দম আদায়ের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন কিতাব, যেমন—ফাতহুল কাদির, রদ্দুল মুহতার ও আল বাহরুর রায়েকের আলোকে দমের সঠিক বিধান নিচে আলোচনা করা হলো।
১. দম আদায়ের সময় ও স্থান
হজের ভুলের জন্য ওয়াজিব হওয়া দম আদায়ের ক্ষেত্রে সময় ও স্থানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে:
- সময়: দমের কোরবানি ঈদুল আজহার তিন দিনসহ বছরের যেকোনো সময় আদায় করা যায়। এটি সাধারণ কোরবানির মতো কেবল নির্দিষ্ট তিন দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
- স্থান: দমের পশু অবশ্যই হারাম শরিফের সীমানার (চৌহদ্দিতে) মধ্যে জবাই করতে হবে। হারামের সীমানার বাইরে অন্য কোথাও জবাই করলে দম আদায় হবে না।
২. দমের গোশত ও সরঞ্জামের বিধান
দমের পশুর কোনো অংশই দাতার জন্য রাখা বৈধ নয়:
- গোশত বণ্টন: জবাই করার পর পশুর সম্পূর্ণ গোশত মিসকিনদের মধ্যে সদকা করে দিতে হবে।
- আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম: পশুর রশি, লাগাম বা অন্য কোনো সরঞ্জাম থাকলে সেগুলোও মিসকিনদের দান করে দিতে হবে।
৩. দমের গোশত কারা খেতে পারবে না?
দমের পশুর গোশত ভক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া নিয়ম রয়েছে:
- দমদাতা নিজে: হজের ভুলত্রুটির কারণে যে দম ওয়াজিব হয়, সেই পশুর গোশত দমদাতা নিজে বা তার পরিবারের কেউ ভক্ষণ করতে পারবে না।
- ধনী ব্যক্তি: কোনো সচ্ছল বা ধনী ব্যক্তি দমের গোশত খেতে পারবে না।
- প্রাপ্য: এই গোশত কেবল অভাবী ও গরিব-মিসকিনদের হক। তাদের মধ্যেই এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বণ্টন করা ওয়াজিব।
সূত্র: ফাতহুল কাদির ৩/১৬১-১৬২, রদ্দুল মুহতার ২/৬১৬ এবং আল বাহরুর রায়েক ৩/৭৮