মানবসভ্যতার ইতিহাসে ইসলাম একমাত্র ধর্ম, যা জ্ঞান অর্জনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করে তাকে অন্যান্য সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন মূলত জ্ঞানের মাধ্যমেই। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই জ্ঞান চর্চাকে ইমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসলামের প্রচার শুরু হয়েছিল জ্ঞানের বার্তার মাধ্যমে। হেরা গুহায় জিবরাইল (আ.) যখন প্রথম ওহি নিয়ে এলেন, তখন প্রথম শব্দটিই ছিল ইকরা অর্থাৎ পড়ো। ‘পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আলাক: ১)
আল্লাহ তাআলা চাইলে নামাজ বা রোজার নির্দেশ দিয়ে ইসলাম শুরু করতে পারতেন, কিন্তু তিনি পড়ার নির্দেশ দিয়ে স্পষ্ট করেছেন, সঠিক জ্ঞান ছাড়া প্রকৃত ইবাদত বা জীবন পরিচালনা সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন স্থানে জ্ঞানী ও অজ্ঞদের মধ্যকার পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন।’ (সুরা মুজাদালা: ১১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) জ্ঞানার্জনকে প্রতিটি মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)। তিনি আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।’ (সহিহ্ মুসলিম)।
ইসলাম শুধু ধর্মীয় জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পবিত্র কোরআনের প্রায় ৭৫টি আয়াতে সরাসরি আকল বা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসলামে জ্ঞান চর্চার মূল লক্ষ্য হলো, সত্যকে জানা এবং স্রষ্টাকে চেনা। জ্ঞান কেবল জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি এবং সমাজ সংস্কারের হাতিয়ার।
জ্ঞান হচ্ছে মুমিনের হারানো সম্পদ। ইসলামে জ্ঞানহীন ইবাদতের চেয়ে জ্ঞানসহ সামান্য আমলকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বিশুদ্ধ জ্ঞান চর্চার কোনো বিকল্প নেই।
লেখক: শিক্ষক ও গবেষক