হোম > ইসলাম

বিপদ ও কঠিন সমস্যা থেকে মুক্তির দোয়া

ইসলাম ডেস্ক 

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনে বিপদ-আপদ বা কঠিন সময় আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে হতাশ হওয়া সাজে না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এমন কিছু দোয়া ও আমল রয়েছে, যা নিয়মিত পাঠ করলে মহান আল্লাহ সব বিপদ ও মুসিবত থেকে রক্ষা করেন। নিচে বিপদ থেকে মুক্তির কার্যকর ও পরীক্ষিত দোয়াগুলো অর্থসহ তুলে ধরা হলো।

১. ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম, বিরাহমাতিকা আসতাগিছ

আনাস (রা.) বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর কোনো কাজ কঠিন হয়ে দেখা দিত, তখন তিনি এই দোয়া পড়তেন—

يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ

বাংলা উচ্চারণ: ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম, বিরাহমাতিকা আসতাগিছ।

অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে বিশ্ব চরাচরের ধারক, আমি তোমার রহমতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (জামে তিরমিজি: ২৪৫৪)

২. দোয়ায়ে ইউনুস

মাছের পেটে থাকা অবস্থায় হজরত ইউনুস (আ.) এই দোয়া পড়ে মুক্তি পেয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যদি কোনো মুসলিম বিপদে পড়ে এ দোয়া পাঠ করে, তবে আল্লাহ তা কবুল করবেন। (জামে তিরমিজি: ২২৯২)। দোয়া ইউনুস হলো—

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

বাংলা উচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্জালিমিন।

অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তুমি মহাপবিত্র। নিশ্চয়ই আমি সীমা লঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। (সুরা আম্বিয়া: ৮৭)

৩. বিপদ ও দুর্ভাগ্যের গ্রাস থেকে রক্ষার দোয়া

সহিহ্ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠিন বিপদ ও দুর্ভাগ্যের গ্রাস থেকে বাঁচতে এই দোয়া পাঠ করতেন—

اللهمَّ إنِّي أعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ، وَدَرَكِ الشَّقَاءِ، وَسُوءِ الْقَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালায়ি ওয়া দারাকিশ শিকায়ি ওয়া সুয়িল কাদায়ি ওয়া শামাতাতিল আদায়ি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি—বিপদ-আপদের দুর্বিষহ অসুবিধা থেকে, দুর্ভাগ্যের করাল গ্রাস থেকে, ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত থেকে এবং শত্রুর আনন্দ থেকে।

৪. কঠিন সমস্যা থেকে সুরক্ষার দোয়া

কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নবীজি (সা.) নিচের দোয়াটির মাধ্যমে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন:

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

বাংলা উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাজাবিহি ওয়া ইকাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাজাতিশ শায়াতিনি ওয়া আঁই ইয়াহদুরুনি।

অর্থ: আমি আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ ও আজাব থেকে, তাঁর বান্দার শত্রুতা থেকে এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে সুরক্ষার জন্য আশ্রয় চাইছি, যেন তারা আমার কাছে আসতে না পারে। (সুনানে আবু দাউদ)

৫. বালা-মুসিবত থেকে মুক্তির দোয়া

বালা-মুসিবত থেকে মুক্ত থাকতে রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় এই ছোট দোয়া পড়ার তাগিদ দিয়েছেন:

يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، أَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِي إِلَىٰ نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ

বাংলা উচ্চারণ: ইয়া হাইয়ু, ইয়া কাইয়ুম, বিরাহমাতিকা আসতাগিছ। আসলিহ লি সানি কুল্লুহু ওয়া লা তাকিলনি ইলা নাফসি তারফাতা আইন।

অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সৃষ্টিকুলের নিয়ন্ত্রক, আপনার রহমতের দোহাই দিয়ে আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আপনি আমার সব বিষয় শুদ্ধ করে দিন, এক মুহূর্তের জন্যও আপনি আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দিয়েন না।

অন্যকে বিপদগ্রস্ত দেখলে পড়ার দোয়া

হজরত ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ বিপদগ্রস্ত লোক দেখলে এই দোয়া পড়লে ওই বিপদ থেকে সে নিরাপদ থাকবে:

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلَاكَ بِهِ، وَفَضَّلَنِي عَلَىٰ كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلًا

বাংলা উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আফানি মিম্মাবতালাকা বিহি, ওয়া ফাদ্দালানি আলা কাছিরিম মিম্মান খালাকা তাফদিলা।

অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে সেই বিপদ থেকে নিরাপদ রেখেছেন, যেটা দ্বারা তিনি তোমাকে পরীক্ষা করেছেন, এবং আমাকে তাঁর সৃষ্ট অনেকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। (জামে তিরমিজি)।

মুমিন জীবনের প্রতিটি পদে আল্লাহর মুখাপেক্ষী। বিপদাপদ থেকে বাঁচতে হাদিসে বর্ণিত এই আমলগুলো বিশ্বাসের সঙ্গে করা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সব বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা করুন এবং তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত রাখুন।

আরও পড়ুন-

মুসিবতে মুক্তির চার পরীক্ষিত দোয়া

হঠাৎ মৃত্যু থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়তেন নবীজি

দুশ্চিন্তা, হতাশা দূর হবে হাদিসে বর্ণিত এই চার দোয়ায়

রমজান মহাপ্রাপ্তির মনোহর আয়োজন

মক্কার নীরব রাতে এক অলৌকিক জন্ম

মাতৃভাষার প্রতি নবী (সা.)-এর ভালোবাসা ও আমাদের করণীয়

কায়রোর অলিগলিতে রমজান বরণের আয়োজন

ফরজ গোসল না করে কি সেহরি খাওয়া যাবে?

তারাবি নামাজের নিয়ম ও ফজিলত

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.): উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাবেয়া বসরি: আল্লাহর প্রেমে আত্মনিবেদিত আধ্যাত্মিক নক্ষত্র

যেমন ছিল নবীজি (সা.)-এর সেহরি ও ইফতার