মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করতে এবং মহান আল্লাহর পরিচয় পৌঁছে দিতে যুগে যুগে দুনিয়ায় এসেছেন নবী ও রাসুলগণ। পরিভাষায়, যাঁদের কাছে নতুন কিতাব ও শরিয়ত এসেছে, তাঁরা ‘রাসুল’ এবং পূর্ববর্তী রাসুলের শরিয়ত অনুসরণকারীগণ নবী।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার (মতান্তরে ২ লাখ ২৪ হাজার) নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন, যার মধ্যে রাসুল ছিলেন ৩১৫ জন।
তবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সব নবী-রাসুলের নাম উল্লেখ করেননি। মুসলিম হিসেবে আমাদের জন্য কোরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবী ও রাসুলের নাম এবং তাঁদের জীবন সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ আমরা কোরআনে বর্ণিত এই ২৫ জন নবীর তালিকা ও তাঁদের সম্পর্কে কিছু দুর্লভ তথ্য জানব।
কোরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর তালিকা ও সংক্ষিপ্ত পরিচয়
- ১. হজরত আদম (আ.): প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী। ৯টি সুরার ২৫ জায়গায় তাঁর নাম এসেছে।
- ২. হজরত ইদরিস (আ.): প্রথম কলম দিয়ে লেখা এবং কাপড় সেলাই করার প্রচলন করেন তিনি।
- ৩. হজরত নুহ (আ.): ২৮টি সুরায় ৪৩ বার তাঁর নাম এসেছে। তিনি সাড়ে ৯০০ বছর দাওয়াতি কাজ করেছেন।
- ৪. হজরত হুদ (আ.): তাঁকে আদ জাতির নিকট পাঠানো হয়েছিল।
- ৫. হজরত সালিহ (আ.): তাঁকে ছামুদ জাতির নিকট পাঠানো হয়। তাঁর মুজিজা ছিল একটি উটনী।
- ৬. হজরত ইবরাহিম (আ.): তাঁকে আবুল আম্বিয়া বা নবীদের পিতা বলা হয়। কোরআনে তাঁর নাম ৬৯ বার এসেছে।
- ৭. হজরত লুত (আ.): সমকামিতার মতো জঘন্য পাপে লিপ্ত জাতির কাছে তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন।
- ৮. হজরত ইসমাইল (আ.): পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে তিনি কাবাঘর নির্মাণ করেন।
- ৯. হজরত ইসহাক (আ.): তিনি ইসমাইল (আ.)-এর ভাই ছিলেন।
- ১০. হজরত ইয়াকুব (আ.): তাঁর আরেক নাম ইসরাইল। তাঁর নামেই বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ের নামকরণ করা হয়েছে।
- ১১. হজরত ইউসুফ (আ.): তাঁর ঘটনা নিয়ে কোরআনে ইউসুফ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা নাজিল হয়েছে।
- ১২. হজরত শুয়াইব (আ.): তাঁর জাতি মাপে কম দেওয়ার অপরাধে আজাবপ্রাপ্ত হয়েছিল।
- ১৩. হজরত আইয়ুব (আ.): চরম ধৈর্যের দৃষ্টান্ত তিনি। আল্লাহ তাঁকে কঠিন অসুখ দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন।
- ১৪. হজরত জুল কিফল (আ.): কোরআনের দুটি সুরায় তাঁর নাম আলোচিত হয়েছে।
- ১৫. হজরত মুসা (আ.): কোরআনে সবচেয়ে বেশিবার (১৩৬ বার) তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে আসমানি কিতাব তাওরাত দেওয়া হয়েছিল।
- ১৬. হজরত হারুন (আ.): তিনি মুসা (আ.)-এর ভাই এবং একজন অত্যন্ত সুবক্তা ছিলেন।
- ১৭. হজরত দাউদ (আ.): তাঁকে আসমানি কিতাব জাবুর দেওয়া হয়েছিল।
- ১৮. হজরত সুলাইমান (আ.): তিনি সমগ্র পৃথিবীর বাদশাহ ছিলেন এবং পশুপাখির ভাষা বুঝতেন।
- ১৯. হজরত ইলিয়াস (আ.): কোরআনের দুটি সুরায় তাঁর নাম এসেছে।
- ২০. হজরত আল-ইয়াসা (আ.): কোরআনের দুটি সুরায় তাঁর আলোচনা রয়েছে।
- ২১. হজরত ইউনুস (আ.): আল্লাহর এই নবীকে সমুদ্রের মাছ গিলে ফেলেছিল এবং পরে তিনি মুক্তি পান।
- ২২. হজরত জাকারিয়া (আ.): তিনি পেশায় একজন কাঠুরে ছিলেন এবং ইয়াহ্ইয়া (আ.)-এর পিতা ছিলেন।
- ২৩. হজরত ইয়াহ্ইয়া (আ.): আল্লাহ তাঁকে শৈশবেই প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলেন।
- ২৪. হজরত ইসা (আ.): তিনি বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ের সর্বশেষ নবী এবং তাঁর আরেক নাম মাসিহ। তাঁকে আসমানি কিতাব ইঞ্জিল দেওয়া হয়েছিল।
- ২৫. হজরত মুহাম্মদ (সা.): সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। কোরআনে সরাসরি চারবার তাঁর নাম এসেছে। তাঁকে আসমানি কিতাব মহাগ্রন্থ আল-কোরআন দেওয়া হয়েছিল।
বিশেষ কিছু তথ্য
সর্বাধিক আলোচিত নবী: হজরত মুসা (আ.)-এর কথা কোরআনে সবচেয়ে বেশি (১৩৬ বার) বলা হয়েছে।
পিতা-পুত্রের সিলসিলা: হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর পুত্র ইসমাইল ও ইসহাক, নাতি ইয়াকুব এবং প্রপৌত্র ইউসুফ—সবাই নবী ছিলেন।
সুরার নামকরণ: কোরআনে ছয়জন নবীর নামে সুরার নামকরণ করা হয়েছে (ইউনুস, হুদ, ইউসুফ, ইবরাহিম, নুহ ও মুহাম্মদ)।