হোম > ইসলাম

নবীজির দোয়ায় সামান্য খাদ্যে অফুরন্ত বরকত

কাউসার লাবীব

নবী মুহাম্মদ (সা.)। ছবি: সংগৃহীত

খন্দকের ময়দানে তখন চলছে এক মহাকাব্যিক ব্যাকরণ। মুসলমানেরা দিনরাত পরিখা খনন করছেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) তাঁর কোদাল নিয়ে গভীর পরিখা খুঁড়ছেন। কিন্তু আজ তাঁর মনটা ভারী। কারণ তিনি দেখলেন, প্রিয় নবীজি (সা.) ক্ষুধার্ত অবস্থায় পেটে পাথর বেঁধে কাজ করছেন। জাবির (রা.)-এর হৃদয় কেঁপে উঠলো। এই কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারলেন না।

নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়ে তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দারুণ ক্ষুধার্ত দেখলাম। আমাদের ঘরে কি কিছু আছে?’

তাঁর স্ত্রী একটি চামড়ার পাত্র থেকে এক সা পরিমাণ যব বের করে দিলেন। ঘরে একটি ছোট বকরির বাচ্চাও ছিল। জাবির দ্রুত বকরিটি জবাই করলেন, আর তাঁর স্ত্রী যব পিষে আটা বানালেন। জাবিরের স্ত্রী তাকে বললেন, ‘খাবার তো অনেক কম, এতে রাসুল (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের সামনে আমাদের লজ্জিত করবেন না।’

জাবিরের হৃদয়ে তখন দ্বিধা। একদিকে নবীজির প্রতি ভালোবাসা, আরেকদিকে লজ্জিত হওয়ার ভয়। তবুও তিনি খাবার নিয়ে নবীজি (সা.)-এর কাছে গেলেন। চুপি চুপি বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ, আমাদের ঘরে এক সা যব ও একটি বকরির বাচ্চা আছে। আপনি কয়েকজনকে নিয়ে আসুন।’

নবীজি (সা.) জাবিরের কথা শুনে মৃদু হাসলেন। এরপর তিনি উচ্চ স্বরে ঘোষণা করলেন, ‘হে পরিখা খননকারীরা, জাবির তোমাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছে। এসো, তোমরা সবাই এসো।’

এ কথা শুনে জাবির (রা.) হতবাক হয়ে গেলেন। প্রায় এক হাজার ক্ষুধার্ত সাহাবি একসঙ্গে তাঁর বাড়ির দিকে আসতে লাগলেন। তাঁর স্ত্রী তো ভয়ে অস্থির। জাবির (রা.) স্ত্রীকে বললেন, ‘আমি যা শুনেছিলাম, তাই করেছি।’

নবীজি (সা.) জাবিরের বাড়িতে এসে বললেন, ‘আমি আসার আগে রুটি তৈরি করবে না এবং ডেকচি নামাবে না।’ এরপর তিনি আটার খামিরে নিজের মুখের লালা মিশিয়ে দিলেন এবং তাতে বরকতের জন্য দোয়া করলেন। ডেকচির কাছে গিয়ে তিনি একই কাজ করলেন। তারপর তিনি রুটি প্রস্তুতকারিণীকে ডেকে বললেন, ‘তুমি রুটি বানাও আর আমি এখান থেকে খাবার পরিবেশন করি।’

উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে দেখল, এক হাজার সাহাবি পেট ভরে খাবার খেলেন, কিন্তু খাবার শেষ হলো না।

জাবির (রা.) আল্লাহর কসম করে বলেন, ‘সবাই খেয়ে চলে যাওয়ার পরেও আমাদের ডেকচি টগবগ করে ফুটছিল এবং আটার খামির থেকে তখনো রুটি তৈরি হচ্ছিল।’

সেই দিন জাবির (রা.) এবং তাঁর স্ত্রী আল্লাহর কুদরত দেখলেন। তাঁরা বুঝতে পারলেন, নবীজির দোয়ায় সামান্য খাবারেও অফুরন্ত বরকত আসে। অভাবের সেই দিনে সামান্য খাবার দিয়ে তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: সহিহ্ বুখারি: ৪১০২

অজুর গুরুত্বপূর্ণ ৪ ফজিলত

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১০ জুন ২০২৬

শত্রুর ক্ষতি থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়বেন

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৯ জুন ২০২৬

মেজবানের জন্য যে দোয়া করতেন রাসুল (সা.)

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৮ জুন ২০২৬

ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে যে দোয়া পড়বেন

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৭ জুন ২০২৬

জান্নাত লাভের সহজ ২ দোয়া

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৬ জুন ২০২৬