ইসলাম ধর্মের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হলো নামাজ। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে প্রতিটি মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ বা অবশ্যপালনীয়।
কোনো ব্যক্তির ওপর নামাজ ফরজ হওয়ার জন্য প্রধানত তিনটি শর্ত একসঙ্গে পূর্ণ হতে হয়।
১. মুসলিম হওয়া: অমুসলিমের ওপর নামাজের ইসলামি বিধান প্রযোজ্য নয়।
২. বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া: নাবালেগ অবস্থায় কারও ওপর নামাজ ফরজ হয় না।
৩. সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া: মানসিক ভারসাম্যহীন বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির ওপর শরিয়তের বাধ্যবাধকতা নেই।
শরিয়তের দৃষ্টিতে বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হওয়া বা বালেগ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু শারীরিক আলামত রয়েছে।
শারীরিক আলামত: ছেলেদের ক্ষেত্রে বীর্যপাত বা স্বপ্নদোষ এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব (মাসিক) শুরু হওয়া বা গর্ভধারণের মাধ্যমে বালেগ হওয়ার প্রমাণ মেলে।
ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বয়সসীমা: সাধারণত ছেলেদের বালেগ হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১২ বছর এবং মেয়েদের ৯ বছর।
শারীরিক গঠন বা আবহাওয়ার কারণে যদি নির্ধারিত বয়স পার হওয়ার পরও বালেগ হওয়ার কোনো বাহ্যিক আলামত দেখা না যায়, তবে চান্দ্র বর্ষপঞ্জি (হিজরি) হিসাবে ১৫ বছর বয়স পূর্ণ হলে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই শরিয়তের দৃষ্টিতে বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক ধরে নেওয়া হবে। এর পর থেকে তাদের নামাজ-রোজা নিয়মিত আদায় করা ফরজ।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর হঠাৎ করে কোনো অভ্যাস গড়ে তোলা কঠিন। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যেন সন্তানেরা বালেগ হওয়ার বহু আগে থেকেই নামাজের সঙ্গে পরিচিত ও অভ্যস্ত হতে পারে। সন্তানের বয়স যখন সাত বছর হবে, তখন থেকেই মা-বাবার দায়িত্ব হলো তাকে ভালোবেসে নামাজের আদেশ দেওয়া এবং নিয়মকানুন শেখানো।
নবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হবে, তখন তাদের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দাও।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৫)
এ ছাড়া সন্তানের বয়স ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার পরও যদি সে নামাজে অলসতা করে, তবে তাকে উপযুক্ত শাসনের মাধ্যমে নামাজে অভ্যস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।