দেখতে দেখতে আবারও ঘনিয়ে এসেছে মুসলিম উম্মাহর সিয়াম সাধনার পবিত্র মাস রমজান। আত্মশুদ্ধি, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাসকে ঘিরে সারা বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রথম রোজা কত তারিখে এবং ঈদুল ফিতর কবে পালিত হবে—তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংস্থা।
দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ ডিপার্টমেন্টের (আইএসিএডি) প্রকাশিত ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য ও আমিরাতে ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) প্রথম রোজা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে। উল্লেখ্য, শরিয়তের বিধান অনুযায়ী শাবান মাসের শেষে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই রমজান শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের রেশ কাটতে না-কাটতেই শুরু হবে পবিত্র রমজানের আমেজ। ফলে নির্বাচনের কয়েক দিন পরেই ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা রোজার প্রস্তুতির সুযোগ পাবেন।
২৬ রমজান দিবাগত রাতে পালিত হয় শবে কদর। ২০২৬ সালের প্রাথমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এ বছর পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হতে পারে ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) রাতে। এই রাতটি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং এই রাতেই মানবজাতির হেদায়েতের জন্য পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল।
হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় মাসগুলো সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রমজান মাস ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) শেষ হতে পারে। তবে যদি রমজান ২৯ দিনের হয়, তবে তা ১৮ মার্চ শেষ হবে।
রমজান মাসের সিয়াম সাধনা শেষে মুসলমানদের জন্য আনন্দ ও খুশির বার্তা নিয়ে আসে ঈদুল ফিতর। আইএসিএডির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে পারে। বাংলাদেশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০ বা ২১ মার্চ ঈদ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বাংলাদেশেও দীর্ঘ সরকারি ছুটির আমেজ তৈরি হয়।