রমজান মাসের শেষ দশ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাকে বলা হয় ‘নাজাতের দশক’। এই সময়ে মহান আল্লাহ তাঁর অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।
এই দশকের প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতের জন্য স্বর্ণালি সুযোগ, বিশেষ করে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত ‘লাইলাতুল কদর’ এই সময়েই নিহিত।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর: ৩)। এই মহিমান্বিত রাত পাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১,২৩, ২৫,২৭ ও ২৯ তম রাতে) বেশি বেশি ইবাদত করা।
রাসুল (সা.) এই রাতের জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। দোয়াটি হলো, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে পছন্দ করেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।’ (জামে তিরমিজি)
শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইতিকাফ। দুনিয়াবি কোলাহল ছেড়ে আল্লাহর ঘরে (মসজিদে) অবস্থান করা আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরির এক অনন্য সুযোগ। যারা পূর্ণ ১০ দিন ইতিকাফ করতে পারেন না, তারা সুযোগমতো নফল ইতিকাফও করতে পারেন।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘রমজান মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)। যেহেতু শেষ দশকেই কোরআন নাজিল হয়েছিল, তাই এই সময়ে বেশি বেশি তিলাওয়াত, অর্থ ও তাফসির বোঝা মুমিনের বিশেষ কর্তব্য।
নাজাতের এই সময়ে নিচের আমলগুলো বেশি বেশি করা উচিত:
রমজানের শেষ দশ দিন হলো হারানো সুযোগ ফিরে পাওয়ার সময়। সঠিকভাবে এই সময়কে কাজে লাগাতে পারলে বান্দার জীবন হতে পারে পরিশুদ্ধ ও সফল।
লেখক: কলাম লেখক ও গবেষক