হোম > ইসলাম

মানুষের নামে কোরবানির পশুর নাম রাখা যাবে কি

ইসলাম ডেস্ক 

নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এখন অনেকেই দেখতে আসছেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে। ছবি: আজকের পত্রিকা

কোরবানি মহান আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন বা ‘শিআরুল্লাহ’। এই ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও তাকওয়া। পশুর বিশেষ নামকরণের একটি বিষয় আমাদের সমাজে লক্ষ করা যায়। এ নিয়ে ইসলামি শরিয়তে যেমন অনুমোদন রয়েছে, তেমনি আছে কিছু সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ।

পশুর নাম রাখা কি জায়েজ

শরিয়ত অনুযায়ী পশুপাখির সুন্দর ও মার্জিত নাম রাখা সম্পূর্ণ বৈধ। স্বয়ং বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম তাঁদের পোষা প্রাণীদের নাম রাখতেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উটের নাম ছিল ‘আজবা’ ও ‘কাসওয়া’। তাঁর ঘোড়ার নাম ছিল ‘সাকব’ এবং খচ্চরের নাম ছিল ‘দুলদুল’।

সুতরাং, আদর করে কোরবানির পশুর একটি সুন্দর নাম রাখা ইসলামি সংস্কৃতিরই অংশ।

মানুষের নামে পশুর নাম রাখার বিধান

পশুর নাম রাখা বৈধ হলেও মানুষের নামে বা মানুষের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ নামে পশুর নামকরণ করা জায়েজ নয়। এর প্রধান দুটি কারণ হলো:

  • ১. মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা: আল্লাহ তাআলা মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—‘নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি।’ (সুরা ইসরা: ৭০)। কোনো পশুকে মানুষের নামে ডাকার অর্থ হলো পরোক্ষভাবে মানুষের নাম ও মর্যাদাকে অপমান করা।
  • ২. বিদ্রূপ ও তাচ্ছিল্য করা: অনেক সময় ঘৃণা বা বিদ্রূপ করার উদ্দেশ্যে শত্রু দেশের নেতা বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে কোরবানির পশুর নাম রাখা হয়। ইসলামে কাউকে মন্দ উপাধিতে ডাকা বা বিদ্রূপ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সুরা হুজুরাতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না।’ (সুরা হুজুরাত: ১১)।

বিদ্বেষ বা বিদ্রূপের উদ্দেশ্যে নামকরণ

আজকাল হাটে পশুর নাম ‘ট্রাম্প’, ‘মোদি’ বা ‘নেতানিয়াহু’ রাখা হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ মনে হলেও ইসলামি স্কলারদের মতে এটি ইবাদতের গাম্ভীর্য নষ্ট করে। কোরবানি একটি পবিত্র সফর, সেখানে রাজনৈতিক ঘৃণা বা বিদ্রূপের মিশ্রণ ইবাদতের ‘ইখলাস’ বা একনিষ্ঠতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি ইবাদতকে একধরনের তামাশার বস্তুতে পরিণত করার শামিল, যা কবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

পশুর নাম নির্বাচনে মুমিনের করণীয়

পশুপাখির নামকরণ নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদদের পরামর্শ হলো:

  1. সুন্দর নাম নির্বাচন: পশুর নাম যদি রাখতেই হয়, তবে তা সুন্দর ও অর্থবোধক হওয়া বাঞ্ছনীয়।
  2. মানুষের সম্মান রক্ষা: এমন কোনো নাম রাখা যাবে না, যা মানুষের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করে।
  3. আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি সম্মান: কোরবানি আল্লাহর নিদর্শন। পশুর নাম নিয়ে হাস্যরস বা সস্তা প্রচারের চেষ্টা আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের নামান্তর।

কোরবানির মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। পশুর নাম কী রাখা হলো বা সেটি কতটা ভাইরাল হলো, তাতে আল্লাহর কাছে কোনো গুরুত্ব নেই। আল্লাহর কাছে পৌঁছায় কেবল বান্দার ‘তাকওয়া’। তাই সস্তা জনপ্রিয়তা বা রাজনৈতিক বিদ্রূপের ঊর্ধ্বে থেকে পবিত্র এই ইবাদতকে সব ধরনের কুরুচিপূর্ণ সংস্কৃতি থেকে মুক্ত রাখা প্রতিটি মুমিনের ইমানি দায়িত্ব।

ধর্ষণ প্রতিরোধে ইসলামের নির্দেশনা ও ধর্ষকের শাস্তি

প্রবাসে থেকে দেশে কোরবানি দেওয়ার আগে যা জানা জরুরি

কোরবানির পশু ওজনে মেপে কেনার কী বিধান

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২০ মে ২০২৬

যে ৬ কারণে কোরবানি কবুল হয় না

রাগ নিয়ন্ত্রণে রাসুল (সা.)-এর ৪ পরামর্শ

ভাগে কোরবানি দেওয়ার আগে যা জানা জরুরি

কোন পশুর বয়স কত হলে কোরবানি করা যাবে

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৯ মে ২০২৬

ঈদুল আজহার নতুন চাঁদ দেখে যে দোয়া পড়বেন