও জামারায় পাথর নিক্ষেপ—সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে বিশেষ দোয়া ও জিকির। এসব দোয়া বান্দার হৃদয়ের গভীর আকুতি, ক্ষমাপ্রার্থনা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আবেদন।
হজের সফরকে আরও অর্থবহ, সুন্দর ও সুন্নাহসম্মত করতে হজের গুরুত্বপূর্ণ দোয়াগুলো জানা এবং আমল করা অত্যন্ত জরুরি। নিচে হজের বিভিন্ন পর্যায়ে পড়ার গুরুত্বপূর্ণ কিছু দোয়া, উচ্চারণ ও অর্থ তুলে ধরা হলো।
যাতায়াতের সময় বা গাড়িতে আরোহণের পর এই দোয়া পাঠ করতে হয়।
আরবি: اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুকরিনীন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন।
অর্থ: আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহান। পবিত্র সেই সত্তা; যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা একে বশ করতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চিতভাবেই আমরা আমাদের প্রতিপালকের দিকেই ফিরে যাব।
প্রতিটি ইবাদত শুরু হয় নিয়তের মাধ্যমে। হজের নিয়ত করার সময় আপনি এই দোয়া পাঠ করতে পারেন।
আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أُرِيدُ الحَجَّ فَيَسِّرْهُ لِي وَتَقَبَّلْهُ مِنِّي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী উরীদুল হাজ্জা ফায়াসসিরহু লী ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নী।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি হজের ইচ্ছা করছি, তাই এটি আমার জন্য সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন।
হারাম শরিফে প্রবেশের সময় ও হজের বিভিন্ন পর্যায়ে হজযাত্রীরা এই প্রসিদ্ধ দোয়া উচ্চস্বরে পাঠ করেন।
আরবি: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْك، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْك، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।
অর্থ: আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।
আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) তাওয়াফ করার সময় এই দোয়া পাঠ করতেন। এটি রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানের জায়গায় পাঠ করতে হয়।
আরবি: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আযাবান নার।
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।
সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সায়ি করার সময় এই দোয়া পাঠ করা হয়।
আরবি: إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ...
উচ্চারণ: ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ...
এরপর বলুন:
اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ...
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু...
অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম...। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই...।
আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের সময় এই দোয়া পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
আরবি: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
শয়তানকে পাথর (কঙ্কর) নিক্ষেপের সময় নবীজি (সা.) প্রতিটি পাথর ছোড়ার সঙ্গে এটি বলতেন।
আরবি: اللَّهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
এ বছর হজে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া আপনার জীবনের অন্যতম বড় নিয়ামত। এ জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এই দোয়া পড়তে পারেন।
আরবি: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَّارًا، لَكَ ذَكَّارًا، لَكَ رَهَّابًا، لَكَ مِطْوَاعًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজ’আলনী লাকা শাক্কারান, লাকা যাক্কারান, লাকা রাহহাবান, লাকা মিতওয়া’আন।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে আপনার প্রতি অতিশয় কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী, আপনাকে অধিক স্মরণকারী, আপনাকে ভয়কারী এবং আপনার অনুগত বান্দা হিসেবে কবুল করুন।
মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও দয়া ভিক্ষার জন্য এই দোয়া পাঠ করুন।
আরবি: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াতুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত তাউওয়াবুর রাহীম।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার ওপর দয়া করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।
১০. হজ শেষে বা সম্পন্ন করার সময় পড়ার দোয়া
হজের কার্যাবলি সম্পন্ন করার পর আপনি আল্লাহর কাছে এই আবেদন করতে পারেন।
আরবি: اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنَّا، وَاجْعَلْهُ حَجًّا مَبْرُورًا، وَسَعْيًا مَشْكُورًا، وَذَنْبًا مَغْفُورًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্না, ওয়াজ’আলহু হাজ্জাম মাবরূরান, ওয়া সা’ইয়াম মাশকুরান, ওয়া যাম্বাম মাগফুরান।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন এবং একে ‘হজে মাবরুর’ (কবুল হজ), একটি সওয়াবযোগ্য সায়ি ও গুনাহ মাফের অছিলা বানিয়ে দিন।