পবিত্র রমজান মাস মুমিনের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল। এই মাসে প্রতিটি আমলের প্রতিদান আল্লাহ তাআলা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। রোজা পালনকালে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু শারীরিক বিষয় নিয়ে আমরা সংশয়ে ভুগি। এর মধ্যে অন্যতম হলো—রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হওয়া। অনেকে মনে করেন দিনের বেলা স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভেঙে যায়, আবার কেউ কেউ একে রোজা ভাঙার কারণ মনে করে ইফতারের আগেই পানাহার শুরু করেন। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এই মাসআলাটি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
স্বপ্নদোষ হলে কি রোজা ভেঙে যায়?
ইসলামি আইন ও ফিকহ শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ হলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। এর কারণ হলো, স্বপ্নদোষ মানুষের ইচ্ছাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এটি একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে কোনো কাজা বা কাফফারা আদায় করতে হবে না।
হাদিস শরিফে এসেছে, আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি জিনিস রোজা ভঙ্গের কারণ নয়—বমি, শিঙা লাগানো ও স্বপ্নদোষ।’ (সুনানে বায়হাকি, শুআবুল ইমান)
স্বপ্নদোষের এই বিধান পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। নারীদের স্বপ্নদোষ হলেও রোজা ভাঙবে না।
স্বপ্নদোষ হওয়ার পর করণীয়
যদি রোজা রাখা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হয়, তবে রোজা ভেঙে গেছে ভেবে পানাহার করা যাবে না। বরং পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাকি সময় রোজা পূর্ণ করতে হবে। স্বপ্নদোষ হওয়ার পর দ্রুত ফরজ গোসল করে নেওয়া জরুরি, যাতে নামাজের সময় পার না হয়।
ফরজ গোসল করার সময় কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যেন গলার ভেতরে পানি চলে না যায়।
রোজা ভঙ্গের মূল কারণসমূহ
মনে রাখতে হবে, রোজা মূলত তিনটি মৌলিক কারণে ভেঙে যায়: ১. ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু খাওয়া। ২. ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু পান করা। ৩. ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করা। আর স্বপ্নদোষ যেহেতু অনিচ্ছাকৃত, তাই এটি এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।