আপনার জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ বা কথা বলার শেষে আমরা অনেক সময় ‘আল্লাহ হাফেজ’ বা ‘খোদা হাফেজ’ বলে বিদায় নিই। এই শব্দের অর্থ কী? এটি বললে কি সুন্নত আদায় হবে? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান জানতে চাই।
সিদরাতুল মুনতাহা, টাঙ্গাইল
উত্তর: ইসলামি সংস্কৃতিতে একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে সালাম দেওয়া সুন্নত। এটি মহান আল্লাহর কাছে একে অপরের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) সালামের ব্যাপক প্রচলনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যতক্ষণ তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে না, ততক্ষণ তোমরা মুমিন হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমাদের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রচলন ঘটাও।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৪)
বিদায়বেলায় কী বলা সুন্নত?
আমাদের সমাজে কারও সঙ্গে দেখা হলে সালাম দেওয়ার প্রচলন থাকলেও, বিদায়ের সময় অনেকেই শুধু ‘আল্লাহ হাফেজ’ বা ‘খোদা হাফেজ’ বলে থাকেন। অনেকে মনে করেন সালাম কেবল সাক্ষাতের শুরুতে দিতে হয়। কিন্তু হাদিস অনুযায়ী, বিদায় নেওয়ার সময়ও সালাম দেওয়া সুন্নত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ কোনো মজলিশে পৌঁছাবে, তখন সালাম দেবে। এরপর যখন মজলিশ ত্যাগ করবে, তখনো সালাম দেবে। কারণ, প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৭০৬)। অর্থাৎ, শুরুতে এবং শেষে উভয় সময়েই সালাম দেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিদায়বেলায় ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলার বিধান
‘আল্লাহ হাফেজ’ শব্দের অর্থ হলো ‘আল্লাহ আপনার হেফাজতকারী হোন’ বা ‘আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন’। এটি মূলত একটি দোয়া।
১. দোয়া হিসেবে জায়েজ: বিদায় নেওয়ার সময় সালামের আগে বা পরে দোয়া হিসেবে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বা ‘খোদা হাফেজ’ বলা জায়েজ। এতে কোনো সমস্যা নেই। (শুআবুল ইমান: ৬ / ৪৪৮)
২. সালামের বিকল্প নয়: মনে রাখতে হবে, ‘আল্লাহ হাফেজ’ সালামের বিকল্প নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে এটি বর্ণিত না হওয়ায় একে বিদায়ের নির্দিষ্ট ‘সুন্নত’ বলা যাবে না। বরং বিদায়বেলার সুন্নত হলো সালাম।
সালাম বাদ দিয়ে কেবল ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলার মাধ্যমে একে যদি বিদায়ের প্রধান রীতি বা সুন্নত মনে করা হয়, তবে তা বিদআত হবে।
আমাদের করণীয় কী?
বিদায়বেলায় আমরা ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলতে পারি। সালাম দেওয়ার পর কল্যাণের দোয়া হিসেবে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলতে পারি। সালামকে এড়িয়ে কেবল আল্লাহ হাফেজ বলার অভ্যাস পরিহার করা উচিত।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক