দৈহিক পবিত্রতার অন্যতম মাধ্যম অজু। ইসলামের প্রধান ইবাদত নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য এটিকে শর্ত হিসেবে ধরা করা হয়। দিনে অন্তত পাঁচবার অজু করতে হয় একজন মুসলিমকে। যাঁরা অজুকে গুরুত্ব দেন, নিয়মিত অজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করেন, তাঁদের জন্য রয়েছে দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে মুক্তির প্রতিশ্রুতি। পবিত্রতা ছাড়াও অজুর রয়েছে অনন্য চার উপকারিতা—
নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন কাজ সম্পর্কে বলব না, যা করলে আল্লাহ তাঁর বান্দার পাপগুলো দূর করে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন?’ লোকেরা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, অবশ্যই আপনি বলুন।’ তিনি বললেন, ‘অসুবিধা ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণরূপে অজু করা, মসজিদে আসার জন্য বেশি পদচারণ করা এবং এক নামাজের পর আরেক নামাজের জন্য প্রতীক্ষা করা; আর এ কাজগুলো হলো সীমান্ত প্রহরা স্বরূপ। (সহিহ্ মুসলিম: ৪৭৫)। আমরা প্রতিনিয়ত যে অসংখ্য ছোট ছোট গুনাহ করি, অজু সেগুলোকে দূর করে আমাদের পবিত্র করে তোলে।
মানুষের অন্যতম ক্ষতিকর আবেগ রাগ নিয়ন্ত্রণে অজু একটি কার্যকর উপায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাগ করা শয়তানের কাজ, আর শয়তান সৃষ্টি করা হয়েছে আগুন থেকে। আগুন নেভানো হয় পানি দিয়ে। সুতরাং তোমাদের কেউ রাগ করলে, সে যেন অজু করে নেয়।’ (মুসনাদে আহমদ: ২৯)
হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদংশে তিনটি গিঁট দেয়। প্রতি গিঁটে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাক। এরপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঁট খুলে যায়, অজু করলে আর একটি গিঁট খুলে যায়, এরপর নামাজ আদায় করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয়, উৎফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে ওঠে কলুষ কালিমা ও আলস্য সহকারে।’ (সহিহ্ বুখারি: ১১৪২)