হোম > ইসলাম

ফিতরা কাদের ওপর ওয়াজিব, আদায় করতে হয় কীভাবে

ইসলাম ডেস্ক 

ফিতরা কাদের ওপর ওয়াজিব? ফিতরা আদায়ের সঠিক বিধান জানতে চাই।

রিয়াজুল হাসান, টাঙ্গাইল

সদকাতুল ফিতর শব্দের অর্থ হলো ঈদুল ফিতরের সদকা বা দান। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা করে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এটি আদায় করা হয় বলে একে ‘সদকাতুল ফিতর’ বা ‘জাকাতুল ফিতর’ বলা হয়। সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘ফিতরা’ নামেই বেশি পরিচিত।

ফিতরা আদায়ের বিধান

সদকাতুল ফিতর আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ (সা.) ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সকল মুসলমানের জন্য তা আবশ্যক করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বাধীন-দাস, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সকল মুসলমানের ওপর এক সা (৩ কেজি ২৭০ গ্রাম প্রায়) খেজুর বা যব ফিতরা হিসেবে ফরজ করেছেন এবং তা ঈদের নামাজে যাওয়ার আগেই আদায় করার আদেশ দিয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি: ১৫০৩)

ফিতরা কেন দিতে হয়?

ইসলামি শরিয়তে ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার পেছনে বেশ কিছু মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে:

» রোজার ত্রুটিবিচ্যুতি মোচন: রোজা অবস্থায় অবচেতন মনে যেসব অনর্থক ও অশালীন কথা বা কাজ হয়ে যায়, ফিতরা তার কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করে।

» দরিদ্রদের মুখে হাসি ফোটানো: ঈদের খুশিতে যেন সমাজের দরিদ্র ও অভাবী মানুষেরা অন্যের কাছে হাত না পেতে অন্তত একবেলা ভালো খাবারের আয়োজন করতে পারে, তা নিশ্চিত করা।

» সহমর্মিতার চর্চা: ধনী-দরিদ্রের মাঝে উদারতা ও ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন তৈরি করা।

» কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: আল্লাহ তাআলা যে সুস্থভাবে রোজা ও তারাবি শেষ করার তৌফিক দিয়েছেন, তার শুকরিয়া আদায় করা।

কার ওপর ফিতরা ওয়াজিব?

ফিতরার নিসাব জাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ। অর্থাৎ, কারও কাছে যদি ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা তার সমমূল্যের সম্পদ বিদ্যমান থাকে, তবে তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব।

জাকাতের মতো এখানে সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। আর পরিবারের প্রধান নিজের পক্ষ থেকে এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল বা অধীনদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করবেন। (ফাতহুল কাদির)

ফিতরার উপকরণ ও পরিমাণ

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে প্রধানত চারটি পণ্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা হতো: খেজুর, কিশমিশ, যব ও পনির। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘আমরা এক সা পরিমাণ খাদ্য...অথবা এক সা যব...অথবা এক সা খেজুর...অথবা এক সা পনির বা কিশমিশ দিয়ে ফিতরা আদায় করতাম।’ (সহিহ বুখারি: ১৫০৬)

মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায়ের বিধান

বর্তমানে ওই খাদ্যবস্তুগুলোর বাজারমূল্য হিসাব করে নগদ টাকা দিয়েও ফিতরা আদায় করা যায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণা অনুযায়ী, এ বছর জনপ্রতি ফিতরার সর্বনিম্ন পরিমাণ ১১০ টাকা (গমের হিসাবে) এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা (পনিরের হিসাবে) নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামর্থ্যবানদের উচিত শুধু সর্বনিম্ন পরিমাণ (১১০ টাকা) না দিয়ে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী উন্নত মানের খাদ্যদ্রব্যের মূল্য (যেমন: খেজুর বা পনিরের হিসাব) ধরে ফিতরা দেওয়া। কারণ সদকার মূল লক্ষ্যই হলো গরিবের প্রয়োজন পূরণ ও সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করা।

ফিতরা আদায়ের সঠিক সময়

ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার আগেই ফিতরা আদায় করা সবচেয়ে উত্তম। রমজান মাস চলাকালীন যেকোনো সময় ফিতরা আদায় করা জায়েজ। তবে ঈদের নামাজের পর পর্যন্ত দেরি করা ঠিক নয়। কারণ হাদিসে এসেছে, নামাজের পর আদায় করলে তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হয়, ফিতরার পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায় না।

উত্তর দিয়েছেন

মুফতি শাব্বির আহমদ

ইসলামবিষয়ক গবেষক

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩১ মে ২০২৬

কোরবানির মাধ্যমে মুমিন যে ৫টি শিক্ষা পায়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩০ মে ২০২৬

জুমার নামাজ কত রাকাত, পড়তে হয় কীভাবে

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৯ মে ২০২৬

কোরবানি দিতে না পারলে কী করবেন

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৮ মে ২০২৬

ঈদুল আজহার নামাজের নিয়ত ও নিয়ম

কোরবানির মাংস বণ্টনের সঠিক নিয়ম কী

কোরবানির পশু জবাইয়ের দোয়া ও সঠিক নিয়ম