আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিচ্ছে এক বরকতময় মাস—যাতে নাজিল হয়েছে মানবতার শ্রেষ্ঠ গাইড আল-কোরআন। এই মাসেরই এক নিভৃত কোণে লুকিয়ে আছে এমন এক রজনী, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা এই রজনীর গুরুত্ব বোঝাতে বলেন, ‘এ রাতেই প্রতিটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়।’ (সুরা দুখান: ৪)
পবিত্র রমজানের শেষ দশকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইবাদতের চিত্র ছিল অনন্য। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রমজানের শেষ দশকে নবীজি (সা.) ইবাদতে আরও বেশি মনোযোগী হতেন, পুরো রাত জেগে থাকতেন এবং নিজের পরিবারকেও জাগাতেন।’ (সহিহ্ বুখারি: ২০২৪, সহিহ্ মুসলিম: ১১৭৪)
তিনি শেষ দশ দিনে ইতিকাফ করতেন এবং নির্দেশ দিতেন—‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদরকে অনুসন্ধান করো।’ (সহিহ্ বুখারি: ২০২০, সহিহ্ মুসলিম: ১১৭১)
বিখ্যাত মনীষী ইমাম গাজালি (রহ.) বলেছেন—‘রমজানে একজন মুসলমানের উচিত নিজের নফস বা আত্মাকে বিশুদ্ধ করা, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে সুদৃঢ় করা এবং কোনোভাবেই অহেতুক কাজে সময় নষ্ট না করা।’ (ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন: ১ / ২৪৫)
আয়েশা (রা.) একবার নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি যদি জানতে পারি যে আজ লাইলাতুল কদর, তবে আমি কী দোয়া করব?’ নবীজি (সা.) তাকে এই ছোট অথচ শক্তিশালী দোয়াটি শিখিয়ে দিলেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।’ (অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।) (জামে তিরমিজি: ৩৫১৩, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৫০)
একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো অলসতা ঝেড়ে ফেলে এই রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদরের সন্ধানে মগ্ন থাকা। গুনাহ মোচনের এই অবারিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য। দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত সফলতা এই পবিত্র রজনীর সঠিক ব্যবহারের মধ্যেই নিহিত।
লেখক: শিক্ষার্থী, দারুল উলূম মাদানীনগর, ঢাকা